বৃহস্পতিবার,  ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  সন্ধ্যা ৬:১৩

জোবেদার আনন্দময় ভ্রমন কাহিনী-২

জুলাই ১৭, ২০১৮ , ২১:৫৮

জোবেদা আক্তার

মাঝে মাঝে মানুষের মুখে শুনতাম,“দিল্লী অনেক দূর, দিল্লী হচ্ছে স্বপ্নের শহর, দিল্লী শহরটা দেখতে অনেক সুন্দর”। আজ এয়ারপোর্ট থেকে হোটেলে আসার পথে দেখছিলাম সেই স্বপ্নের শহর দিল্লীকে। দিল্লী শহরের ভূমি আমাদের দেশের ভূমির মতো নরম, কোমল, কমনীয় নয়, বরং অনেকটা পাথুরে এবং রুক্ষ। কিন্তু তার মাঝেই উকি দিচ্ছেল সবুজের সতেজতা।

আমরা যে হোটেলে অবস্থান করেছিলাম তাকে হোটেল না বলে, তাকে আই.এম.আই ইনিস্টিটিউিট বলা যেতে পারে। কারণ এখানে সব রয়েছে। রয়েছে নিজস্ব ক্যাম্পাস। ডর্মেটরী রয়েছে আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য। সেই আবাসিক শিক্ষার্থীদের দীপ্ত পদচারণায় মাঝরাত পর্যন্ত মূখরিত থাকে সারা ক্যাম্পাস। আমরা যে ভবনে ছিলাম, তার ৬ষ্ঠ এবং সপ্তম তলাটি রাখা হয়েছে আমাদের আবাসনের জন্য। অষ্টম তলা সকালের নাস্তা এবং ডিনারের জন্য। নবম তলায় রয়েছে আমাদের ট্রেনিং রুম। দুপুরের খাবার এবং শেষ বিকেলের চা ট্রেনিং রুমের পাশের রুমে খাওয়া হয়। এ যেন একের ভেতর অনেক কিছুর সমাহার।

যাই হোক, পরদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠলাম। যারা তখনো উঠেনি তাদেরকে হৈ চৈ করে তুলে ফেললাম। এরপর একেবারে রেডি হয়ে চলে গেলাম অষ্টম তলায় ব্রেকফাস্ট টেবিলে। ব্রেকফাস্ট শেষে সোজা নবম তলায় চলে গেলাম। সেখানে রয়েছে আমাদের ট্রেনিং রুম। তার পাশে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালাম। বারান্দা বলতে ইমার্জেন্সি এক্সিটের বারান্দা। গতকাল বাহিরে থেকে দেখার সুযোগ হয়নি। বারান্দায় দাঁড়াতেই আমি হতোবাক হয়ে গেলাম। চোখের সামনে অবাক বিস্ময় নিয়ে উদয় হলো দিগন্ত বিস্তৃত জোড়া সবুজ বন। খোঁজ নিয়ে জানলাম, এই বনের নাম হচ্ছে সঞ্জয় বন। রিজার্ভ ফরেস্ট। উল্টো দিকের জানালা দিয়ে স্বমহিমায় উকি দিচ্ছে ঐতিহাসিক কুতুব মিনার। এতো সুন্দর বন এবং ঐতিহাসিক কুতুব মিনার দেখে মনের ভিতর খচ খচ করতে লাগলো। কখন দেখতে যাবো সেই বন আর কুতুব মিনার !

সকাল ১০ টা থেকে কার্যক্রম শুরু। ডঃ মমতা মহাপাত্র প্রথমার্ধ পরিচালনা করলেন। মনোমুগ্ধকর পরিচিতি পর্ব আর আমাদের পরিবেশনার সমন্বয়ে সত্যি জমে উঠল সেশন। মঞ্জু, নাসরিন আপা, আলমগীর ভাই এবং পান্না গান গাইল। কিবরিয়া স্যার আবৃত্তি করলেন। আমি আবৃত্তি আর ইংলিশ গানে ওয়ার্ম আপ পরিবেশন করলাম। সেশন শেষে ডঃ মমতার হাতে তুলে দিলাম ঢাকার আড়ং থেকে নেয়া ঐতিহ্যবাহী গিফট।

এরপরে পরিচয় মিসেস ভিনিতা খেরের সাথে। কোন বই বা তত্ত্ব নয়, সুদীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই কথা বললেন। অনেক আন্তরিকতার সহিত আমাদের সাথে মিশলেন। চায়ের টেবিলে আমার শাড়িটার দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমার শাড়িটা খুব সুন্দর, স্মার্ট। বললাম, এটা গ্রামীণ চেক। আমাদের ঐতিহ্য। এক কথায় ডঃ ইউনুসকে চিনে নিলেন। গর্বে বুক ভরে গেলো আমার। গিফট পেয়ে এতো খুশি হলেন, সাথে সাথে খুললেন, “বার বার বললেন, খুব পছন্দ হয়েছে”।

সেশন শেষে রেজাউল স্যার বললেন, গতকাল আমাদের রেখে একা ঘুরেছেন, সেটা আর হবেনা। যেখানে যান আমাদের নিয়ে যেতে হবে। অন্যেরাও অভিযোগ করলো। ঘুরতে বের হলাম সবাই মিলে। প্রথমে “সঞ্জয় বন”। সকালের নবম তলায় থেকে দেখা সঞ্জয় বন। বনের পাশে পার্ক, মাঝখান দিয়ে পিচঢালা রাস্তা হারিয়ে গেছে বনের গহিনে। রাস্তা দিয়ে দৌড়ে পার হচ্ছে কাঠবিড়ালি। বড় বড় লাল পাথর, তার ভেতরেই কাটাময় গাছের বন। গাছের নাম বাবলা। এরই আধিক্য। বনের ভেতর ঘুরে পার্কে বসে শুরু হলো আড্ডা।

নাসরিন আপা বসলেন না। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে একের পর এক গাইতে শুরু করলেন গান। সেই সাথে মঞ্জুও। আর যতো এলোমেলো কথা। সবার অনুরোধে আবৃত্তিও হলো। এরপর আমরা পাশের গোরক নাথ মন্দিরে গেলাম। পরিচ্ছন্ন ছিমছাম বিশাল মন্দির। খালি পায়ে সবটা ঘুরে দেখলাম। ক্যাম্পাসে ফিরে টিলার উপর বেঞ্চে বসে আবার আড্ডা। কত সময় যে পার হলো, কত যে জানাশোনা হলো পরস্পর। আমি, মঞ্জু, পান্না, ইন্দিরা আর রেজাউল স্যার। মঞ্জু আর ইন্দিরাই বলছিল, আমি আর পান্না মাঝে মাঝে যোগান দিচ্ছিলাম, স্যার শুধু শুনছিলেন আর হাসছিলেন। ডিনারের সময় হয়ে এলে ভেতরে ঢুকলাম। এই ভাবে আনন্দ ভ্রমন, হাসি তামাসার মধ্য দিয়ে কেটে গেলো ট্রেনিংয়ের দ্বিতীয় দিন। তাকিয়ে রইলাম আগামী সকালের প্রত্যাশায়।

Total View: 1069

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter