শনিবার,  ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  দুপুর ২:৩৯

গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে ঢাকা ব্যাংক কর্মকর্তা উধাও

মার্চ ১৯, ২০১৯ , ২১:১০

মোঃ শহিদুল ইসলাম

ফেনীতে কোটি কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছেন ঢাকা ব্যাংকের গোলাম সাঈদ রাশেব (৩৫) নামে এক কর্মকর্তা।

টানা তিন দিন ব্যাংক বন্ধ থাকার পর বিষয়টি জানাজানি হলে সোমবার ব্যাংকে ভিড় করে গ্রাহকরা। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা লাখ লাখ টাকা খুইয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক ও ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপে জানা যায়, ফেনী সদর উপজেলার মোটবী ইউনিয়নের বড় বাড়ির গোলাম সাঈদ রাশেব ঢাকা ব্যাংকের এ শাখায় দুই মেয়াদে প্রায় ৯ বছর চাকরি করেন। পালিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ফেনী শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার (ক্রেডিট) পদে দায়িত্ব পালন করেন।

তারা আরো জানান, বিশ্বস্ততার সুযোগ নিয়ে রাশেব অনেক গ্রাহকের কাছ থেকে ঋণ সমন্বয়ের কথা বলে নিজে ও অফিসারদের দিয়ে ব্লাংক চেক সংগ্রহ করেন। তার গতিবিধি সন্দেহজনক হলে মঙ্গলবার ব্যাংকের শাখা ম্যানেজার ঊর্ধ্বতনদের লিখিতভাবে বিষয়টি অবগত করেন।

পরদিন যথারীতি অফিসে এসে সকাল সাড়ে দশটার পর উধাও হয়ে যান ওই কর্মকর্তা। চেক উত্তোলনের ম্যাসেজ পেয়ে বৃহস্পতিবার দু’ একজন গ্রাহক ব্যাংকে অভিযোগ করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার সিন্দুরপুর গ্রামের মাহবুবুল হক রিপনের অ্যাকাউন্ট থেকে তোলা হয়েছে ৩৪ লাখ টাকা।

তিনি অভিযোগ করেন, তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরাধনা এন্টারপ্রাইজের অধীনে ব্যাংকের এ শাখায় ৫ কোটি টাকার ঋণ চলমান রয়েছে। ঋণ সমন্বয়ের কথা বলে দুটি ব্লাংক চেক নেন চতুর গোলাম সাঈদ রাশেব। পরে চেক ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করেন।

মাহবুবুল হকের ছোট ভাই ফজলুল হক পলাশের মুনতাসির এন্টারপ্রাইজের
অ্যাকাউন্ট থেকেও ৪২ লাখ টাকা একই কায়দায় তুলে নেন তিনি। ফেনী শহরের
কাপড়ের ব্যবসায়ী অজয় কুমার বণিক’র অ্যাকাউন্ট থেকে ৭০ লাখ, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাচ্চুটি গ্রামের মোশাররফ হোসেন মজুমদারের ৮ লাখ
টাকা উত্তোলন করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক মাহবুবুল হক রিপন বলেন, সরলতার সুযোগ নিয়ে অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয় ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম সাঈদ রাশেব। ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ হতে পারে বল তিনি জানান।

তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, এ পর্যন্ত টাকা খোয়া গেছে মর্মে প্রায় ১৫ গ্রাহক লিখিত অভিযোগ করেছেন। সে হিসেবে ব্যাংকিং লেনদেনের মাধ্যমে ২ থেকে ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ হতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। তবে গোলাম সাঈদ রাশেবের সঙ্গে অনেক গ্রাহকের ব্যক্তিগত লেনদেন রয়েছে বলে মৌখিকভাবে তারা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ব্যাংকের ফেনী শাখার ম্যানেজার আখতার হোসেইন সরকার জানান, ঠিক কত অ্যাকাউন্ট থেকে কত টাকা উত্তোলন হয়েছে এটি বলা মুশকিল। গ্রাহকরা মৌখিক ও লিখিত ভাবে জানাচ্ছেন। ঢাকা থেকে আইটি এক্সপার্ট আসছেন। তাদের মাধ্যমে বিষয়টি চিহ্নিত করা যাবে। প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে সার্বক্ষণিক কথা বলে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান।

গ্রাহকরা জানান, এ ঘটনায় তারা আপাতত থানায় সাধারণ ডায়েরি করবেন।

Total View: 302

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter