মঙ্গলবার,  ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ৭ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ৮:৫৫

কথিত ওয়েব সিরিজ নিয়ে কিছু কথা, কিছু প্রশ্ন !

জুন ২০, ২০২০ , ০৮:৪৮

রেজাউল হক রেজা
মুশকিল হলো আমরা বর্তমানে এমন এক সময়ে আছি, যেখানে সকল অনিয়মকেই নিয়মে পরিণত করার ব্যর্থ চেস্টা করছে এক শ্রেণীর বখে যাওয়া লোক! তার প্রভাব পরেছে আমাদের টেলিভিশন এবং সোস্যাল মিডিয়ায়। কয়েক বছর হয় আমাদের এই টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতেও সেই শ্রেণীর কিছু লোকের আবির্ভাব হয়েছে। তারা নাকি আবার এই সময়ের জনপ্রিয় আর ব্যস্ত নির্মাতা! আসলেই কি তাই ? যদি তাই সত্যি হয়, তাহলেই উপলব্দি করা যায় আমাদের মিডিয়া কোন দিকে যাচ্ছে !

আমি টেলিভিশন এবং সোস্যাল মিডিয়াতে প্রযোজক হিসেবে কাজ করছি সেই ২০০৩ সাল থেকে। টেলিভিশন এবং ডিজিটাল প্রোগ্রাম প্রোডিউসারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টেলিপ্যাব) এর বর্তমান কমিটির আমি নির্বাচিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। প্রযোজনা ব্যবসা শুরু করার অনেক আগে থেকেই এই ইন্ডাস্ট্রিতে বিনোদন সাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করি। আমি মনে করি, দেশের বিনোদন মিডিয়ার সাথে যারা যুক্ত অর্থাৎ নাট্যকার, নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী, হাউস ওনার, সিনেমাটোগ্রাফার, টেলিভিশন পত্রিকার বিনোদন বিভাগ, বিনোদন সাংবাদিক এমন কি একজন ট্রলিবয় ও এই ইন্ডাস্ট্রির অংশ। আমাদের হাজারো বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করে আসছে আমাদের টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রি আর ডিজিটাল প্লাটফর্ম।

এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করে নিজের মধ্যে এক ধরনের সান্তনা খুঁজে পাই যে, কোনো খারাপ কাজের সাথে তো আর যুক্ত নই। একটা সময়ে পাশের দেশ থেকেও অনেক উপরে এন্টেনা টাংগিয়ে তারা আমাদের টেলিভিশন নাটক দেখতেন। তাই এই মাধ্যমে কাজ করার এক ধরনের আনন্দও হতো বেশ। মাঝে মাঝে কোনো আড্ডায় গেলে কিংবা নাটক সংশ্লিষ্ট কোনো আলোচনা উঠলে দেখি কিছু মানুষদের আমাদের মিডিয়া নিয়ে তাদের নানা ধরনের নাক সিটকানো কথা! সুযোগ পেলেই এক হাত দেখিয়ে দেয়ার প্রবণতা। সেই সব আড্ডায় মিডিয়া কিংবা আমাদের ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে নেগেটিভ কথা শুনলেই জোরালো প্রতিবাদ করতাম! তাদেরকে বোঝাতাম যে, আমরা যারা এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করি, তারা সমাজের অন্যমাধ্যমের অনেকের চেয়ে বেশী ভালো এবং পরিচ্ছন্ন কাজ করি। মিডিয়া নিয়ে যেহেতু মানুষের জানার আগ্রহ বেশী তাই আমাদের শিল্পীদের নিয়ে বাড়তি নেগেটিভ কথা ছড়ানো হয়ে থাকে। আসলে এখানকার কাজের জায়গাটা অনেক ভালো এবং নিয়মতান্ত্রিক। অনেক ক্ষেত্রে কর্পোরেটের চেয়ে আমাদের এই মাধ্যমে মেয়েরা সাচ্ছন্দে কাজ করতে পারেন। যার কারণে অনেক ভালো, ভদ্র এবং উচ্চ শিক্ষিত ছেলে মেয়েরা আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে নিয়মিত কাজ করছেন।

যারা সামনে মুখ উচু করে এই সব বলে, তাদেরকে তর্কে হারিয়ে জিতে এসেছি, সেইসব মানুষগুলোর সামনে এই মুখ আর কিভাবে দেখাই! আমি ঠিক বুঝিনা আমাদের তথাকথিত আধুনিক নির্মাতারা ওয়েব সিরিজের নামে এই ধরনের পর্নো নির্মাণ করে আমাদের এই মিডিয়াকে কোথায় নিতে চায়? তারাইবা কি ধরনের আনন্দ পান ? নাকি নানা উল্টা পাল্টা কাজ করে তারা সব সময় আলোচনায় থেকে এক ধরনের জৈবিক আনন্দ নেন! আর যে সকল প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ওয়েব সিরিজের নামে এইসব নোংরামি করছেন তাদের ই বা কি উদ্দেশ্য? ভিউ বাড়িয়ে টাকা উপার্জন করা ? যদি তাই হয় তাহলে তো টাকা উপার্জনের ভিন্ন পন্থাও আছে। সেই রাস্তায় হাটলেই হয়। অযথা আমাদের গর্ব করার মতো এই ইন্ডাস্ট্রিকে কলংকিত করবেন না। এই ওয়েব সিরিজে যারা অভিনয় করলেন তারা হয়তো তাদের ব্যক্তিগত জীবনকে এই করোনার মতো আর বদ্ধ ঘরে রাখতে পারছিলে না। তাই সবার সামনে প্রকাশ করে নিজের সম্পর্কে এক ধরনের পরিস্কার ধারণা দিয়ে দিন ! তিনি বুঝতেও পারলেন না তার এই সব নোংরামির ফলে এই ইন্ডাস্ট্রির কতো বড় ক্ষতি হয়ে গেলো।
খুব-ই অবাক হলাম, এই মিডিয়ার অনেক গুনীজনেরাও এই ধরনের পর্নো ভিডিওতে কাজ (একে অভিনয় না বলে কাজ বলাই ভালো) করেছেন ! তারা কি বলবেন ? আসলে আমিতো বুঝতে পারিনি এতোটা নোংরামি করবে নির্মাতা। তাদের এই ধরনের মিথ্যা ব্যাখ্যা বিশ্বাস করবেন না যারা এই সোস্যাল মিডিয়ায় এই নোংরামি দেখেছেন তাদের কাছে।

অনেক বছর ধরে এই ইন্ডাস্ট্রির সাথে যুক্ত থেকে নানা মাধ্যমে কাজ করছি গর্বের সাথে ! জোড় গলায় বলতে পারি আমার হাউজের কাজ এবং কাজের গল্পের মধ্যে কোনো নোংরামি নেই। সঠিক রাস্তায়ই আমরা আমাদের মিডিয়াকে সামনের দিকে পথ দেখাচ্ছি। কিন্তু সম্প্রতি এইসব তথাকথিত ওয়েব সিরিজ আমাদের সেই গর্বের জায়গাকে কলংকিত করেছে। দুঃখ হচ্ছে আমার সন্তান কি তার বন্ধু কিংবা পরিচিত জনদের কাছে গর্ব করে বলতে পারবে যে তার বাবা টেলিভিশন কিংবা সোস্যাল মিডিয়ার একজন প্রোডিউসার ? আর এই ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে যে সকল বিনোদন সাংবাদিক কাজ করেন তারাই বা পরিবারের কাছে কি জবাব দিবেন ? উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত ছেলে মেয়ারা কি এই পেশায় কাজ করতে আগ্রহ দেখাবে ! কিংবা তাদের বাবা মা বিনোদন সাংবাদিকতা করতে অনুমতি দিবেন কি? তাহলে সামান্য কয়েকজন উল্টা পাল্টা মানুষদের জন্য আমরা কি এতো বছরের ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে চলে যাবো নাকি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো ?
এখনি যদি আমরা এই সব তথাকথিত ওয়েব সিরিজের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হই তাহলে আগামী প্রজন্মের কাছে আমাদের বলার কিংবা করার কিছুই থাকবে না!
লেখক: যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রোডিউসারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টেলিপ্যাব)

Total View: 297

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter