বৃহস্পতিবার,  ২২শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  বিকাল ৫:৪৭

কবি এ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান জুয়েল এর চল্লিশা উৎসব-২

মার্চ ১৯, ২০১৯ , ০০:০১

কমিটি কমিটি খেলা
লেক্সাস বিস্কিট আর চায়ে কাটে বেলা।

চল্লিশ বৎসর পূর্তি উৎসব হবে। খবরটা কানে যেতেই ছুটে গেলাম একদিন। তখন কি আর জানতাম যে অনুষ্ঠানের চল্লিশা ঘটাবে! কি কি হবে, কিভাবে হবে, কখন হবে, কারা করবে, অর্থ কিভাবে আসবে, কিভাবে খরচ হবে নানান বিষয় নিয়ে আলোচনা হলো। কাজগুলো করতে যতটা প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন কাজগুলো ঘেটে ‘ঘ’ করতে আলাদা আলাদা কমিটি তৈরী ও কিছু লোভী ও সুযোগ সন্ধানী মানুষ।

প্রথমেই একটা কমিটি হলো যাকে উৎযাপন পরিষদ নাম দেয়া হলো। কেউ কেউ এটাকে নাম দিলো মূল কমিটি। আমার কাছে মনে হয় এটাকেই বলে মুলা কমিটি। যে কমিটির গুটিকয়েক লোক তাদের আখের গুছাবে আর বাকীরা মুলার দিকে চেয়ে থাকবে। সেই গুটিকয়েক লোক ছাড়া বাকীরা শুধু সেক্রিফাইস… সেক্রিফাইস…আর সেক্রিফাইস করবে। কী আজব দেশ আমাদের। কোন জবাবদিহিতার বালাই নেই। যে যেই দায়িত্ব পাকনা কেন করে যাও, জবাব দিতে হবে না। সেটা ছোট হও কি বড়, ভালো হও কি চোর, সাধু হও কি বদমাশ, আলেম হও কি জালেম, মাষ্টার হও কি ডাস্টার!

দেখতে দেখতে কমিটি হলো। মুলা কমিটিতে দেখি আমার নাম স্বগৌরবে জ্বলজ্বল করছে। খুশিতে মনটা ভরে গেলো, তৃপ্তিতে তিনদিন পানি পিপাশা কি জিনিস বুঝতেই পারিনি! এক মুলা কমিটি দিয়েতো আর সব কাজ করা যাবে না। মূল উদ্যেশ্যতো টাকা। টাকা হাতাতে কি কি দরকার সেটায় যেতে হবে। একটা খয়রাত কমিটি দরকার। হয়ে গেলো কমিটি। অনুষ্ঠানকে অনুষ্ঠানের রূপদানের জন্য মানুষ সংগ্রহ দরকার। সে কাজটা করতে হলে রেজিষ্ট্রেশন কমিটি দরকার, হয়ে গেলো, যথারিতি আমি এখানেও আমার নাম দেখে পূলকিত। একটা ম্যাগাজিন কমিটি দরকার। হয়ে গেলো, যথারিতি এখানেও আমার নাম স্বর্ণাক্ষরে জ্বলে উঠলো। মাথা উচু হয়ে গেলো, বুক ফুলে উঠলো! আসলে পেট ফুলে উঠেছে চর্বিতে আর গ্যাগে (বাপের রোজগারের পয়সায় খেয়ে-মানুষের ভরা মেয়ে হারন্ত হইনি)। পেট ফুলে উঠায় বুকও ফুলে উঠেছে গ্যাসট্রিকে তা পরে বুঝেছি!

বিভিন্ন কমিটিতে নাম দেখে ভাবলাম, ম্যাগাজিনে অন্তত নিজের ছবিটা আসবে, কারন আমি এ কমিটির একজন সম্মানিত মেম্বার! রেজিষ্ট্রেশনও হয়ে যাবে ঠিকমত কারন আমিযে ঐ কমিটির সদস্য। আর অনুষ্ঠানের দিন আমার জন্য বরাদ্দ ব্যাগ, গেঞ্জি, টুপি সর্বশেষ খাবারের প্যাকেট কে নেয়? আমি মুলা কমিটির সদস্য আমায় কী এসব না দিয়ে পারে? বাড়িতে খুব হম্বিতম্বি করলাম। পরিবারের, ভাই-ভাবি-বোনদের রেজিষ্ট্রেশন, সাথে শাশুরির রেজিষ্ট্রেশন শ্লিপও রেখে দিলাম নিজের কাছে। তারা কেন কষ্ট করে এগুলো সংগ্রহ করবে। আমি আছি না মূলা কমিটির লোক? তারা বসে বসে অনুষ্ঠান দেখবে। আমি সব সংগ্রহ করে দেখাবো আমি কতবড় হনু!!

অথচ কি ঘটলো? অনুষ্ঠানের দিন সকাল দশটায় গিয়ে দেখি কোন ব্যাগ নেই। ব্যাগ নেই তো খাবার কুপনও নেই। খাবার কুপন নেই তো ম্যাগাজিন, গেঞ্জি, ক্যাপও নেই। এবার নিজেরাই বুঝুন। কতবড় শরমের কথা! মূহুর্তের মধ্যে ইজ্জতের বেলুনে কে যেন সুই ফুটালো। চুপসে গেলো ইজ্জত। এই অবস্থা শুধু আমার সাথেই ঘটেছে তা কিন্তু নয়। অনুষ্ঠানে আগত হাজার হাজার নিবন্ধিত ছাত্র-ছাত্রী এমনটির মুখোমুখি হয়েছেন। সবাই সারা দিন না খেয়ে কেউ হোটেলে খেয়ে বাড়ি গিয়ে বিরিয়ানির ঢেকুর তুলেছে আবার কেউ বিকালে গিয়ে বাড়িতে ভাত চেয়ে খেয়েছে লজ্জার মাথা খেয়ে!

আমি যে কথাগুলো লিখছি সেটা শুধুই আমার একার কথা নয়। আমার একার কথা হলে চুপ হয়ে যেতাম। কিন্তু আমি যাদের নিবন্ধন করে দিয়েছি কারোরই ছবি আসেনি ম্যাগাজিনে, কেউ ব্যাগ, গেঞ্জি, টুপি, ম্যাগাজিন পায়নি। তারাতো সবাই আমাকেই চেনে। লাল মিয়া বা কালা মিয়া বা ধলা মিয়াকেতো চেনে না। অথচ লাল মিয়া-ধলামিয়ারা আজ আমার লেখা পড়েই হোক আর শুনেই হোক আমার পারিবারিক স্টাটাস নিয়ে প্রশ্ন তোলো। আমার পারিবারিক স্টাটাস নিয়ে প্রশ্ন তোলার কিছু নেই। আমি রাজাকার পরিবারের সন্তান নই, আমি ধনীর দুলাল নই, আমি দালালের সন্তান নই। আমি এক সাধারণ ব্যবসায়ীর ছেলে। আমার বাবা একজন ইন্টারমিডিয়েট পাস ব্যক্তি। তৎকালীন সময়ে সরকারি চাকুরি করলে লালমিয়া-সাদামিয়ার মত লোক গাবুর রাখেতে পারতেন। কিন্তু আমার বাবা একজন সাধারণ ব্যক্তি। আমি একজন সাধারণ ব্যক্তি। আমি আওয়ামীলীগ করি, কিন্তু আওয়ামীলীগের নাম বিক্রি করে সুবিধাভোগী নই। তাই বড় বড় কথা বলতে পারি। আমি নেতাদের নাম বিক্রি করে ভিক্ষাবৃত্তি করি না। মনে রাখা উচিত, প্যান্টের ভিতর ঢুকলেই নেতা হয়ে যায় না!

যাহোক, সেই বঞ্চিত, নিপীড়িত, অবহেলীত মানুষগুলো আজ আমাকে যখন প্রশ্ন করে তখন আমি তাদের কাছে এই লেখার মাধ্যমে ক্ষমা চাই, যেটা আমি করতে পারি। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাস করি। বঙ্গবন্ধু তাঁর সারাজীবন বঞ্চিত, নিপীড়িত, অবহেলীত মানুষের জন্য কথা বলেছেন, কাজ করেছেন। তাঁর আদর্শে বিশ্বাসী একজন সৈনিক হয়ে যদি আমি কথা না বলি তবেই আমি হয়ে যাবো দালাল, দালালের সন্তান, সুবিধাভোগী, সুযোগ সন্ধানী।

এরপর…..

বিঃ দ্রঃ আমার এই লেখায় কেউ যদি সংক্ষুব্ধ হন তবে আমার বিরুদ্ধে কোন এ্যাকশনে গিয়ে লাভ নেই। কেন লাভ নেই তা একটা কৌতুকের মাধ্যমে বলি-
এক যুবককে পুলিশে ধরেছে। বিচারকের সামনে হাজির করলে বিজ্ঞ বিচারক যুবককে বললো-
-তোমার বিরুদ্ধে দেশের অর্থ মন্ত্রীকে বেকুব বলার জন্য চার্জ গঠন করা হলো।
যুবক-আমিতো কোন দেশের অর্থ মন্ত্রী তা বলি নাই। আমি উগান্ডার অর্থ মন্ত্রীকে বলেছি।
বিচারক-কোন দেশের অর্থ মন্ত্রী বেকুব আমরা জানিনা মনে করো? আমাদেরকে দেখে কি তোমার আবুল মনে হয়?
কোথায় হয়েছে উৎসব আর কে লাল মিয়া, কে সাদামিয়া তা কিন্তু আমি বলিনি!
আবার হবে দেখা.. এ লেখাই শেষ লেখা নয় তো…

Total View: 369

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter