বুধবার,  ২১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ১০:৩২

এবার মনোনয়ন দৌড়ে দুই শতাধিক ব্যবসায়ী নেতা

নভেম্বর ২৪, ২০১৮ , ২১:১৯

(উপরে, বাঁ থেকে) সালমান এফ রহমান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এম মোর্শেদ খান ও মিজানুর রহমান সিনহা, (নিচে, বাঁ থেকে) ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন, আব্দুস সালাম মোর্শেদী, সেলিমা আহমাদ ও শমী কায়সার

টি.এম গোলাম মোস্তফা
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই শতাধিক ব্যবসায়ী। এফবিসিসিআইর সাবেক একাধিক সভাপতি, বিজিএমইএর সাবেক ও বর্তমান নেতা এমনকী জেলা পর্যায়ের ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারাও সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে দলের সঙ্গে জোর লবিয়িং করছেন বলে জানা গেছে।

মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার শিল্প ও বেসরকারি খাত উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার সালমান এফ রহমান। ঢাকা-১ আসন থেকে মনোনয়ন পেতে তিনি আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। একইসঙ্গে এলাকায়ও নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সালমান এফ রহমান ইঙ্গিত দিয়ে বলেন নির্বাচনের ইচ্ছে তার আছে। তিনি বলেন, আমি জনগণের সেবা করতে চাই।

এফবিসিসিআইয়ের আরেক সাবেক সভাপতি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু ফেনীর ছাগলনাইয়া থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে চান। নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন বন্ধ হওয়া সিটিসেলের কর্ণধার ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোর্শেদ খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও একমির প্রতিষ্ঠাতা মিজানুর রহমান সিনহা। বিজিএমএইএর সাবেক সভাপতি একসময়ের তারকা ফুটবলার আব্দুস সালাম মোর্শেদী এরইমধ্যে খুলনা-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে উপ-নির্বাচনে অংশ নিয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। আসন্ন নির্বাচনেও তিনি এ আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী।

এফবিসিসিআইয়ের আরেক সাবেক সভাপতি ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি দলটির সাবেক অর্থ ও বাণিজ্য সম্পাদকও ছিলেন। কিন্তু দুই দফা আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত হন। পরে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) থেকে এমপি হন। কিছুদিন আগে অন্য স্বতন্ত্র এমপিদের সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তার ঘনিষ্টজনরা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকদের শীর্ষ পর্যায় থেকেই ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুনকে স্বতন্ত্র নির্বাচনের সংকেত দেয়া হয়েছিল। তবে এবার তিনি নৌকা প্রতীক নিয়েই ভোটযুদ্ধে নামার ইঙ্গিত পেয়েছেন।

এবারের নির্বাচনে নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে আছেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদের স্ত্রী বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সেলিমা আহমাদ। তিনি কুমিল্লা-২ আসন থেকে মনোননয়ন চাইছেন। শহীদুল্লাহ কায়সারের মেয়ে এবং এফবিসিসিআইয়ের নারী সদস্য অভিনেত্রী শমী কায়সারও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী। তিনি ফেনী-৩ আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের আসলে কোনো কিছুই পাওয়ার থাকে না। তারা দিতে চান। তাই ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকে সংসদ সদস্য হতে চাওয়াটা ভালো।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বিজিএমইএ-এর সাবেক সভাপতি এস এম ফজলুল হক চট্টগ্রাম-৫ থেকে মনোনয়ন চান। বিজিএমইএ-এর আরেক সাবেক সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুজ্জামান নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিজিএমইএ-এর সাবেক সভাপতি, আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ও বর্তমান সংসদ সদস্য টিপু মুন্সী এবারও রংপুর থেকে নির্বাচন করতে চান।

জানা গেছে, বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান খান বাবু এখন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আগামী সংসদ নির্বাচন করতে চান চুয়াডাঙ্গা-২ (জীবননগর ও দামুড়ডাঙ্গা) আসন থেকে। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক। বিজিএমইএর আরেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাসির নৌকাতেই ভরসা রেখে চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিজিএমইএ-এর আরেক সহ-সভাপতি ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এস এম মান্নান কচি নৌকার মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। নরসিংদী-৪ (বেলাব ও মনোহরদী) থেকে তিনি নির্বাচন করতে চান।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে সাতক্ষীরা থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক ড. কাজী এরতেজা হাসান। ভোরের পাতা গ্রুপের এই কর্ণধার ইরান-বাংলাদেশ চেম্বারের সভাপতি। তিনি সাতক্ষীরা থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান।

রাজধানীর গুলশান থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন- এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক হাবিব উল্লাহ ডন। গাড়ি, ব্যাংক, পর্যটনসহ বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এই ব্যবসায়ী নেতা বেসরকারি এক্সিম ব্যাংকের পরিচালক। একই সঙ্গে তিনি বারভিডা ও সিআইএস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি। এফবিসিসিআইয়ের আরেক পরিচালক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবু নাসের নৌকা নিয়ে টাঙ্গাইলের কালিহাতী থেকে এমপি হতে চান। তিনি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জনতা ব্যাংকের সাবেক এই পরিচালক।

রাজধানীর পুরান ঢাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও এফবিসিসিআই পরিচালক আবু মোতালেব ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ-সভাপতি। ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি প্রয়াত নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর ঘনিষ্ট বন্ধু ব্যবসায়ী নেতা আবু মোতালেব ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে সংসদ নির্বাচন করতে চান কুমিল্লা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আফজাল খানের পুত্র ও এফবিসিসিআই পরিচালক মাসুদ পারভেজ খান ইমরান। বর্তমানে আফজাল খান কুমিল্লা-৬ এর বর্তমান সংসদ সদস্য।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক নাগিবুল ইসলাম দিপু নেত্রকোনা-৩ আসন (কেন্দ্র আতপাড়া) থেকে, এফবিসিসিআই পরিচালক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন সোনারগাঁও থেকে, তোবারাকুল তোসাদ্দেক হোসাইন টিটু মানিকগঞ্জ থেকে নির্বাচন করতে চান।

কুমিল্লা-৭ আসনে ( চান্দিনা) বর্তমান সংসদ সদস্য আলী আশরাফের ছেলে মুনতাকিম আশরাফ এবার মনোনয়নপ্রত্যাশী। চান্দিনা আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান ব্যবসায়ী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত।

চুয়াডাঙ্গা থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক দিলীপ কুমার আগারওয়ালা। তিনি চুয়াডাঙ্গা চেম্বারের সভাপতি ও বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক। নরসিংদী-৪ (বেলাব ও মনোহরদী) থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান বিকেএমইএর সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি আসলাম সানি। জামালপুর থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী এফবিসিসিআইয়ের আরেক পরিচালক রেজাউল করিম রেজনু।

বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ীদের মধ্যে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আরো আছেন- ঢাকা থেকে শাহাবুদ্দিন আহমেদ, আব্দুল মান্নান ও আবু আশফাক, নারায়ণগঞ্জ থেকে মাহাবুবুর রহমান সুমন, নজুরুল ইসলাম আজাদ, দীপু ভুইয়া ও শাহ আলম। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাজমুল আনোয়ার, নাছিরউদ্দীন হাজারী, খালেদ মাহাবুব, কুমিল্লা থেকে আবুল কালাম চৈতী, হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াসিন, মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়া, আলাউদ্দিন আহমেদ, জাকারিয়া তাহের সুমন, কর্নেল আনোয়ারুল আজিম, চাঁদপুর থেকে শেখ ফরিদউদ্দিন আহমেদ মানিক, লায়ন হারুনুর রশীদ, আব্দুল হান্নান, ইঞ্জিনিয়ার মমিনুর রহমান, জি এম ফজলুল হক, ড. জালাল উদ্দিন, শরীয়তপুর থেকে জামাল কামাল ও কিরন আহমেদ, জয়পুরহাট থেকে ফয়সাল আলিম, দিনাজপুর থেকে হাফিজুর রহমান, নীলফামারী থেকে শামসুজ্জামান, বগুড়া থেকে শুকরানা আহমেদ, বগুড়ার জি এম সিরাজ, পাবনা থেকে সঞ্জু খান, টাঙ্গাইল থেকে স্বপন ফকির ও আব্দুল মতিন, জামালপুর থেকে রশিদুজ্জামান মিল্লাত, শেরপুরের হযরত আলী, ময়মনসিংহের জাকির হোসেন বাবলু, গাজীপুরের সাইয়্যেদুল আলম বাবুল, মানিকগঞ্জের আফরোজা খান রিতা ও মইনুল ইসলাম, চট্টগ্রামের শামসুদ্দিন, আসলাম চৌধুরী ও এরশাদুল্লাহ, ফরিদপুরের নাসিরউদ্দিন, মাগুরায় কাজী সলিমুল হক কামাল, যশোরের টি এস আইয়ুব, মেহেরপুরের মিল্টন মোর্শেদ, খুলনায় অধ্যাপক মাজেদুর রহমান, শাহ শরীফ কামাল তাজ ও বাগেরহাটের ড. শেখ ফরিদুল আলম প্রমুখ।

Total View: 544

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter