বৃহস্পতিবার,  ২১শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,  ৭ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ৪:২৪

কোরআন শিক্ষার নামে সদস্য সংগ্রহ করছে জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম

ডিসেম্বর ২৬, ২০১৭ , ২৩:১০

রাজশাহী প্রতিনিধি

কোরআন শিক্ষার নামে তরুণদের দলে ভিড়িয়ে সদস্য সংগ্রহ করছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার ইসলাম। রাজশাহীতে আনসার আল ইসলামের চার সদস্যকে আটকের পর এমন তথ্য দিয়েছে র‌্যাব।
র‌্যাব বলছে মানুষের ধর্মভীরুতাকে কাজে লাগিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনটি এ এলাকা থেকে সদস্য সংগ্রহের কাজ করছিল।
সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৫ এর অধিনায়ক মাহবুবুল আলম জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে পুঠিয়ার ক্ষুদ্র জামিরা গ্রামের বোরজাহানের কলাবাগানে আনসার আল ইসলামের সদস্যরা নাশকতার উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছে- এমন খবরে র‌্যাব সদস্যরা অভিযান চালিয়ে হায়াতুল্লাহ রুবেল, আব্দুর রহিম ও মিজানুরকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে তাদের দেয়া তথ্যে রাত পৌনে ৮টার দিকে ভরুয়াপাড়া গ্রাম থেকে মুকুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
লিখিত বক্তব্য র‌্যাব-৫ এর অধিনায়ক বলেন, রাজশাহী জেলায় পুঠিয়া থানায় জঙ্গি তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে আমরা জানতে পারি যে, এখানে আনসার আল ইসলাম নামক একটি জঙ্গি সংগঠন অনেক আগে থেকেই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ২০০৪-২০০৫ সালের দিকে পুঠিয়া থানার অর্ন্তগত ভড়ুয়াপাড়া, মাহেন্দ্রা, জামিরা গ্রামে মৃত আবুল কালাম আজাদ ওরফে আজুমুন্সি নামক এক ব্যক্তির মাধ্যমে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (পরবর্তীতে আনসার আল ইসলাম নামে পরিচিত) সংগঠনের কার্যকলাপ শুরু হয়।
সেই সময় ভড়ুয়াপাড়ার আজু মুন্সি ও মাহেন্দ্রার ইব্রাহিম নামক আর এক ব্যক্তি তাদের সংগঠনের কার্যকলাপ চালিয়ে যেতে থাকে। প্রথমে তারা ভড়ুয়াপাড়া গ্রামের কিছু লোককে কোরআন শিক্ষা দেয়ার নামে ক্লাস করাত। পাশাপাশি আহলে হাদিস ও জাগ্রত মুসলিম নামে ইসলামবিরোধী কিছু উগ্রবাদী মন্তব্য ও বাণী শিক্ষা দিত এবং পর্যায়ক্রমে তাদেরকে মুখস্তও করাত। এভাবে আজু মুন্সি ও ইব্রাহিম ইসলামের মূলধারার ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মুসলমানদের ধর্মভীরুতাকে কাজে লাগিয়ে সংগঠনের সদস্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যেতে থাকে।
তারা জসিম উদ্দিন রহমানি ও রাজ্জাক বিন ইউসুফের ওয়াজ শোনাত এবং তাদেরকে তা পালন করতে বলতো। এমতাবস্থায় তাদের দুইজনের কথা শুনে ভড়ুয়াপাড়া ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার বুলবুল, মুকুল, শাহীন, আব্দুর রহীম, লোকমান, মুনসুর, মিরাজ, আবু জাফর, ওহাব, মোশারফ, বাবরমুন্সি, জাকির হোসেন টুটুল, মোজাম্মেল, মোস্তফা, আনিসুর প্রমুখ এ দলে যোগদান করে।
২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলা হলে, বোমা হামলা সর্ম্পকিত কথা বার্তায় ও তাদের পরবর্তী কার্যকলাপে ভড়ুয়াপাড়া গ্রামের লোকজন আজু মুন্সি ও তার দলের জঙ্গি সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততা আছে বলে বুঝতে পারে। কিন্তু কেউ প্রতিবাদ করলে সংগঠনের লোকজন তাদেরকে দমিয়ে রাখে। এভাবে কিছুদিন চলার পর ভড়ুয়াপাড়া গ্রামের আরো কিছু উগ্রবাদী সদস্য যেমন, শহিদুল, মিজানুর রহমান মেজা, সাদ্দাম, উজ্জল, রাকীব, মামুন ও হায়াতুল্লাহ এ সংগঠনের সাথে নতুনভাবে যুক্ত হয়।
র‌্যাব জানায়, ২০০৫ সালে ১৮ জুলাই তাদের সংগঠনের সদস্য মিরাজুল ইসলাম, জাকির হোসেন টুটুল, মোজাম্মেল হোসেন, ইব্রাহিম, মোস্তফা, এনামুলহক, মুনসুর, ওয়ালিউল্লাহ, জহুরুল, আবুজাফর, বিপ্লব মাহেন্দ্রার একটি বাড়িতে গোপন বৈঠক করার সময় প্রশাসনের কাছে ধরা পড়ে এবং তারা জঙ্গি হিসেবে বিভিন্ন মেয়াদে বর্তমানে জেলহাজতে অবস্থান করছে। পরবর্তীতে কিছু সদস্য জামিনেও বের হয়। ইতোমধ্যে আজু মুন্সি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয় এবং পরবর্তীতে অসুস্থতা জনিত কারণে সে মারা যায়। এরপর ভড়ুয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বাবর মুন্সি তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে সংগঠনের কার্যকলাপ গোপনে চালিয়ে যেতে থাকে।

২০১৬ সালের ৫ নভেম্বর এই সংগঠনের সক্রিয় সদস্য বুলবুল ভড়ুয়াপাড়ার পার্শ্ববর্তী গ্রাম ধাদাসে তার শুশুর বাড়িতে বোমা বানানোর সময় তা বিস্ফোরিত হলে ওই ঘটনায় বুলবুল ও তার সহযোগী উজ্জ্বলের হাত ঝলসে যায়। এ ঘটনার পর থেকে বুলবুল ও উজ্জ্বল অনেকদিন পালিয়ে থাকে। কিছুদিন পর উজ্জ্বল বাড়িতে ফিরে আসলেও বুলবুল এখন পর্যন্ত পলাতক।
এ ঘটনার পর থেকে ভড়ুয়াপাড়া গ্রামের লোকজন বাবর মুন্সিকে জঙ্গিদলের সাথে সম্পৃক্ততার ব্যাপারে দোষারোপ করতে থাকে। কিন্তু তখনও বাবর মুন্সি গ্রামের লোকজনের প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে তাদের কার্যকলাপ চালিয়ে যেতে থাকে।
২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভড়ুয়াপাড়া গ্রামের নাশকতামুলক কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সময় র‌্যাব আনসার আল ইসলামের বাবর মুন্সি, আনিছুর রহমান, শহিদুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, শাহিন মিয়াকে ২৪টি জিহাদী বইসহ গ্রেপ্তার করে।
পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জানা যায় যে, ভড়ুয়াপাড়া, মাহেন্দ্রা, জামিরা ও চারঘাট থানাসহ পার্শ্ববর্তীর্তী আরো কিছু এলাকায় তাদের আরো সদস্য রয়েছে যারা তাদের অবর্তমানে সংগঠনের কার্যক্রম অব্যহত রাখছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে আমরা আমাদের অনুসন্ধান অব্যহত রাখি।
এর আগে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ক্ষুদ্র জামিরা ও ভড়ুয়াপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে চার জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এ সময় তাদের কাছ সাতটি জিহাদি বই জব্দ করা হয়। সোমবার রাত সোয়া ৭টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দেশে টার্গেটটেড কিলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত এ জঙ্গি সংগঠন। বিশেষ করে ব্লগার ও মুক্তমনা ব্যক্তিদের হত্যার পর নিজেরাই এসব হত্যার দায় স্বীকার করে। পরবর্তীতে সংগঠনটিকে সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

Total View: 1334

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter