শনিবার,  ১৭ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,  ৪ঠা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,  বিকাল ৩:১৩

একজন শামীমের কথা বলছি

এপ্রিল ২২, ২০১৮ , ২২:৪১

মহিউদ্দিন তুষার
ঘুম থেকে উঠে ফজরের নামাজ পড়েন। আধা ঘন্টা শারীরিক পরিচর্চা। তারপর চলে যান পূর্ব নির্ধারিত সংগঠনের কাজে। অথবা নিজে পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। সেখানে বসেই তিনি বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার লোকদের সাথে বসে তাদের ভালো মন্দ কথা শুনেন এবং পরামর্শ দেন। ১১ টা বাজার সাথে সাথে চলে যান সংগঠনের বিভিন্ন কাজে। কখনও অফিসে কখনও চট্টগ্রামে অথবা নিজ জেলাতে। কোথাও কোন কর্মীর সমস্যা হলে তা অতিদ্রুত সমাধানের চেষ্টা করেন। আর বিকেল হতেই সময় কাটে রাজনৈতিক কার্যালয়ে। যার শেষ কখন হবে তা হয়তো নির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারে না। এমনি ভাবে দিন কেটে তার। রাতে সময় পেলেই সংগঠনের উচ্চ পদস্থ নেতাদের সাথে কথা বলেন। যেন তিনি সময়ের ছকে বাঁধা। এখন আমি যার কথা বলছিলাম সে আর কেউ নন। তিনি হচ্ছেন উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দলের ব্যাস্ত নেতা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ.কে.এম এনামুল হক শামীম। যিনি ইতোমধ্যেই ছাত্র নেতাদের প্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত হয়েছেন। তিনি ১৯৬৫ সালে শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানার পাইক বংশের এক সভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আলহাজ্ব মোহাম্মদ আবুল হাশেম মিয়া এবং মাতা বেগম আশরাফুন্নেসা। তার বাবা আলহাজ্ব মোহাম্মদ আবুল হাশেম মিয়া পেশাগত জীবনে ছিলেন একজন প্রকৌশলী। এনামুল হক শামীমের দাদা আলহাজ্ব রওশন আলী ছিলেন একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং নানা আবদুল জলিল মুন্সী ছিলেন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। বলা যায় ছোটবেলা থেকেই রাজনৈতিক আবহে বড় হয়েছেন তিনি। এনামুল হক শামীম তার নিজের কর্মদক্ষতা ও সুদৃঢ় নেতৃত্বের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দখল করে নিয়েছেন। ছাত্র জীবনেই তার নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। তার সাংগঠনিক দক্ষতার কারণেই সে সময় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সকল ছাত্রদের কাছে একটি জনপ্রিয় সংগঠনে হয়ে পরিনত হয়। এরপর তিনি অভিসিক্ত হন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে। দীর্ঘ ত্যাগ আর কর্মীদের ভালোবাসার কারণেই এনামুল হক শামীম ছাত্রনেতা থেকে গণমানুষের নন্দিত নেতায় পরিণত হয়েছেন। আওয়ামীলীগের দুর্দিনে, দুঃসময়ে রাজপথ কাঁপানো নেতা এনামুল হক শামীম বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি কখনো। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কখনো পিছ পা হননি তিনি। বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে তিনি নিজ অবস্থান থেকে তৈরি করেছেন অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতা আর শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রতি অবিচল থেকে। দলের যে কোনো দুর্যোগ আর সংকটে এনামুল হক শামীম নিজেকে প্রকাশ করেছেন আপোষহীন চেতনায়। তিনি ছাত্র জীবনেই মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন সর্বত্র। স্কুল জীবন থেকেই তার ছাত্র রাজনীতির হাতেখড়ি। ১৯৭৯ সালে নোয়াখালীর এ.এম উচ্চ বিদ্যালয়ে পাঠরত অবস্থায় তিনি স্কুল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে নির্বাচিত হন। ঢাকার রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে এইচ.এস.সি পাশ করার পর উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুরু হওয়ার থেকেই তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে আরো বেশি নিবিড় ভাবে জড়িয়ে পড়েন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের বিপুল ভোটে ১৯৮৯ সালে তিনি জাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতির পাশাপাশি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়েও তার ছিলো দীপ্ত পদাচারণা। ১৯৯০ সালে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়। সততা, আন্তরিকতা, কঠোর পরিশ্রম এবং আওয়মীলীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি বিশ্বস্ততা দেখিয়ে তিনি ধীরে ধীরে উঠে আসেন ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বে। তিনি ১৯৯২ সালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সহ-সভাপতি এবং ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতির বার্তা নিয়ে ছুটে বেড়িয়েছেন দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। তার সঠিক নেতৃত্বের কারণেই ৭৫ পরবর্তী সময়ে প্রথম বারের মত সারা দেশে ছড়িয়ে পরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জয় জয়কার। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ইতিহাসে এনামুল হক শামীম অনন্য নাম। ’৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং ’৯৬ এর বিএনপি-জামায়াত বিরোধী ‘জনতার মঞ্চ’ এর অন্যতম সংগঠক ছিলেন এনামুল হক শামীম। প্রগতিশীল রাজনীতির ধারক বাহক এনামুল হক শামীম বার বার শাসক গোষ্ঠীর অত্যাচার আর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, সংগ্রাম করে সারা দেশের আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। যার ফলে তার উপর নেমে আসে অমানুষিক অত্যাচার আর নির্যাতন। শতাধিক মামলার আসামী করা হয়ে তাকে, একাধিক বার কারা বরণ করেন তিনি। ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলায় মারাত্মক ভাবে আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে লড়াই থেকে ফিরে আসেন তিনি। এখনো শরীরে গ্রেনেডের আঘাতের চিহ্ন ও স্প্রিন্টার বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। ১-১১ এর পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে আওয়ামীলীগের সংস্কারপন্থীরা যখন জননেত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা ও বিরোধিতা করা শুরু করেন এবং ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলা বাস্তবায়ন করে দলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টায় মত্ত হন তখন তাদের এই হীন অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম প্রকাশ্য বিরোধিতা করেন এ.কে.এম এনামুল হক শামীম। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে যখন গ্রেফতার করা হয় তখন আওয়ামীলীগের অনেক শীর্ষ নেতা নিশ্চুপ থাকলেও শামীম সমমনাদের সাথে নিয়ে সারা দেশের ছাত্র সমাজ ও আওয়ামী অন্তঃপ্রাণ মানুষদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে নেত্রীর মুক্তির জন্য রাজপথে প্রবল আন্দোলন গড়ে তোলেন। শামীম ২০০২ থেকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের অবজারভার মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারীতে প্রথম বারের মতো এবং একই বছর ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় সম্মেলনে দ্বিতীয় বারের মতো বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সদস্য মনোনীত হন। আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলন অধিবেশনে এনামুল হক শামীমকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে নির্বাচিত করা হয়। সাংগঠনিক দায়িত্ব পাওয়ার পর তাকে সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক বিভাগ চট্টগ্রামের সাংগঠনিক দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে ১৫টি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। রয়েছে দলটির প্রভাবশালী ও প্রবীণ অনেক নেতা। তাদের অনেকেই বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে রাজনীতিও করেছেন। এ জটিল এলাকায় দায়িত্বকে সমস্যা হিসেবে না দেখে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার দেয়া দায়িত্বকে সাদরে গ্রহণ করেছেন। নিজ ভূমি থেকে বিতারিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ঐ এলাকায় দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি। এতো পরিশ্রম করার পরও তিনি তার নিজ এলাকা শরীয়তপুর-২ আসনকে ভুলে যাননি। সময় সুযোগ পেলেই ছুটে আসেন নিজ এলাকায়। এখানেও তিনি সাংগঠনিক কাজ কর্ম অব্যাহত রেখেছেন। এলাকার উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। শরীয়তপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের অনেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও তিন জনের নাম জোর আলোচনায় রয়েছে। আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পেলে আওয়মীলীগের এই ত্যাগী নেতা বিজয়ী হয়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবেন বলে মনে করেন এলাকাবাসি।

Total View: 1633

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter