বৃহস্পতিবার,  ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  বিকাল ৫:৪৩

আ.লীগ প্রার্থীরা গণসংযোগ করলেও মাঠে নেই বিএনপি

মে ১৩, ২০১৮ , ২০:৫০

টি.এম গোলাম মোস্তফা
নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা না হলেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া বেশ জোরে শোরেই বইতে শুরু করেছে। শরীয়তপুর-৩ আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেছেন। তারা বিভিন্ন হাটে-বাজরে লোকজনের সঙ্গে দেখা করে নানা ধরণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এলাকায় সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করে মানুষের কাছে দোয়া চাইছেন। শুধু তাই নয়, নতুন নতুন ব্যানার আর ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে প্রতিটি বাজার। এদিকে বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশীরা কৌশলগত কারণে মাঠে না থাকলেও দলীয় কর্মী-সমর্থক বলয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে যোগযোগ করছেন।

জেলার দক্ষিণে অবস্থিত শরীয়তপুর-৩ আসনটি ভেদরগঞ্জ উপজেলার একাংশ, ডামুড্যা এবং গোসাইরহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে ভেদরগঞ্জ উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন এবং ১টি পৌরসভা, ডামুড্যা উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন এবং ১টি পৌরসভা এবং গোসাইরহাট উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি প্রস্তাবিত পৌরসভায় মোট ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ৩৮ হাজার ৫৬৪ জন। এর মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৯৬ জন। তবে হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রকাশ হলে মোট ভোটারের সংখ্যা আরও ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে।

২০০৮ সালের নির্বাচনের পূর্বে এটিই ছিল জেলার সর্ববৃহৎ নির্বাচনী এলাকা। ১/১১ এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চল খ্যাত ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সখিপুর থানাকে শরীয়তপুর-৩ আসন থেকে কেটে শরীয়তপুর-২ আসনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

স্বাধীনতার পর থেকে এ আসনটি বেশিরভাগ সময় আওয়ামী লীগের দখলেই ছিল। ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আবিদুর রেজা খান, ’৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে মুসলিম লীগের ইব্রাহীম খলিল ওরফে নওয়াব বালা, ‘৮৬ সালে তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ইঞ্জিনিয়ার ফারুখ আলম, ‘৮৮ সালে ৪র্থ নির্বাচনে জাপার এম.এ রেজা, ‘৯১ সালে ৫ম সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন বাকশাল সম্পাদক আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে আব্দুর রাজ্জাক, ‘৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে এক তরফা ভাবে বিএনপি’র প্রার্থী শফিকুর রহমান কিরণ, ‘৯৬ সালের ১২ জুন ৭ম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, ২০০১ সালে ৮ম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের আব্দুর রাজ্জাক, ২০০৮ সালে ৯ম নির্বাচনে আবার আব্দুর রাজ্জাক নির্বাচিত হন।

২০১১ সালের ২৩ ডিসেম্বর আব্দুর রাজ্জাকের মৃত্যুর পর ২০১২ সালের মার্চে উপ-নির্বাচনে রাজ্জাক তনয় নাহিম রাজ্জাক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এক তরফা ভাবে আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র নাহিম রাজ্জাক আওয়ামীলীগের টিকিটে দ্বিতীয় বারের মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে অন্তত ৪ জন প্রভাবশালী নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন, বর্তমান সাংসদ নাহিম রাজ্জাক, শরীয়তপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ছাবেদুর রহমান খোকা শিকদার, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে এবং ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি বাহাদুর বেপারী। জনশ্রুতি রয়েছে শেষ পর্যন্ত নাহিম রাজ্জাক এবং বাহাদুর বেপারীর মধ্যেই মনোনয়নের মূল লড়াই হবে।

নাহিম রাজ্জাক একজন প্রতীভাবান রাজনীতিবিদ। তিনি এলাকায় সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলীয় সকল কর্মকান্ডে তার উপস্থিতি এবং ভূমিকা বরাবরই প্রসংশনীয়। ইদানীং তিনি তার নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনের পাশাপাশি আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। তবে, অতি সম্প্রতি তার নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগে কিছু দৃশ্যমান বিভাজন দেখা দিয়েছে। এর কারণ হিসেবে তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী নাহিম রাজ্জাককে দোষারোপ করেছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, দুর্দিনের অনেক ত্যাগী, পরীক্ষিত ও পুরনো নেতাকর্মীরা সাংসদের কাছে ভিড়তে পারছেন না। তিনি বিতর্কিত কিছু তরুণের দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকায় সংগঠনের গতিশীলতা বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাহিম রাজ্জাক বলেন, যেসব নেতাকর্মী বিভিন্ন নির্বাচনে সংগঠনের ক্ষতি করেছেন এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দল যাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে তারাই কেবল বিরূপ মন্তব্য করতে পারেন। কিন্তু তৃণমূলের হাজার হাজার নেতাকর্মী জননেতা আব্দুর রাজ্জাকের হাতে গড়া। তারা তার পাশে রয়েছেন। আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন লাভে শতভাগ আশাবাদী তিনি।

অন্যদিকে একজন সফল ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ ছাবেদুর রহমান খোকা শিকদার ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি ৮০’র দশকের প্রথম দিকে জেলা যুবলীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ভেদরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি হন। দীর্ঘ ৩০ বছর শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি থাকার পরে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়াারিতে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং একই বছরের ডিসেম্বরে শরীয়তপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বৃহত্তর দুটি পদে অধিষ্ঠিত থাকার পরেও তিনি তার গণতান্ত্রিক অধিকার বলেই আগামী নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে জানান।

আর অনল কুমার দে ছাত্রলীগ ও জেলা যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। তিনি ৮০’র দশকে বাকশালের জেলা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এরপর জেলা আওয়ামী লীগের একবার সাংগঠনিক সম্পাদক ও দুইবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১/১১ এর সময় অনল কুমার দে মাইনাস টু নীতির বিরুদ্ধে সভানেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে খুব জোরালো ভূমিকা পালন করেন। কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য বা অর্থনৈতিক ধ্যান-ধারণায় লিপ্ত না হয়ে তিনি সারা জীবন রাজনীতির পাশাপাশি সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। একজন ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিত্ব ও পরিশ্রমী নেতা হিসেবে তাকে দলীয় নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হবে বলে তার বিশ্বাস।

আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী বাহাদুর বেপারী ডামুড্যা মুসলিম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি পাস করার পর ঢাকার একটি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি বিভাগে সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় ১৯৮৬ সালে প্রথম শহিদুলস্নাহ হল শাখা ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদকের পদ দিয়ে তার ছাত্রলীগ জীবনের অভিষেক হয়। ১৯৯০ সালে ডাকসু নির্বাচনে শহিদুল্লাহ হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১৯৯২ সালে ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সদস্য, ৯৪ সালে ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক, ৯৬ সালে ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। ফার্মাসিতে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর তিনি বিবিএ এবং এমবিএ কোর্স সমাপ্ত করেন। বলা হয়, বাহাদুর বেপারীর হাত ধরেই ছাত্রলীগ স্বর্ণযুগে অধিষ্ঠিত হয়। দুইবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক নির্বাচিত হন বাহাদুর বেপারী। আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একজন মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে বেশ কয়েক মাস থেকেই নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক ভাবে গণসংযোগ শুরু করছেন।

বিএনপি আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কৌশলগত কারণে এখন পর্যন্ত জোড়েশোড়ে প্রচার প্রচারণা শুরু করেনি। এ আসনে বিএনপি’র সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন, বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সচিব সাবেক ছাত্রদল নেতা মিয়া নূরউদ্দিন অপু, প্রয়াত সংসদ সদস্য কে.এম হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গজেবের সহধর্মিণী বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট তাহমিনা খানম, জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাঈদ আহমেদ আসলাম।

গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুরের সন্তান নূর উদ্দিন অপু। বয়সে তরুণ হলেও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে সে অত্যান্ত আস্থাভাজন, দায়িত্বশীল এবং বিশ্বস্ত। বিএনপি’র একটি বৃহৎ অংশসহ নির্বাচনী এলাকার রাজনৈতিক সচেতন লোকেরা মনে করছেন অপুর শরীয়তপুর-৩ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি। কারণ, আগামী দিনে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে অপুর হাত ধরেই এই অঞ্চল তথা গোটা শরীয়তপুরে প্রত্যাশিত উন্নয়ন সম্ভব হবে।

এ্যাডভোকেট তাহমিনা খানমের স্বামী হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গ ১৯৯১ সালে শরীয়তপুর-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিটে সাংসদ নির্বাচিত হন এবং ২০০১ সালে একই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে পরাজিত করে সাংসদ নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালে আওরঙ্গ খালেদা জিয়ার হাত ধরে বিএনপিতে যোগদান করেন এবং ২০০৮ সালে শরীয়তপুর-৩ আসন থেকে বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে আব্দুর রাজ্জাকের বিপরীতে নির্বাচন করে পরাজিত হন। ২০১৩ সালে একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গ মারা গেলে তার স্ত্রী তাহমিনাকে বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়। তাহমিনা আওরঙ্গ মনে করেন, তার স্বামীর আসনে তাকেই দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে।

আর সাঈদ আহমেদ আসলাম ডামুড্যার ঐতিহ্যবাহী সেলিম পরিবারের সন্তান। তিনি বিশিষ্ঠ রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ী সেলিম মিয়ার ভাতিজা। তিনিও একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং শরীয়তপুর জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি কয়েক বছর যাবৎ তার নির্বাচনী এলাকায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সাহায্য সহযোগিতা করে আসছেন। তার ঘনিষ্ঠজনরা মনে করেন, সাঈদ আহমেদ আসলামকে এই আসনে মনোনয়ন দেয়া হলে বিএনপি সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী হবে।

Total View: 1299

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter