বুধবার,  ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ১১:১৩

জাজিরা খাদ্য গুদাম পরিদর্শকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ-১

অক্টোবর ২০, ২০২০ , ২১:৪৮

সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
জাজিরা উপজেলা খাদ্য গুদামের খাদ্য পরিদর্শক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি করে তিনি এখন কোটিপতি বনে গেছেন। রাজধানী সহ জেলার অনেক জায়গায় রয়েছে তার অনেক সম্পত্তি।
তিনি সাধারণ মানুষকে মানুষ বলে গণ্য করেন না। তার বাড়ি জেলা সদরে হওয়ায় এলাকার অনেক প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের সাথে রয়েছে তার দারুন সখ্যতা। আর সেই সখ্যতার কারণে তিনি অনেক লোককে কারণে-অকারণে ভয়-ভীতি দেখানোর চেষ্টা করেন। তিনি এখন ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন।
সরকারী বিধি মোতাবেক একজন দ্বিতীয় শ্রেণীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিজ জেলায় চাকুরী করতে পারবেন না। কিন্তু তিনি কোন আইনের বলে নিজ জেলায় চাকুরী করছেন তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জনগনের এই প্রশ্নকে প্রাধান্য দিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করতে গিয়ে বেড়িয়ে আসে তার ব্যাপক দুর্নীতির চিত্র।
তিনি সরকারের নিবন্ধিত ডিলারদেরকে চাল ওজনে কম দিচ্ছেন। আর এ অনিয়মটি তিনি জাজিরা উপজেলা খাদ্য গুদামের খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই করে আসছেন।
জাজিরা উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৮টি ইউনিয়েনের ডিলারদের সাথে আলাপ কালে এ তথ্য বেড়িয়ে এসেছে। কোন ডিলার তার খাদ্য গুদামে চাল নিতে আসলে বস্তার ওজন না দিয়ে প্রতিটি বস্তা ৫০ কেজি চাল ওজন ধরে দিয়ে দেন।
পরবর্তীতে সেই ৫০ কেজি চালের বস্তা ডিলারদের গুদামে গিয়ে ওজন দিলে হয় ৪৮ কেজি। এখানে প্রতি বস্তায় ২কেজি চাল কম হয়। আর ৩০ কেজি চালের বস্তা ওজন দিলে হয় ২৮ কেজি। তাদের এই কথা প্রমাণ করতে জাজিরা উপজেলার প্রত্যেকটি ডিলার এবং চেয়ারম্যনদের কাছে যাওয়া হয়। সেখানে প্রত্যেকটি বস্তা ওজন দেয়ার পর ২ কেজি করে কম পাওয়া যায়।
জাজিরা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা যায়, মিজানুর রহমান ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর জাজিরা উপজেলা খাদ্য গুদামের খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি যোগদানের পর ৭ মাসে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর আওতায় ১২০৬.৪৫০ মেট্রিক টন অর্থাৎ ১২ লক্ষ ৬ হাজার ৪শ ৫০ কেজি যা ৩০ কেজির বস্তা হিসেবে ৪০ হাজার ২শ ১৫ বস্তা চাল বিভিন্ন ডিলারের মাঝে বন্টন করেন। এই চাল বন্টন করতে গিয়ে তিনি বস্তা প্রতি ২ কেজি হারে ৮০ হাজার ৪শ ৩০ কেজি চাল আত্মসাৎ করেন। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৩২ লক্ষ ১৭ হাজার ২শ টাকা।
ভিজিডি বন্টন করেছেন ৭৩৭.৮৮০ মেট্রিক টন অর্থাৎ ৭ লক্ষ ৩৭ হাজার ৮শ ৮০ কেজি। যা ৩০ কেজির বস্তা হিসেবে ২৪ হাজার ৫শ ৯৬ বস্তা চাল বন্টন করেন। এই চাল বন্টন করতে গিয়ে তিনি বস্তা প্রতি ২ কেজি হারে ৪৯ হাজার ১শ ৯২ কেজি চাল আত্মসাৎ করেছেন। যার বাজার মূল্য ১৯ লক্ষ ৬৭ হাজার ৬শ ৮০ টাকা।
ভিজিএফ বন্টন করেছেন ১শ ৬৮ মেট্রিক টন অর্থাৎ ১ লক্ষ ৬৮ হাজার কেজি। যা ৫০ কেজির বস্তা হিসেবে ৩ হাজার ৩শ ৬০ বস্তা বন্টন করেন। এই চাল বন্টন করতে গিয়ে তিনি বস্তা প্রতি ২ কেজি হারে ৬ হাজার ৭শ ২০ কেজি চাল আত্মসাৎ করেছেন। যার বাজার মূল্য ২ লক্ষ ৬৪ হাজার ৮শ টাকা।
করোনাকালীন সময়ে জি আর হিসেবে ৮৬৬.৮৬৫ মেট্রিক টন অর্থাৎ ৮ লক্ষ ৬৬ হাজার ৮শ ৬৫ কেজি যা ৫০ কেজি চালের বস্তা হিসেবে ১৭ হাজার ৩শ ৩৭ বস্তা চাল বন্টন করেন। এই চাল বন্টন করতে গিয়ে তিনি বস্তা প্রতি ২ কেজি হারে ৩৪ হাজার ৬শ ৭৪ কেজি চাল আত্মসাৎ করেছেন। যার বর্তমান বাজার মূল্য ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার ৯শ ৬০ টাকা।
এছাড়া টি আর, কাবিখাতে ৫ লক্ষ কেজি চাল বিতরণ করেছেন। যা ৫০ কেজির বস্তা হিসেবে হয় ১০ হাজার বস্তা। আর এ ১০ হাজার বস্তা থেকে ২০ হাজার কেজি চাল আত্মসাৎ করেছেন। যার বাজার মূল্য ৮ লক্ষ টাকা। তিনি ৭ মাসে মোট ১ লক্ষ ৯১ হাজার ২০ কেজি চাল আত্মসাৎ করেছেন। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৭৬ লক্ষ ৩৩ হাজার ৮শ ৪০ টাকা।
এ ব্যাপারে জাজিরা উপজেলার কয়েকজন ডিলারের সাথে আলাপ কালে তারা বলেন, জাজিরা উপজেলা খাদ্য গুদামের খাদ্য পরিদর্শক মিজানুর রহমান আমাদেরকে ৫০ কেজির বস্তা দেন। চাল আনার পর মেপে দেখি ৫০ কেজির বস্তায় ৫০ কেজি নেই। আছে ৪৮ কেজি। ৩০ কেজির বস্তায় পাওয়া যায় ২৮ কেজি। তখন আমরা বাধ্য হই গ্রাহকদেরকে চাল কম দিতে। খাদ্য গুদামের খাদ্য পরিদর্শকের আচরণে আমরা অতিষ্ঠ। তার হাত থেকে আমরা মুক্তি চাই।
এ ব্যাপারে জাজিরা উপজেলা খাদ্য গুদামের খাদ্য পরিদর্শক মিজানুর রহমানের সাথে আলাপ করতে চাইলে এই প্রকিবেদকের সাথে ঔধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন।
এ ব্যাপারে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ নুরুল হকের সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, আমি শুনেছি, আপনার সাথে খাদ্য পরিদর্শক মিজানুর রহমানের সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। যা কখনই কাম্য নয়। একটু ধৈর্য্য ধরুন, আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

Total View: 164

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter