শনিবার,  ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  বিকাল ৫:৪১

চরভাগা দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৯ , ১৯:১৩

স্টাফ রিপোর্টার
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরভাগা শনিকান্দি খাজে মোহাম্মদ দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মোঃ মোস্তাফা কামালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরণের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে মাদ্রাসার শিক্ষকের গায়ে হাত তোলার অভিযোগও রয়েছে।

তার অপসারণের দাবীতে মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। কিন্তু অভিযোগটি অদ্যবধি ফাইল বন্দি থাকায় ভারপ্রাপ্ত সুপার মোঃ মোস্তাফা কামাল রয়েছেন বহাল তবিয়তে।

গোপন সূত্রে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত সুপার মোঃ মোস্তাফা কামাল এখনও জামায়াতের সখিপুর থানা আমীরের দায়িত্ব পালন করছেন। যার প্রেক্ষিতে তিনি প্রায়ই মাদ্রাসায় উপস্থিত থাকেন না। ব্যাক্তিগত কাজের ধোঁয়া তুলে তিনি জামায়াতের দলীয় কাজে যোগ দেন। তিনি মাদ্রাসায় রাম রাজত্ব কায়েম করেছেন। তিনি ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন। তার ভয়ে মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষকরা আতংকে থাকেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষকের সাথে আলাপ কালে তারা বলেন, ভারপ্রাপ্ত সুপার মোস্তফা কামাল অনেক বেপরোয়া। তিনি জামায়াতের থানা আমির ছিলেন। জামায়াতের আমির থাকাকালীন ২০১৪ সালের ৮ জানুয়ারী থেকে একই সালের ১৩ মার্চ পর্যন্ত অর্থাৎ ৬৬ দিন এবং ২০১৬ সালের ১লা সেপ্টেম্বর থেকে একই সালের ৭ নভেম্বর অর্থাৎ ৬৯ দিন, মোট ১শ ৩৫ দিন অর্থাৎ সাড়ে ৪ মাস রাষ্ট্র বিরোধী পৃথক দুটি মামলায় জেল হাজতে ছিলেন। জেল হাজতে থাকার কারণে তিনি মাদ্রাসায় উপস্থিত ছিলেন না। কিন্তু তিনি অসৎ উপায় অবলম্বন করে উক্ত সাড়ে ৪ মাসের বেতন বাবদ ৮৪ হাজার ৫শ ৬৮ টাকা সরকারী কোষাগার থেকে তুলে আত্মসাৎ করেছেন।

গোপন সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে তিনি জামাত শিবিরের জঙ্গী ট্রেনিং নিতে ৩ মাস ২২ দিন শরীয়তপুর জেলার বাইরে ছিলেন। মাদ্রাসায় উপস্থিত ছিলেন না। পরে তিনি মাদ্রাসার সুপার এ.এস.এম এমদাদ উল্লাহকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিয়ে মাদ্রাসায় যোগদান করেন এবং এ.এস.এম এমদাদ উল্লাহ তাকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করিয়ে উপস্থিত দেখান। পরবর্তীতে সুপার এ.এস.এম এমদাদ উল্লাহ’র সহযোগিতায় ৩ মাস ২২ দিনের বেতন বাবদ ৮৬ হাজার ৩শ ১৪ টাকা সরকারী কোষাগার থেকে তুলে তার উভয়েই আত্মসাৎ করেন।

শুধু তাই নয়, ভারপ্রাপ্ত সুপার মোঃ মোস্তাফা কামাল ২০১৭ সালে এমপিও ভূক্ত সকল শিক্ষক কর্মচারীকে জিম্মি করে এক মাসের পূর্ণ সরকারী বেতন-ভাতাদি আদায় করে আত্মসাৎ করেছেন। তিনি এতোটাই বেপরোয়া যে তার স্বার্থপরিপন্থি কোন ঘটনা ঘটলে শিক্ষকদের গায়ে হাত তুলতেও দ্বিধা বোধ করেন না। ২০১৬ সালের ২৩ মার্চ নুরুল ইসলাম নামে মাদ্রাসার এক শিক্ষককে তিনি চর থাপ্পর মেরেছেন। যার প্রেক্ষিতে মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা তার অপসারণের দাবীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছে।

জানা যায়, মাদ্রাসার আয়ের সকল উৎস থেকে প্রাপ্ত টাকা তিনি একই ভোগ করেন। ২০১৮ সালে আল বারাকা পাবলিকেশন্স থেকে প্রাপ্ত ২০ হাজার এবং ২০১৯ সালে ১৫ হাজার, মোট ৩৫ হাজার টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া তিনি মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ হতে ভর্তি ফি, সেশন ফি, রেজিস্ট্রেশন ফি, পরীক্ষার ফি, ছাড়পত্র ফি, সনদপত্র ফি সহ ৮ম ও ৯ম শ্রেণীতে ফরম পূরণ বাবদ সমস্ত টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে তিনি আত্মসাৎ করেছেন। যার হিসেব চাইলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

এ ব্যাপারে চরভাগা শনিকান্দি খাজে মোহাম্মদ দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মোঃ মোস্তাফা কামালের সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, আমি মাদ্রাসায় রাম রাজত্ব কায়েম করিনি। আমার ভয়ে মাদ্রাসার কোন শিক্ষকরা আতংকে থাকেন না। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র শর্মার সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি জানি না। অভিযোগ আসলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবো।

Total View: 353

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter