বুধবার,  ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ৮ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  বিকাল ৪:৩২

ইটের সাইজ ছোট করে ভাটা মালিকদের দুর্নীতির অভিযোগ

ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৮ , ২৩:০৬

স্টাফ রিপোর্টার
শরীয়তপুরে ইটভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে ইটের সাইজ ছোট করে ইট প্রস্তুত করার অভিযোগ উঠেছে। ইটের আকার ছোট করে ক্রেতাদেরকে ইট ব্যবসায়ীরা ঠকাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শরীয়তপুর জেলার সদর, জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটা ঘুরে এর সত্যতাও পাওয়া গেছে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ক্রেতারা প্রতি হাজার ইটে কমপক্ষে ২৮৪টি সমপরিমাণ ইট কম পাচ্ছেন।
শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নেজারত শাখার সূত্রে জানা যায়, জেলার ছয়টি উপজেলায় ৪৯টি ইটের ভাটা রয়েছে। তার মধ্যে শরীয়তপুর সদর উপজেলায় ২০টি, জাজিরা উপজেলায় আটটি, নড়িয়া উপজেলায় সাতটি, ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ছয়টি, ডামুড্যা উপজেলায় দুটি এবং গোসাইরহাট উপজেলায় ছয়টি ইটের ভাটা রয়েছে।
এ প্রতিবেদক শরীয়তপুরের সদর উপজেলার চর ডোমাসার গ্রামের যমুনা ব্রিক ম্যানুফ্যাক্সারিং এবং মেঘনা ব্রিকস; জাজিরা উপজেলার মিয়াচাঁন মুন্সীকান্দি গ্রামের এমবিএম ব্রিকস এবং বড় গোপালপুর গ্রামের হাওলাদার বিকস; নড়িয়া উপজেলার কালিকাপ্রশাদ গ্রামের মক্কা ব্রিক ফিল্ড এবং পূর্ব কোটাপাড়া গ্রামের খান ব্রিকস ঘুরে দেখেন। এসময় ইটের সাইজ ছোট করার বিষয়টি ধরা পড়ে।
এসব ইটভাটাতে দেখা গেছে, প্রত্যেকটি ইটের ভাটায় প্রস্তুতকৃত ইটের সাইজ রয়েছে দৈর্ঘ্যে ২২ সেন্টিমিটার প্রস্থে ৯ দশমিক ৬ সেন্টিমিটার এবং উচ্চতায় ৫ সেন্টিমিটার।
সরকারি বিধি অনুয়ায়ী প্রতিটি ইটের সাইজ হবে দৈর্ঘে ২৪ সেন্টিমিটার, প্রস্থে ১১ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার এবং উচ্চতায় ৭ সেন্টিমিটার। অর্থাৎ প্রত্যেকটি ইটে কমপক্ষে ২ সেন্টিমিটার করে কম রয়েছে। ইটের আকারে ছোট হওয়ায় কারণে একজন ক্রেতা প্রতি হাজার ইটে ২৮৪টি ইট কম পাচ্ছে।
শরীয়তপুরের ইটের ভাটা মালিকরা ক্রেতাদেরকে দীর্ঘদিন ধরে ইট কম দিয়ে ঠকাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
শরীয়পুর সদর উপজেলার যমুনা ব্রিক ম্যানুফ্যাক্সারিং থেকে ইট কিনেছেন একই উপজেলার আলমগীর হোসেন হাওলাদার। তিনি বলেন, ‘আমি ভবন তৈরির জন্য ২০ হাজার ইট কিনে ঠকেছি, ইটের সাইজ অনেক ছোট। এজন্য ভবন তৈরিতে বেশি ইট লাগবে। কিন্তু সরকারি নিয়ম অনুসারে ইট তৈরি করা হলে আরও কম ইট লাগত’।
অন্যদিকে নড়িয়া উপজেলার আব্দুল আজিজ পেদা নামের এক প্রবাসী নিজের বাড়ি করার জন্য একই উপজেলার কালিকাপ্রশাদ গ্রামের মক্কা ব্রিক ফিল্ড থেকে ইট কিনতে গিয়ে ইটের সাইজ ছোট দেখে তিনি ইট না কিনেই চলে আসেন। জানতে চাইলে আব্দুল আজিজ বলেন, নিজের বাড়ির জন্য ইট কিনতে গিয়ে এত ছোট ইট আমার পছন্দ হয়নি। তাই চলে এসেছি। আমি পাশের মাদারীপুর জেলা অথবা চাঁদপুর জেলা থেকে ইট কেনার সিদ্ধান নিয়েছি।
এ ব্যাপারে শরীয়তপুরের ইটের ভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম বাবুল বলেন, ইট তৈরি করার জন্য সরকারিভাবে যে নির্দেশনা রয়েছে আমারা সেই নির্দেশনা অনুসারে ফর্মা দিয়ে ইট তৈরি করছি। কিন্তু ইট পোড়ানোর পর একটু ছোট হচ্ছে। আগামীতে নতুন ফর্মা দিয়ে ইট তৈরি করা হবে।
তবে ক্রেতাদের নিয়মমাফিক ইট পাওয়ার ক্ষেত্রে ইটভাটায় যাদের তদারকি করার কথা সেই জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এ বিষয়ে যেন নির্বিকার।
এ ব্যাপারে শরীয়তপুর জেলার জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সুজন কাজী বলেন, ‘আমি এক মাস হলো এখানে এসেছি। এখানে আসার পর দেখেছি এখানকার ইটগুলো তুলনামূলকভাবে একটু ছোট। আমি সেজন্য ইট ভাটার মালিকদেরকে ডেকেছিলাম। তারা এক মাসের সময় নিয়েছে। এক মাসের মধ্যে সরকারি বিধি মোতাবেক ইট তৈরি করবে বলে আমাকে কথা দিয়েছে।
যারা সরকারি বিধি অনুয়ায়ী ইট তৈরি করবে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান সুজন কাজী।

Total View: 1167

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter