বুধবার,  ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  ভোর ৫:০৮

জাজিরা পিআইও অফিসের পিয়ন বাসারের অনিয়মের চিত্র-১

অক্টোবর ৩১, ২০২০ , ২০:৪৫

স্টাফ রিপোর্টার
চিত্রে যাকে দেখছেন, তিনি আর কেউ নন। তিনি হচ্ছেন আমাদের আবুল বাশার। তার বাড়ি জাজিরা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে। তিনি দীর্ঘ বছর ধরে জাজিরা উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় অর্থাৎ পিআইও অফিসের পিয়নের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রকৃত অর্থে তিনি সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত কোন পিয়ন নন। তিনি বিনা বেতনে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে পিয়নের দায়িত্ব পালন করছেন। আর এই পিয়নের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি পিআইও অফিসের সকল কাজের কাজী হয়ে দাড়িয়েছেন।
আবুল বাসারকে ছাড়া পিআইও অফিসের কোন কাজই হয় না। যদিও পিআইও অফিসে সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত একজন পিয়ন রয়েছে। তারপরেও পিআইও সাহেব তাকে ছাড়া চলতেই পারেন না। পিআইও অফিসের জনবল কম হওয়ার কারণে সকল কাজই করেন এই বাসার। ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে আনা নেয়া, ব্যাংকে টাকা জমা দেয়া, টাকা তোলাসহ প্রকল্প পরিদর্শন তিনিই করে থাকেন। তার রিপোর্টের উপর নির্ভর করে প্রকল্পের ভাগ্য। আর পিআইও সাহেব তার রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রকল্পের ঠিকাদারকে বিল দিয়ে থাকেন। যার কারণে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ ঠিকাদারগণ তাকে সমিহ করে চলেন। তাকে খুশি করে না রাখলে চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ ঠিকাদারদের কাজ ছুটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আর এই সুযোগটিই কাজে লাগিয়েছেন তিনি। তিনি পিআইও অফিসে পিয়নের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দালালীর কাজটিও ভালো ভাবে করছেন। আর এই দালালী করতে গিয়ে তিনি এখন শুণ্য থেকে কোটিপতি বনে গেছেন। রাজধানী ঢাকাসহ জাজিরা শহরে রয়েছে তার অঢেল সম্পদ। তিনি এখন নিজেকে জেলা শহরের একজন প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদর হিসেবে দাবী করছেন। তিনি কি এক আলাদীনের চেরাগ পেয়েছেন যে, শুণ্য থেকে কোটিপতি বনে গেছেন, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আবুল বাসার কোথায় এবং কিভাবে ঠিকাদারী করছেন তার খোঁজ নিতে গিয়ে বেড়িয়ে এসেছে বিশাল অনিয়মের চিত্র। তিনি যে পরিমান অনিয়ম করেছেন তার চিত্র এক পর্বে তুলে ধরা সম্ভব নয়। ধারাবাহিক ভাবে তার অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হবে। আজ তার অনিয়মের প্রথম চিত্রটি তুলে ধরা হলো।
২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় “গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ” অর্থাৎ যাদের ভিটা আছে, ঘর নেই তাদেরকে পিআইও অফিসের মাধ্যমে সরকার ৩ লক্ষ টাকা মূল্যের ঘর দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় জাজিরা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ৬৭ জন গৃহহীনকে ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। সেই ঘর নির্মাণ করতে গিয়ে আবুল বাসার করেছেন বিশাল অনিয়ম।
সরকারী বিধি মোতাবেক দুর্যোগ সহনীয় এই ৩ লক্ষ টাকা মূল্যের ঘরগুলো পিআইও অফিস সংশ্লষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের দিয়ে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করবেন। কোন ক্রমেই ঠিকাদার দিয়ে করা যাবে না। কিন্তু আবুল বাসার পিআইও অফিসের অলিখিত পিয়ন হওয়ায় তিনি পিআইও নজরুল ইসলামের সাথে যোগসাজসে ঘর গুলো তিনি নিজেই নির্মাণ করেছেন। যে কাজটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের দিয়ে করানোর কথা, সে কাজটি পিআইও সাহেব কোন আইনের বলে ঠিকাদার দিয়ে করালের তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে আবুল বাসারের সাথে মুঠোফোনে বক্তব্য চাইলে তিনি বলেন, আমি আপনার সাথে পরে দেখা করবো।
এ ব্যাপারে জাজিরা উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের সাথে আলাপ করতে গেলে তিনি ব্যাপারটি এড়িয়ে যান।

Total View: 272

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter