শনিবার,  ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ১০:৩১

আ.লীগ প্রচারে এগিয়ে, বিএনপি ব্যস্ত ফটোসেশনে

মার্চ ১৭, ২০১৮ , ২৩:৩৮

স্টাফ রিপোর্টার
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসীল ঘোষনা না হলেও সে নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মধ্যে মনোনয়নের লড়াই জমে উঠেছে। আর সেই মনোনয়নের লড়াই শরীয়তপুরেও পরিলক্ষিত হচ্ছে। ঢাকার অদূরে পদ্মা-মেঘনা নদী বেষ্টিত শরীয়তপুর সদর এবং জাজিরা উপজেলা নিয়ে গঠিত হয়েছে শরীয়তপুর-১ আসন। অনেক আগে থেকেই বেশ জোরে শোরে এ আসনে নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়েছে। আর এদিকে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা শুরু করতে গিয়ে শাসক দলের নেতাদের মধ্যে চলছে অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগ। শরীয়তপুর আওয়ামী অধ্যুষিত এলাকা হওয়া সত্ত্বেও উন্নয়নের তেমন কোন ছোঁয়া লাগেনি। জেলাটি রাজধানীর অতি নিকটে হলেও সে অনুযায়ী বিদ্যুতায়ন ও রাস্তাঘাটের দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন হয়নি। তবে পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হওয়ায় নতুন করে স্বপ্নে দেখতে শুরু করেছে শরীয়তপুরবাসী। আর সেই স্বপ্নকে কাজে লাগাচ্ছেন সরকার দলীয় সম্ভাব্য প্রার্খীরা। অনেকের ধারণা, পদ্মা সেতুটি হয়ে গেলে আর পেছন ফিরে তাকাতে হবে না। ঘুচে যাবে তাদের অবহেলিত থাকার বঞ্চনা।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছে। আর এদিকে আভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে বি.এন.পি আজ বহু দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। কিন্তু বি.এন.পি’র কোন দলকেই পরিপূর্ণ ভাবে মাঠে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে বিএনপি’র একটি অংশ ঢাকায় বসে দলীয় কর্মকান্ড চালাচ্ছে। আর অপর অংশটি ফটোসেশনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।
জেলার দুটি উপজেলায় ২টি পৌরসভা এবং ২৩টি ইউনিয়ন নিয়ে শরীয়তপুর-১ আসন গঠিত। এ আসনে বরাবরই আওয়ামীলীগ প্রার্থী বিজয়ী হয়ে আসছে। বিশেষ করে নব্বইয়ের পর এ আসনে অন্য কোনো দলের প্রার্থী নির্বাচিত হয়নি।
গত কয়েক বছর ধরে শরীয়তপুর সদর থেকে আওয়ামীলীগ কাউকে মনোনয়ন না দেয়ায় এ নিয়ে স্থানীয় নেতাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ আসনে আওয়ামীলীগ কখনও জাজিরা আবার কখনও ডামুড্যা থেকে প্রার্থী ধার করে এনে মনোনয়ন দিয়েছে। এ আসনের বর্তমানে এমপি হচ্ছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি.এম মোজাম্মেল হক। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি এমপি হন। আগামী নির্বাচনে তিনি দলের একজন শক্তিশালী প্রার্থী। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক ছাড়াও এ আসনে আওয়ামীলীগের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন অপু, শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা মোঃ রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এবং বিশিষ্ট শিল্পপতি মোবারক আলী সিকদার, শরীয়তপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আবুল হাসেম তপাদার।
এদিকে বিএনপি’র মনোয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক এমপি, পৌরসভার সাবেক মেয়র এবং জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সরদার এ.কে.এম নাসির উদ্দিন কালু, জেলা বিএনপি’র নির্বাহী সদস্য এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক মিন্টু সওদাগর, সাবেক ছাত্রনেতা জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের ব্যক্তিগত সহকারী আমিনুল ইসলাম বাদল। এছাড়া জাতীয় পার্টি জেলা কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান মাসুদ, জাসদের (ইনু) কেন্দ্রীয় কমিটির স্থানীয় বিষয়ক সম্পাদক এবং জেলা কমিটির সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক।
নব্বইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রথম ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রয়াত কে.এম হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গজেব এমপি হন। পরে ১৯৯৬ সালে এমপি হন প্রয়াত আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আবদুর রাজ্জাক। ২০০১ সালে নির্বাচনে আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী প্রার্থী প্রয়াত আওরঙ্গজেব বিজয়ী হন। ২০০৮ সাল থেকে এ আসনের আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক এম.পি নির্বাচিত হন।
আওয়ামী লীগের বর্ষিয়ান নেতা আবুল ফজল মাষ্টার বলেন, এ আসনে ব্যক্তি বড় কথা নয়। এখানে মূল ব্যাপার হচ্ছে মার্কা। যিনি নৌকা মার্কা পাবেন তিনিই বিজয়ী হবেন। বর্তমানে এ আসনে আওয়ামীলীগের দুটি গ্রুপ সক্রিয়। একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বর্তমান এমপি বিএম মোজাম্মেল হক। আর অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ইকবাল হোসেন অপু। তারা দু’জনই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-১ আসন থেকে মনোনয়ন লাভের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। নির্বাচনকে সামনে রেখে বি.এম মোজাম্মেল হক ঘন ঘন এলাকায় আসছেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে বসছেন এবং নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। সেখানে ভোটারদের সামনে সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরছেন।
অপর দিকে শরীয়তপুর জেলায় বিএনপি’র তেমন কোনো দৃশ্যমান কর্মসূচি চোখে পড়েনি। বিএনপি নেতারা বলছেন, পুলিশ বিএনপিকে কোনো কর্মসূচি পালন করতে দিচ্ছে না।
নির্বাচনী ভাবনা নিয়ে কথা হয় এমপি বি.এম মোজাম্মেল হকের সঙ্গে। তিনি সাপ্তাহিক বালুচরকে বলেন, আমার নেতৃত্বে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। শরীয়তপুর এখন আর অবহেলিত নয়। স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে মসজিদ-মাদ্রাসা, হাসপাতাল ও রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। তাই মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।
জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সভাপতি জাজিরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোবারক আলী সিকদার বলেন, বর্তমান এমপি দলের জন্য কিছুই করেননি। দলটাকে ভেঙ্গে কয়েকটি গ্রুপে পরিণত করেছেন। গত ৯ বছরে নিজের আখের গুছিয়েছেন। দলের পরীক্ষিত এবং ত্যাগী নেতাদের বিতাড়িত করে জামাতিদের স্থান দিয়েছেন। শরীয়তপুরে আওয়ামীলীগের দুঃসময়ে আমিই তৃণমূল নেতাকর্মীদের ধরে রেখেছি। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত নিলে আমার পক্ষে রায় দিবে। তাই আমি মনোনয়ন প্রত্যাশা করি।
জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সরদার এ.কে.এম নাসির উদ্দিন কালু বলেন, এই সরকারের আমলে সুষ্ঠ নির্বাচন হবে বলে মনে হয় না। যদি হয় তাহলে আমি বি.এন.পি’র পক্ষে আমি একজন প্রার্থী। আমি দলের দুর্দিনে পাশে ছিলাম, বর্তমানেও আছি, ভবিষ্যতেও থাকবো। সর্বদিক চিন্তা করে দল আমাকেই মনোনয়ন দেবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।
বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী আমিনুল ইসলাম বাদল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ আসনে ভাড়াটিয়াদেরকে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে। আমি বিএনপি’র পক্ষে মনোনয়ন প্রত্যাশী। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো। জাতীয় পার্টি (এরশাদ) মনোনয়ন প্রত্যাশী এ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান মাসুদ বলেন, জাতীয় পার্টি একক ভাবে নির্বাচন করবে। এজন্য পার্টির চেয়ারম্যান এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আমাদের কাজ করতে বলেছেন। জোটের সঙ্গে নির্বাচন হলে ভিন্ন কথা।
শরীয়তপুর জেলা যুবলীগের সভাপতি এমএম জাহাঙ্গীর বলেন, শরীয়তপুর-১ আসনে ব্যক্তি ইমেজে ভোট হয় না। মার্কা দেখে মানুষ ভোট দেন। ৯০ দশকের পর সদর উপজেলার কোনো লোক এমপি না হওয়ায় জেলা সদরে তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নূহুন মাদবর বলেন, বর্তমান এমপি বিএম মোজাম্মেলের আমলে শরীয়তপুরে তেমন কোনো কাজ হয়নি। প্রতিটি জেলায় ২৫০ শয্যার হাসপাতাল থাকলেও শরীয়তপুরে নেই। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মীদের মনোনয়ন না দিয়ে সুবিধাবাদীদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এ কারণেই পালং ও জাজিরায় নৌকার অনেক প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। বিতর্কিত লোক দিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি জমা দেয়ায় দলের রাজনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে।
শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা মোঃ রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি আমাকে মনোনয়ন দেন, তাহলে আমি বিপুল ভোটে বিজয়ী হব। জনগণের প্রতি আমার আস্থা আছে।
জাসদের মনোনয়ন প্রত্যাশী মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক বলেন, আমি দলের পক্ষে এ আসনে মনোনয়ন চাই। মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করব। এক্ষেত্রে দল আমাকে আর্থিক সহায়তা করবে।
আওয়ামীলীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন অপু বলেন, গত ৯ বছরে শরীয়তপুরে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। উন্নয়ন হয়েছে এমপি’র পরিবারের। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা নৌকার বিরোধিতা করেছে তাদের তিনি প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের লোকজনকে মনোনয়ন না দিয়ে লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য করে জামায়াত-শিবিরকে মনোনয়ন দিয়েছেন। তিনি বিভিন্ন সভা-সমাবেশে নানা রকম প্রতিশ্রুতি দিলেও কোনোটারই বাস্তবায়ন করেন না।

Total View: 1055

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter