বৃহস্পতিবার,  ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  দুপুর ২:৫০

কনডমের বিজ্ঞাপন দিনে নয়, শুধুই রাতে

ডিসেম্বর ১৪, ২০১৭ , ০৮:৩৭

স্টাফ রিপোর্টার

ভোর ছয়টা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত কোন টিভি চ্যানেলে কনডমের বিজ্ঞাপন দেখানো যাবে না বলে নির্দেশনা দিয়েছে ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

ওই সময়ে বেশীর ভাগ বাচ্চারা টিভি দেখে। আর কনডমের বিজ্ঞাপনগুলো তাদের ওপরে খারাপ প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এ ধারণা থেকেই এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়।

রাত দশটা থেকে পরের দিন ভোর ছটা পর্যন্ত কনডমের বিজ্ঞাপন দেখালে তার উপর কোন বাধা নিষেধ থাকবে না।

সেক্ষেত্রে দেশের সব কটি টিভি চ্যানেলের কাছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এই নির্দেশ পাঠিয়েছেন। কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক রুলস-এ বলা হয়েছে, যেসব বিজ্ঞাপন শিশুদের সুরক্ষা বিঘ্নিত করতে পারে এবং তাদের মনে অস্বাস্থ্যকর বিষয়ে কৌতূহল তৈরি করতে পারে, এমন বিজ্ঞাপন দেখানো যাবে না।

কনডমের বিজ্ঞাপন গুলির প্রতি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল অ্যাডভারটাইজিং স্ট্যান্ডার্স কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া।
গত সেপ্টেম্বরে সানি লিওন অভিনীত একটি কনডমের বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে গুজরাটের সুরাট শহরে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়।
গুজরাটের বড় উৎসব নবরাত্রির আগে ওই বিজ্ঞাপনে বার্তা দেয়া হয়েছিল, খেল, কিন্তু ভালবাসার সঙ্গে।

হিন্দু যুব বাহিনী ওই বিজ্ঞাপনটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিল। একটা জনপ্রিয় ধারণা রয়েছে, যে গুজরাটে নব রাত্রির উৎসবের সময়ে অনেক অবিবাহিত নারীই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে গর্ভবতী হয়ে পড়েন। এ নিয়ে বিতর্কও রয়েছে প্রচুর।

সেই প্রচলিত ধারণাকে কেন্দ্র করেই গুজরাটিদের উদ্দেশ্যে নব রাত্রির সময়ে কনডমের ব্যবহার বাড়াতে আর তাদের নিজের পণ্য বিক্রি করার উদ্যোগ নিয়েছিল ওই বিশেষ ব্র্যান্ড। কিন্তু বিজ্ঞাপনটি নিয়ে প্রতিবাদ শুরু হওয়ায় প্রায় ৫০০ হোর্ডিং গুজরাত থেকে সরিয়ে নিয়েছিল ওই কনডম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটি।

আর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অ্যাডভারটাইজিং কাউন্সিলে অভিযোগ জমা পড়ে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়ে দিয়েছিল যে বিজ্ঞাপনের বিষয়বস্তু নিয়ে তাদের কিছু বলার নেই, তবে তাদের পক্ষে কোনও পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচারের সময় বেঁধে দেয়া সম্ভব নয়। তাই বিষয়টি মন্ত্রকের কাছে পাঠানো হয়েছিল বিবেচনার জন্য।

কেউ কেউ বলছে কিশোর-কিশোরীদের তো জানা উচিত কনডমসহ নানা ধরণের গর্ভনিরোধকের ব্যাপারে। তাহলে তারা অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ বা এইডস-এর ব্যাপারে সচেতন থাকতে পারবে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের এই নির্দেশে বিতর্ক কেন?
কেউ বলছেন, সত্যিই পরিবারের সঙ্গে বসে টিভি দেখার সময়ে হঠাৎ কনডমের বিজ্ঞাপন চলে এলে বেশ অস্বস্তিতেই পড়তে হয়। কেউ আবার বলছেন এমন বহু সিরিয়াল বা সিনেমা সারাদিন ধরেই দেখানো হয়, যেখানে পারিবারিক হিংসা, একাধিক নারীর সঙ্গে বিবাহের মতো ক্ষতিকারক বিষয় থাকে। শিশুদের উপরে কুপ্রভাব পড়ে। তাই বন্ধ করতে হলে সেগুলোও বন্ধ করা উচিত।

কেউ কেউ আবার মনে করছেন যে কনডমের বিজ্ঞাপনগুলো আজকাল একটু বেশিরকমেরই উত্তেজক হয়ে যাচ্ছে। পরিবার নিয়ন্ত্রণ বা এইডস্-এর মতো মারণ রোগের প্রতিরোধে কনডমের যে গুরুত্ব, সেই বার্তা কিছুটা খাটো হয়ে যাচ্ছে।

মুম্বাইয়ে বিজ্ঞাপন ফিল্ম তৈরি করেন শৌভিক রায়। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটা যুগে বাস করছি, যেখানে যৌন-শিক্ষা বা খারাপ-ছোঁয়া, ভাল-ছোঁয়া এগুলোও যেমন দশ এগারো বছর থেকেই শেখানো দরকার, তেমনই পরিবার নিয়ন্ত্রণ বা এইডসের সম্বন্ধেও ধারণা দেয়া দরকার। তবে এখন কনডমের বিজ্ঞাপনগুলোর মধ্যে অনেক গুলোই সেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়ার বদলে যৌন আবেদনের সীমার কাছাকাছি চলে যাচ্ছে। অনেক গুলিতেই যৌনসুড়সুড়িও দেয়া হয়। ভারতীয় সমাজে এখনও বেশির ভাগ বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে বসে টিভি দেখার চল রয়েছে।

তাই কনডমের যেসব বিজ্ঞাপন কিছুটা উত্তেজক, যা সফট পর্ণোগ্রাফির কাছাকাছি চলে যায়, অথবা গোটা বিষয়টাকে একটা মজা করার বিষয়বস্তু হিসাবে তুলে ধরে, সেই বার্তাটা ছোট বাচ্চাদের সামনে না দেয়াই শ্রেয় বলে মনে করেন শৌভিক রায়।
জাতীয় শিশু সুরক্ষা কমিশনও কনডমের বিজ্ঞাপনের সময়সীমা বেঁধে দেয়ার এই সরকারি নির্দেশনাকে স্বাগত জানিয়েছে।

অনেকে প্রশ্ন তুলছেন সারাদিন ধরে টিভিতে যেসব সিনেমা বা সিরিয়াল হয়, সেগুলো কি শিশুদের ওপরে খারাপ প্রভাব ফেলে না? তবে কনডমের বিজ্ঞাপনের সময়সীমা বেঁধে দেয়ার বিরুদ্ধ মতও দেখা যাচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে।

`অপেক্ষা` নামের এক টুইট ব্যবহারকারী লিখছেন, “মনে হচ্ছে কনডমের বিজ্ঞাপন দেখে ছোটদের থেকে বড়রাই বেশি অস্বস্তিতে পড়ে। কিন্তু ছোটরা অন্য যা সব ছবি, ভিডিও দেখছে বা যেসব গান শুনছে – সেগুলোও কি সব সময়ে রুচিকর?”
পশ্চিমবঙ্গ শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন অনন্যা চ্যাটার্জীও উল্লেখ করেছিলেন এই বিষয়টি।
তাঁর কথায়, “সারাদিন ধরে যেসব সিনেমা বা সিরিয়াল হয়, সেগুলো কি শিশুদের ওপরে খারাপ প্রভাব ফেলে না? সেগুলোতে কি পারিবারিক হিংসা, বেআইনীভাবে একই পুরুষের দুতিনটি বিয়ে এসব দেখানো হয় না? শুধু কনডমের বিজ্ঞাপন কেন, তাহলে ওইসব সিনেমা সিরিয়ালও বন্ধ হোক। ওগুলো বন্ধ করা বেশি জরুরি।

“একেবারে ছোট বাচ্চাদের ওপরে কনডমের বিজ্ঞাপনের প্রভাব হয়তো পড়তে পারে, কিন্তু কিশোর-কিশোরীদের তো জানাই উচিত কনডসহ নানা ধরণের গর্ভনিরোধকের ব্যাপারে। তাহলে তারা অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ বা এইডস-এর ব্যাপারে সচেতন থাকতে পারবে,”বলছিলেন মিসেস চ্যাটার্জী।

`যশ সিঙ্গলা` টুইটারে মন্তব্য করেছেন, “কেন জনসংখ্যার দিক থেকে একেবারে প্রথম সারিতে আছে ভারত, জানেন সেটা? কারণ এই দেশে মানুষ কনডমের ব্যাপারে অজ্ঞ আর সেটা কিনতে তারা লজ্জা পায়। কন্ডোমের বিজ্ঞাপনে কি পর্নোগ্রাফি দেখানো হয় যে সেটা বন্ধ করতে হবে?”

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে পরিবার পরিকল্পনার অংশ হিসাবে সরকারি কনডমের বিজ্ঞাপন তিন চার দশক ধরেই ভারতের টিভি তে দেখানো হত। সেগুলোতে অবশ্য মূলত “ছোটপরিবার, সুখী পরিবার“ ধরণের বার্তাই দেয়া হত।

জন্মনিয়ন্ত্রণের বিষয়ে নববিবাহিত দম্পতিদের অবহিত করার জন্য কনডমসহ বেশ কয়েকধরণের গর্ভনিরোধক বড়ি আর কয়েকরকমের প্রসাধনী উপহার দেয়ার ব্যবস্থা নিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার।

Total View: 1491

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter