রবিবার,  ২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,  ৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,  সন্ধ্যা ৬:৫১

একটি বাইপাস সড়কই বাঁচিয়ে দিতে পারে সরকারের হাজার কোটি টাকা

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯ , ২২:১০

লিয়াকত আলী নান্টু খান
শরীয়তপুর শহরের উপর দিয়ে মহাসড়ক নির্মাণের যে পরিকল্পনা চলছে তাতে বহু ঘর বাড়ি, দোকান পাট হুমকির মুখে পড়াসহ সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অথচ একটু পরিকল্পনা পরিবর্তন এবং যৌক্তিক কাজটা করলে হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় ও মানুষের দূর্ভোগ কমে যাবে। সরকার প্রকল্পটির যথাযথ মূল্যায়ন করলে ১৯৯৭ সনে গৃহিত প্রকল্প যা ২০০০ সালে অপমৃত্যু হয়েছিলো সেই প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখবে।

১৯৯৭ সনে সরকার কতগুলো জনকল্যাণ মূলক বিষয় বিবেচনা ও অর্থ সাশ্রয়ের কথা চিন্তা করে বড় ধরনের জনকল্যাণ মূলক প্রকল্প শরীয়তপুর জেলা শহরের “বুড়িরহাট-চান্দনী বাইপাস সড়ক” নির্মাণের কাজ হাতে নিয়েছিলেন। ১৯৯৯ সনের দূর্ভোগের বিষয় ও সরকারের অর্থ অপোচয়ের কথা বিবেচনা না করে ভুল সংশোধনের নামে ২০০০ সনের প্রকল্পটির অপমৃত্যু ঘটায় কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি সেই প্রকল্পটি পূণরায় জনদূর্ভোগ ও সরকারের অর্থর অপচয়ের কথা বিবেচনা না করে বিতর্কিত প্রকল্প গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়ায় মানুষের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে মহা জনকল্যানকর প্রকল্পের পরিবর্তে মহা জনদূর্ভোগ ও হাজার কোটি টাকার সরকারি অর্থ অপচয়ের প্রকল্প হিসাবে বিবেচিত হবে। তাই মহা জনকল্যাণকর ও সরকারী অর্থ সাশ্রয়ী ১৯৯৭ সনের গৃহীত বুড়িরহাট-চান্দনী শরীয়তপুর জেলা বাইপাস সড়ক নির্মাণ এখন সময়ের দাবী।

১৯৯৭ সনের গৃহিত জনকল্যাণমূলক ও সরকারী অর্থ সাশ্রয়ী “বুড়িরহাট-চান্দীনা মহাসড়ক” শরীয়তপুর শহরে বাইপাস আন্তঃজেলা মহাসড়ক নির্মাণে এক মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। হঠাৎ ১৯৯৯ সনের শেষের দিকে গতি পথের এক ভুল সংশোধনী যা উক্ত প্রকল্পকে বিতর্কিত করে। ফলে জনদূর্ভোগ ও সরকারের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কথা বিবেচনা করে উক্ত জনকল্যাণ মূলক প্রকল্পটি প্রাথমিক পর্যায়েই ২০০০ সনে প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয় যার ফলে প্রকল্পের অপর্মত্যু ঘটে।

যে সমস্ত বিষয়ের উপর ভিত্তি করে ১৯৯৭ সনের মহা জনকল্যাণকর ও সরকারী অর্থ সাশ্রয়ী প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছিল তা এক নজরে দেখলেই সকলে বুঝতে পারবেন। প্রকল্পের যে সকল সুবিধা বিবেচনায় নেয়া হয়েছিলো (ক) বুড়িরহাট হতে চান্দনী পর্যন্ত ১শ ২০ ফুট রাস্তা নির্মাণ করতে হলে জমি ক্রয় করার জন্য এক টাকাও খরচ হবে না। এর কারণ সি.এস রের্কড হইতে বি.আর.এস রের্কড পর্যন্ত ১শ ২০ ফুট প্রসস্ত সরকারি জমির উপর দিয়ে বর্তমানে রাস্তা আছে। উক্ত রাস্তাটি কাচকীর রাস্তা নামেও পরিচিত। (খ) মাদারীপুর জেলা হতে আন্তঃ জেলা যানবাহন শরীয়তপুরের উপর দিয়ে চলাচলের সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ মাদারীপুর বে-সরকারী পরিবহন (সব জেলার মত) নিজ জেলার মধ্যে দিয়ে চলাচলের সুযোগ থাকলে অন্য জেলায় প্রবেশ করে না। তাই মাদারীপুরের যানবাহন নির্মানাধীন পদ্মা সেতুর উপর দিয়ে কাজীরটেক হয়ে বাবনাতলা হয়ে শিবচর হয়ে নিজ জেলার সড়ক দিয়ে চলাচল করবে। অন্যদিকে বরিশালের যানবাহন মুলাদি হয়ে গোসাইরহাটের উপর দিয়ে প্রস্তাবিত মহা প্রকল্পের সড়ক দিয়ে পদ্মা সেতু পারাপার হবে এবং চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী জেলা শহরসহ দেশের পশ্চিমাঞ্চলে যাতায়াত সহজ হবে এবং ডামুড্যা ও ভেদরগঞ্জের উপর দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন বুড়িরহাট-চান্দনী দিয়ে পদ্মা সেতুর উপর দিয়ে চলতে পারবে। বাইপাসের চান্দনী, আটং, কানার বাজার বাসস্ট্যান্ড হলে তা শরীয়তপুর শহর হতে ১ কিলোমিটারের মধ্যেই থাকবে। এতে শহরে যানযট কমে যাবে। ভেদরগঞ্জ, ভোজেশ্বর ও ছয়গাঁওসহ আশপাশের বাজারগুলোতে বাসস্ট্যান্ড হলে তা শহর থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে হবে এবং তাতে উক্ত বাজারগুলো অনেক উন্নত হবে। ঘ) শরীয়তপুর শহরের পাশ দিয়ে বাইপাস সড়ক নির্মাণ হলে শহরে বন্যার পানি প্রবেশ করতে পারবে না এবং বিনা খরচে শরীয়তপুর শহর রক্ষা বাধ তৈরী হবে। ঙ) শরীয়তপুরের মনোহর বাজার হইতে প্রেমতলা পর্যন্ত সড়কটি সম্পূর্ণ যানজট ও দুর্ঘটনা মুক্ত থাকবে। চ) ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরাসহ বিভিন্ন জেলা শহরের মতো বাইপাস মহাসড়ক নির্মাণ করলে যান চলাচল সহজতর হবে। ছ) শরীয়তপুর জেলা শহরের পাশ দিয়ে বুড়িরহাট ও চান্দনী মহাসড়ক নির্মাণ হলে ভোজেশ্বর, ভেনপা, বিঝারীসহ বাইপাস সড়কের আশপাশের এলাকাগুলোর অভাবনীয় অর্থনৈতিক উন্নতি লাভ করবে।

১৯৯৭ সনের গৃহিত বৃহত্তম জনকল্যাণ মূলক মহা পরিকল্পনা ১৯৯৯ সানে এসে জনদূর্ভোগ ও সরকারের অর্থ অপচয়ের কথা প্রচার করে বিতর্কিত ভাবে প্রকল্প সংশোধন করে প্রকল্পের গতিপথ পরিবর্তন করে মহাসড়কটি বুড়ির হাট হতে কানার বাজারে এসে ৯০ ডিগ্রি দিক পরিবর্তন করে পশ্চিম দিকে পালং উচ্চ বিদ্যালয়ের পাস দিয়া এ্যাডভোকেট সুলতান মাহমুদ সীমন সাহেবের বাড়ির পূর্ব পাশ দিয়ে ৯০ ডিগ্রি দিক পরিবর্তন করে প্রেমতলা পর্যন্ত ৬ ফুট প্রসস্ত পৌর রাস্তার উপর ১শ ২০ ফুট মহাসড়ক নির্মাণ করার প্রস্তাব গ্রহণ করে। উক্ত প্রকল্প গ্রহণের সিদ্ধান্তে জনদূর্ভোগ ও সরকারের অর্থ অপচয় হওয়ার আশংকায় শরীয়তপুরবাসীর মধ্যে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ফলে উক্ত প্রকল্পটি ২০০০ সালে পরিত্যক্ত হয় বা অপমৃত্যু হয়।

১৯৯৯ সালের প্রস্তাবিত প্রকল্পে যে সমস্ত জনদূর্ভোগ ও সরকারি অর্থের অপচয় হবে তার মধ্যে অন্যতম হলো ঃ- ১) হাজার কোটি টাকা জমি ক্রয়ের জন্য প্রয়োজন পরবে যা প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের বরাদ্দ ছিলো না। প্রকাশ থাকে যে, মৃত মোহাম্মদ আলী মুন্সীর বাড়ীর উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করতে গেলে বাধাগ্রস্থ হতে হতো। কারণ তিনি সরকারি ক্ষতিপূরণ পায়নি এবং বসত বাড়ী উচ্ছেদ পুরপুরি সংবিধিবদ্ধ আইন পরিপন্থি। ২) মহাসড়ক ১শ ২০ ফুট প্রসস্ত করে নির্মাণ করলে পালং উচ্চ বিদ্যালয়, পালং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্কুলের খেলার মাঠ সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। ৩) প্রায় ৫শ বসত বাড়ী সম্পূর্ণরূপে উচ্ছেদ করতে হলে সাধারণ মানুষ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পরবে যা মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হবে এবং সেটা সংবিধিবদ্ধ আইনের পূর্ণখেলাপ হবে। এসব বিবেচনায় ১৯৯৯ সনের গৃহিত মহা জনকল্যাণ মূলক প্রকল্পটির ভুল সংশোধনের জন্য ২০০০ সনে বাতিল করা হয়।
বর্তমান সরকারের আমল শরীয়তপুর শহরের উপর দিয়ে চলমান মনোহর বাজার মোড় হইতে প্রেমতলা পর্যন্ত ঢাকা-শরীয়তপুর সড়ক দুই পাশে প্রসস্ত করার চিন্তা একটি অবাস্তব চিন্তা ছাড়া কিছুই নয়। উক্ত মহা পরিকল্পনায় জনদূর্ভোগ ও সরকারের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি অবধারিত যা একটু ঠান্ডা মাথায় বিবেচনা করলেই বুঝাযাবে। ১) হাজার কোটি টাকার উপরে (বর্তমান বাজার মূল্য) জমি ক্রয় (অধিগ্রহণ)’র জন্য প্রয়োজন হবে। ২) জেলা প্রশাসকের বাস ভবন, জেলা প্রশাসকের অফিস, সরকারি গণগ্রন্থাগার, প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, পুলিশ লাইন, সদর থানা, বিদ্যুৎ অফিস, বৈদ্যুতিক লাইন, সমাজ কল্যাণ অফিস, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, জেলা হাসপাতাল, সিভিল সার্জন অফিস, জেলা বাসস্ট্যান্ড, পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস, ধানুকা বাজার, শরীয়তপুর সরকারী কলেজ, স্টেডিয়াম ইত্যাদি অবকাঠামো ভাঙ্গিয়া মহা সড়ক নির্মাণ করতে হবে। ৩) বহু বহুতল ভবনসহ বেসরকারী পাকা দালান ও আধা পাকা অবকাঠামো অপসারনে হাজার কোটি টাকার উপরে ক্ষতিপূরণ দিতে প্রয়োজন হবে। ৪) কোন জেলা শহরের মধ্য দিয়ে স্থায়ী আন্তঃ জেলা পরিবহন সড়ক থাকতে পারে না। যেমনঃ ঝিনাইদহ, যশোর, ফরিদপুর ও মাগুরাসহ বিভিন্ন শহরে বাইপাস সড়ক নির্মাণ করে সমস্যার সমাধান করেছে সরকার। ৫) শরীয়তপুর শহরের উপর দিয়ে ১শ ২০ ফুট মহাসড়ক নির্মাণ করলে মনোহর বাজারে অস্তিত্ব থাকবে না এবং পালং বাজারের একটা বড় অংশ রাস্তায় চলে যাবে। যার ফলে বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে।

যথাযথ কর্তৃপক্ষের ভেবে দেখা উচিত শরীয়তপুর শহরের মধ্যে দিয়া মনোহর বাজার মোড় হতে প্রেমতলা পর্যন্ত জনদূর্ভোগ বৃদ্ধি, বড় ধরনের সরকারি অর্থ অপচয় বিবেচনায় নিয়ে শরীয়তপুর শহরের উপর দিয়ে ১শ ২০ ফুট মহাসড়ক নির্মাণ পরিকল্পনা বাদ দিয়া ১৯৯৭ সনের গৃহীত মহা জনকল্যাণ মূলক প্রকল্প ও সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের কথা বিবেচনা করে বুড়ির হাট-চান্দনী বাইপাস সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া যায় কিনা। এতে নাম মাত্র খরচে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে এবং মানুষের ভোগান্তি কমবে।

Total View: 355

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter