বৃহস্পতিবার,  ২২শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  বিকাল ৫:২৯

জোবেদার আনন্দময় ভ্রমন কাহিনী-৪

জুলাই ২০, ২০১৮ , ১৮:৩৩


জোবেদা আক্তার

সিদ্ধান্ত হলো পঞ্চম দিনে আমরা দিল্লী জয় করতে যাবো। যেহেতু আমরা দিল্লীতেই আছি, তাই একটু সময় নিয়ে সকালের নাস্তা শেষ করেই বের হলাম। প্রথম গন্তব্য লোটাস টেম্পল। বাহাই ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়। এখানে সকল ধর্মাবলম্বীদেরই প্রবেশাধিকার রয়েছে। লোটাস অর্থাৎ, পদ্ম ফুল আকৃতির এই মন্দরটি মূলত একটি মেডিটেশন সেন্টারের মত। খুবই দৃষ্টিনন্দন এর স্থাপত্যকলা। মনে হয় অর্ধফোটা একটা পদ্ম। অনেক গুলো সিড়ির ধাপ পেরিয়ে লাইন ধরে মন্দিরে প্রবেশ করলাম। ভেতরে গীর্জার মতো সারি সারি বেঞ্চ। সামনে শুণ্য বেদি। সবাই কিছুক্ষণ মৌন হয়ে বসে রইলাম। বেশ ভাবগম্ভীর পরিবেশ। মন্দির থেকে বের হয়ে গাছের ছায়ায় বসলাম। সবাই একত্রে আইসক্রিম, পানীয় খেলাম। নাছরিন আপা পান খুঁজে পেলেন। তাই তার খুশি দেখে কে! চড়া দামে পান কিনলেন।

কুতুব মিনার আমাদের দ্বিতীয় গন্তব্য। কুতুবউদ্দিন আইবেক আযান দেবার অভিপ্রায়ে এই মিনারের নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলেন। কয়েক ধাপে এর নির্মাণ সম্পন্ন হয়। পুরো মিনার সুরকি রংয়ের। চৌকোনা পাথর কেটে কেটে বসানো হয়েছে। তাতে অন্যান্য ডিজাইনের সাথে আরবি ক্যালিওগ্রাফির কাজ। এখনো পর্যন্ত মসৃণ, তীক্ষè মিনারের ধারগুলো। নীচ থেকে ক্রমান্বয়ে সরু হয়ে উপরে উঠে গেছে। এর ভেতরে প্রবেশের জন্য গেইট আছে। ভেতর দিয়ে সিড়ি উঠে গেছে চূড়া পর্যন্ত। কোন লিফট নেই। এই গেইট আগে খোলা ছিল। কিন্তু, পরপর দুইটি দুর্ঘটনা ঘটায় স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। প্রথম দুর্ঘটনা ঘটে একদল স্কুল ছাত্র সিড়ি দিয়ে উঠার সময় কিভাবে যেন বিদ্যুৎ সাপ্লাই অফ হয়ে যায়। অন্ধকারে আতংকিত হয়ে পদদলিত হয়ে পঁচিশজন ছাত্র মারা যায়। দ্বিতীয় দফায় এক প্রেমিক যুগল এর চূড়া থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে, ফলে স্থায়ীভাবে এর ভেতরে প্রবেশ বন্ধ করে দেয়া হয়। এটি পৃথিবীর সর্বোচ্চ মিনার বা টাওয়ার।

মিনারের পাশে কুতুবুদ্দিন আইবেকের সমাধি। আরো কিছু সমাধি রয়েছে। হাতের ডানে দেখলাম একটি অদ্ভুদ নির্মাণ। একটি ভবনের অর্ধাংশে মন্দিরের ডিজাইন, বাকি অর্ধাংশে মসজিদের ডিজাইন। একই গৃহ দুই ধর্মের লোকেদের উপাসনার স্থান।

একটু দূরে একটা ধংসস্তুপ। স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানলাম, এটি আলাওলের পদ্মাবতী কাব্যের খলনায়ক আলাউদ্দিন বাদশাহ কর্তৃক নির্মিত মিনারের ধংসাবশেষ। তিনি ঈর্ষা পরায়ণ হয়ে কুতুব মিনারের মত আরেকটি মিনার তৈরি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কিছুদূর করার পরেই তিনি মারা যান। পরে তা আর সম্পন্ন করা হয়নি। আজ কালের সাক্ষী হয়ে রয়ে গেছে এই ধংসস্তুপটি।

কুতুব মিনার থেকে বেরিয়ে আমরা চলে যাই সম্রাট হুমায়ুনের সমাধিতে। সমাধিস্থল বিশাল প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। প্রাচীরের অনেকটা অংশ ভেঙ্গে প্রবেশপথ তৈরী করা হয়েছে। এখানেও মোঘল স্থাপত্য নিদর্শণ হিসেবে রয়েছে বিশাল তোরণ। এই সমাধির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো সমাধিগুলো করা হয়েছে সুউচ্চ ভবনে। অনেকটা খাড়া সিড়ি বেয়ে উঠলেই চোখে পড়বে খোলা চত্বর। ঠিক মাঝের কক্ষে সম্রাট হুমায়ুনের সমাধি। অতি সাধারণ, সাদামাটা মার্বেল পাথরের কারুকার্যহীন সমাধিতে ঘুমিয়ে আছেন তিনি। মূল কক্ষের চারপাশ ঘিরে আরো অনেক কক্ষ। প্রতিটি কক্ষেই একাধিক সমাধি রয়েছে। কিছু কিছু ছোট সমাধিও দেখলাম। মূল সমাধি গুলো রয়েছে ভূ-গর্ভস্থ কক্ষে। ঠিক উপরে তার অনুকরণে সমাধি তৈরি করা হয়েছে। খোলা চত্বর হওয়ায় প্রচন্ড গরম আর রোদে সবাই অস্থির হয়ে পড়লো। সেখান থেকে আমরা সরাসরি হোটেলে ফিরে এলাম।

বিকেলে বের হলাম সাইট সিয়িং এর জন্য। বাসে করে দিল্লীর রাস্তায় ঘোরা আর দেখা। ধীর গতিতে বাস চলতে লাগলো। আমরা ইন্ডিয়া গেট আর প্রেসিডেন্সি ভবন দেখলাম। ওখানে নামার অনুমতি নেই। ঘুরে দেখা শেষ হলে বাস আমাদের শপিং এর জন্য মার্কেট এ নামিয়ে দিল। শপিং শেষ করে বাসে করেই আমরা হোটেলে ফিরলাম। সারা দিনের ক্লান্তি এবার যেন ঝাপিয়ে পড়লো একসাথে। কিছুক্ষণ পর নিদ্রাদেবীর কাছে আত্মসমর্পণ করলাম আগামী সকালের প্রত্যাশায়।

Total View: 1154

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter