শনিবার,  ১৯শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,  ৫ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,  সকাল ৯:২৪

গাছের সাথে একই শিকলে বাবা ও ছেলেকে বেঁধে নির্যাতন

মে ১৫, ২০১৮ , ০১:১৭

স্টাফ রিপোর্টার
শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের প্রভাবশালী হালিম বেপারীর বিরুদ্ধে চন্দ্রপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র শামীমকে চুরির অভিযোগে শিকল দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে নির্মম ভাবে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, একই অভিযোগে ছেলের বাবা খোকন মোল্যাকেও ধরে নিয়ে একই শিকলে বেঁধে নির্যাতন করেছে ঐ প্রভাবশালী। গত ৯ মে সকালে উপজেলার উত্তর চন্দ্রপুর এলাকায় হালিম বেপারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
সন্ধ্যায় খবর পেয়ে সন্তোষপুর ফাঁড়ির পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। বর্তমানে নির্যাতিত শিশু এবং তার বাবা শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এ ঘটনায় ৪ দিন উত্তীর্ণ হলেও থানায় কোনো মামলা হয়নি।
আর এ ঘটনাটি যারা ঘটিয়েছেন তারা হলেন চন্দ্রপুর গ্রামের প্রভাবশালী হালিম বেপারী, করম আলী বেপারী এবং সাহেব আলী বেপারী।
এদিকে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলছেন, এ ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। এমনকি কেউ তাকে কিছু জানায়নি। অন্যদিকে সন্তোষপুর ফাঁড়ির পুলিশ বলেছে, ঘটনার দিন পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে নির্যাতিত শামীমের মা ফাহিমা বেগম এবং স্থানীয় মেম্বার রূবেল মৃধা বলেন, সদর উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা হালিম বেপারীর বাড়িতে শবে বরাতের রাতে চুরি হয়। সেই চুরির সাথে খোকন মোল্যার ছেলে শামীম জড়িত সন্দেহে তাকে ধরে হালিম বেপারী বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে কাঠাল গাছের সাথে লোহার শিকল দিয়ে তার কোমরে বাঁধে এবং গামছা দিয়ে হাত বেঁধে লাঠি দিয়ে বেদম মারপিট করে।
এর কিছুক্ষণ পর ওই বাড়ির সামনে দিয়ে শামীমের বাবা খোকন মোল্যা যাওয়ার সময় তাকেও ধরে নিয়ে একই শিকলে বেঁধে বেদম মারপিট করে প্রভাবশালী হালিম বেপারী, করম আলী বেপারী এবং সাহেব আলী বেপারী।
সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত উভয়ের উপর বিরতিহীন ভাবে চলে নির্যাতন। ওই দিন সন্ধ্যায় খবর পেয়ে সন্তোষপুর পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং শামীম ও তার বাবাকে উদ্ধার করে। এ সময় ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আরিফ নির্যাতিতদেরকে পালং মডেল থানায় মামলা করার কথা বলেন।
পরের দিন অর্থাৎ ১০ মে শামীম ও তার বাবা অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ঘটনার পর নির্যাতিত পরিবার সন্তোষপুর পুলিশ ফাঁড়িতে দরখাস্ত দিলেও ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক মোঃ জাহাঙ্গীর আরিফ দরখাস্তটি গ্রহণ করেননি। স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিষয়টি সালিশ মীমাংসার কথা বলে কালক্ষেপণ করতে থাকেন এবং বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য তাদের উপর চাপ প্রয়োগ করেন।
ঘটনার ৪ দিন অতিবাহিত হলেও এখনও কোনো মামলা নেয়নি পুলিশ। অসহায় গরিব পরিবারটি কোনো উপায়ান্ত না দেখে সোমবার বিকালে সাংবাদিকদের শরণাপন্ন হন।
এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নির্যাতিত পরিবারটি প্রভাবশালীদের ভয়ে কোনো মামলা করতে সাহস পায়নি। বর্তমানে তারা হাসপাতালে আতংকের মধ্যে আছে।
নির্যাতিত খোকন মোল্যা বলেন, আমার ছেলে শামীমকে চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ধরে নিয়ে লোহার শিকল দিয়ে ও গামছা দিয়ে হাত গাছের সঙ্গে বেঁধে বেদম মারপিট করেছে। আমি ওই বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় আমাকেও ধরে নিয়ে হালিম বেপারী ও তার সহযোগীরা শিকল দিয়ে বেঁধে মারপিট করেছে। আমি গরীব অসহায়। প্রভাবশালীদের ভয়ে মামলা করতে পারছি না।
ঘটনার সততা স্বীকার করে শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মোঃ লালু খা, রিপন শিকদার এবং রূবেল মৃধা বলেন, প্রভাবশালী হালিম বেপারী, করম আলী বেপারী এবং সাহেব আলী বেপারী পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। আমরা এ নিষ্ঠুর, নির্মম নির্যাতনের বিচার চাই ।
সন্তোষপুর পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক মোঃ জাহাঙ্গীর আরিফ বলেন, আমি ঘটনা শোনার পর শামীম ও তার বাবাকে উদ্ধার করি। পরে পালং মডেল থানায় মামলা করার পরামর্শ দেই। পাশাপাশি বিষয়টি পালং মডেল থানার ওসি মোঃ মনিরুজ্জামানকে অবহিত করি।
এ ব্যাপারে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, আজই বিষয়টি আমি সাংবাদিকদের কাছে জানলাম। এর আগে এ ঘটনা কেউ আমাকে জানায়নি। যদি পুলিশ পরিদর্শক আমাকে বলে থাকে তা আমার খেয়াল নেই।
শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার মোঃ আবদুল মোমেন বলেন, এ বিষয়টি আমি আপনাদের কাছেই শোনলাম। বিষয়টি আমি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।
শরীয়তপুরে গাছের সাথে একই শিকলে বাবা ও ছেলেকে বেঁধে নির্যাতন
স্টাফ রিপোর্টার
শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের প্রভাবশালী হালিম বেপারীর বিরুদ্ধে চন্দ্রপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র শামীমকে চুরির অভিযোগে শিকল দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে নির্মম ভাবে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, একই অভিযোগে ছেলের বাবা খোকন মোল্যাকেও ধরে নিয়ে একই শিকলে বেঁধে নির্যাতন করেছে ঐ প্রভাবশালী। গত ৯ মে সকালে উপজেলার উত্তর চন্দ্রপুর এলাকায় হালিম বেপারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
সন্ধ্যায় খবর পেয়ে সন্তোষপুর ফাঁড়ির পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। বর্তমানে নির্যাতিত শিশু এবং তার বাবা শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এ ঘটনায় ৪ দিন উত্তীর্ণ হলেও থানায় কোনো মামলা হয়নি।
আর এ ঘটনাটি যারা ঘটিয়েছেন তারা হলেন চন্দ্রপুর গ্রামের প্রভাবশালী হালিম বেপারী, করম আলী বেপারী এবং সাহেব আলী বেপারী।
এদিকে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলছেন, এ ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। এমনকি কেউ তাকে কিছু জানায়নি। অন্যদিকে সন্তোষপুর ফাঁড়ির পুলিশ বলেছে, ঘটনার দিন পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে নির্যাতিত শামীমের মা ফাহিমা বেগম এবং স্থানীয় মেম্বার রূবেল মৃধা বলেন, সদর উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা হালিম বেপারীর বাড়িতে শবে বরাতের রাতে চুরি হয়। সেই চুরির সাথে খোকন মোল্যার ছেলে শামীম জড়িত সন্দেহে তাকে ধরে হালিম বেপারী বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে কাঠাল গাছের সাথে লোহার শিকল দিয়ে তার কোমরে বাঁধে এবং গামছা দিয়ে হাত বেঁধে লাঠি দিয়ে বেদম মারপিট করে।
এর কিছুক্ষণ পর ওই বাড়ির সামনে দিয়ে শামীমের বাবা খোকন মোল্যা যাওয়ার সময় তাকেও ধরে নিয়ে একই শিকলে বেঁধে বেদম মারপিট করে প্রভাবশালী হালিম বেপারী, করম আলী বেপারী এবং সাহেব আলী বেপারী।
সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত উভয়ের উপর বিরতিহীন ভাবে চলে নির্যাতন। ওই দিন সন্ধ্যায় খবর পেয়ে সন্তোষপুর পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং শামীম ও তার বাবাকে উদ্ধার করে। এ সময় ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আরিফ নির্যাতিতদেরকে পালং মডেল থানায় মামলা করার কথা বলেন।
পরের দিন অর্থাৎ ১০ মে শামীম ও তার বাবা অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ঘটনার পর নির্যাতিত পরিবার সন্তোষপুর পুলিশ ফাঁড়িতে দরখাস্ত দিলেও ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক মোঃ জাহাঙ্গীর আরিফ দরখাস্তটি গ্রহণ করেননি। স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিষয়টি সালিশ মীমাংসার কথা বলে কালক্ষেপণ করতে থাকেন এবং বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য তাদের উপর চাপ প্রয়োগ করেন।
ঘটনার ৪ দিন অতিবাহিত হলেও এখনও কোনো মামলা নেয়নি পুলিশ। অসহায় গরিব পরিবারটি কোনো উপায়ান্ত না দেখে সোমবার বিকালে সাংবাদিকদের শরণাপন্ন হন।
এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নির্যাতিত পরিবারটি প্রভাবশালীদের ভয়ে কোনো মামলা করতে সাহস পায়নি। বর্তমানে তারা হাসপাতালে আতংকের মধ্যে আছে।
নির্যাতিত খোকন মোল্যা বলেন, আমার ছেলে শামীমকে চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ধরে নিয়ে লোহার শিকল দিয়ে ও গামছা দিয়ে হাত গাছের সঙ্গে বেঁধে বেদম মারপিট করেছে। আমি ওই বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় আমাকেও ধরে নিয়ে হালিম বেপারী ও তার সহযোগীরা শিকল দিয়ে বেঁধে মারপিট করেছে। আমি গরীব অসহায়। প্রভাবশালীদের ভয়ে মামলা করতে পারছি না।
ঘটনার সততা স্বীকার করে শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মোঃ লালু খা, রিপন শিকদার এবং রূবেল মৃধা বলেন, প্রভাবশালী হালিম বেপারী, করম আলী বেপারী এবং সাহেব আলী বেপারী পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। আমরা এ নিষ্ঠুর, নির্মম নির্যাতনের বিচার চাই ।
সন্তোষপুর পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক মোঃ জাহাঙ্গীর আরিফ বলেন, আমি ঘটনা শোনার পর শামীম ও তার বাবাকে উদ্ধার করি। পরে পালং মডেল থানায় মামলা করার পরামর্শ দেই। পাশাপাশি বিষয়টি পালং মডেল থানার ওসি মোঃ মনিরুজ্জামানকে অবহিত করি।
এ ব্যাপারে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, আজই বিষয়টি আমি সাংবাদিকদের কাছে জানলাম। এর আগে এ ঘটনা কেউ আমাকে জানায়নি। যদি পুলিশ পরিদর্শক আমাকে বলে থাকে তা আমার খেয়াল নেই।
শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার মোঃ আবদুল মোমেন বলেন, এ বিষয়টি আমি আপনাদের কাছেই শোনলাম। বিষয়টি আমি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

Total View: 1213

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter