বুধবার,  ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  বিকাল ৫:১৮

‘কোনো রাজনীতি নয়, এসকে সিনহা সত্য লিখেছেন’

সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৮ , ২৩:৩২


স্টাফ রিপোর্টার
সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। কাজেই তিনি সরকারকে বিপদে ফেলতে এ রকম বই লেখেন নাই বা প্রকাশ করেন নাই। এক প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

২১ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে সুপ্রিম কোর্ট বার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জয়নুল এমন কথা বলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে জয়নুল বলেন, ‘এসকে সিনহা বিচারপতির দায়িত্ব পালন করার সময়ই বিচার বিভাগ নিয়ে কথা বলেছেন। এসকে সিনহা দায়িত্ব পালন করা অবস্থায়ই বলেছিলেন দেশের অধঃস্তন আদালতগুলোকে সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে, উচ্চ আদালতকে কব্জায় নিতে চায়। সঠিক কথা বলার কারণেই বিচারপতি সিনহাকে দেশত্যাগ করাতে ও পদত্যাগ করাতে বাধ্য করেছে সরকার।’

নির্বাচনকে সামনে রেখে ও সরকার বিপদে ফেলতে এ রকম করছে কিনা বিচারপতি সিনহা? এমন প্রশ্নের জবাবে জয়নুল বলেন, ‘এটার সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। আর তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য নন। তিনি একজন বিচারপতি। তিনি বিচার বিভাগকে রক্ষা করতে চেয়েছিলেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য কথা বলেছেন।

সে সময়ের আপিল বিভাগের বিচারপতি আব্দুল ওয়াহহাব মিঞার বিচারপতি সিনহাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন আপিল বিভাগের বিচারপতিরা আপনার সঙ্গে এক এজলাসে বসে বিচার কাজ পরিচালনা করতে চায় না। বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞার এ রকম বক্তব্য ছিল সংবিধান পরিপন্থি। বিচারপতি এসকে সিনহা অটল ছিলেন। স্বাধীনতা পরিপন্থি কোনো চাপের মুখে নতি স্বীকার করতে চাননি সিনহা। কিন্তু সরকারের সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করে এসকে সিনহাকে দেশ ত্যাগ করাতে এবং পরবর্তিতে তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করে সরকার।’

‘আমরা সে সময় আপনাদের (গণমাধ্যম) মাধ্যমে পরিষ্কার করে বলেছি যে, মাননীয় প্রধান বিচারপতি অসুস্থ্য নয়। তখনই বলেছিলাম ষোড়শ সংশোধনীর রায়কে কেন্দ্র করে মাননীয় প্রধান বিচারপতি সিনহাকে দেশ ত্যাগ করাতে বাধ্য করা হয়েছে। আমি অত্যন্ত গভীরভাবে লক্ষ করেছি যে, সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে চাপ প্রয়োগ করে পদত্যাগ করিয়ে পুরো বিচার বিভাগকে এখন নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

নিম্ন আদালতের জজেরা স্বাধীনভাবে বিচার কাজ পরিচালনা করতে পারছেন না। দেশের মানুষ আজ অসহায়। সরকারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো রায় এবং কোনো রায় দেওয়ার আগে পরিনতি কী হবে, সেটি রায়ের আগে স্বরণ করিয়ে দেয়। সমস্ত বিচার বিভাগ এখন নির্বাহী বিভাগের ভয়ের মধ্যে রয়েছে। তারা স্বাধীনভাবে রায় লিখতে পারছেন না। রায় ঘোষণাও করতে পারছেন না।’

জয়নুল বলেন, ‘সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলনে রায় দিতে হচ্ছে তাদের। গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত হচ্ছে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা এবং আইনের শাসন। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থায় বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগের চাপের মুখে রয়েছে। সাবেক প্রধান বিচারপতির অন্তরজ্বালা আছে। তার কারণ বাংলাদেশের বিচার বিভাগে তার অনেক অবদান আছে। সেই কারণেই তার অন্তরজ্বালা রয়েছে। এটা মনগড়া কথা নয়। এটা বাস্তব। বাস্তব কথাই বলেছেন সিনহা। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা আজকে ধ্বংকের দ্বারপ্রান্তে। নির্বাহী বিভাগ পূর্ণ করায়ত্ব করতে যাচ্ছে সরকার। যখন তিনি প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে ছিলেন তখনই তিনি এ কথাগুলো বলেছিলন।’

নিম্ন আদালতকে নিয়ন্ত্রণ করেছে সরকার দায়িত্ব পালনের সময় বিচারপতি এসকে সিনহা এমন কথা বলেন নাই বলে ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য সঠিক না উল্লেখ করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল বলেন, ‘এসকে সিনহা বিচারপতি থাকা অবস্থায় এ কথাগুলো বলেছিলেন। সিনহা বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ খেয়ে ফেলছে। নিম্ন আদালতগুলো অলরেডি করায়ত্ব করে ফেলেছে। উচ্চ আদালতও করায়ত্ব করতে চাচ্ছে। বিচারপতি সিনহাকে পদত্যাগ করানোর পরেই আরও ভীতি সঞ্চয় করানো হচ্ছে একটি ট্রাইব্যুনালের ওপর। সিনহার পদত্যাগের পরেই খালেদা জিয়ার অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।’

বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন ‘দেশের মানুষের মধ্যে বিশ্বাস জন্মেছে যে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়টিও বিচার বিভাগের ওপর চাপ প্রয়োগ করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে দেওয়া হয়েছে। আমরা বার বার বলেছি বেগম খালেদা জিয়ার এই মামলার সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। খালেদা জিয়া এই মামলার বেকসুর খালাস পাওয়ার যোগ্য। তারপরেও ওই মামলায় তাকে সম্পৃক্ত করা হয়ছে। রায় ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস বিচার বিভাগকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। চাপ প্রয়োগ করে এই রায় হাসিল করেছে সরকার। খালেদা জিয়ার বিচার করতে কারাগারের ভেতরে আদালত বসিয়ে চাপের মুখে খালেদা জিয়ার বিচার করা হচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি গোলাম রহমান ভূঁইয়া, এডভোকেট গোলাম মোস্তফা, কোষাধ্যক্ষ নাসরিন আক্তার, সহ-সম্পাদক কাজী জয়নুল আবেদীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, ঢাকা বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম মিয়া, অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা, অ্যাডভোকেট মো. ফারুক হোসেন ও ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

Total View: 672

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter