বৃহস্পতিবার,  ২১শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,  ৭ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ৪:৪৭

তাঁতপল্লী নিয়ে আসাদুজ্জামান জুয়েল এর আশা হতাশার গল্প

মার্চ ২৯, ২০১৯ , ২৩:৫২

জাজিরা থেকে কেন চলে যাচ্ছে ১৯শ’ কোটি টাকার তাঁতপল্লী?

শুরুতেই আশার গল্প, আষাঢ়ে গল্প নয়! বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে জানযায়, মাদারীপুরের শিবচর ও শরীয়তপুরের জাজিরায় এক হাজার ৯১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হতে যাওয়া তাঁতপল্লী ঘিরে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন বিলুপ্তপ্রায় তাঁতিরা। এ প্রকল্পটির জন্য শিবচর উপজেলার কুতুবপুরে ৬০ একর ও শরীয়তপুরের জাজিরায় ৪৮ একর জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাঁতপল্লীতে থাকবে কারখানা, আবাসন, শিক্ষা, প্রশিক্ষণসহ আধুনিক সব সুবিধা। মিরপুরের বেনারসি পল্লীর তাঁতিরাও এ পল্লীর অন্তর্ভুক্ত হবেন। প্রধানমন্ত্রী ১ নভেম্বর এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পদ্মা সেতুর দ্রুত বাস্তবায়নের সঙ্গে এ এলাকায় তাঁতপল্লী স্থাপনের কাজ শুরু হওয়ায় নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন এ অঞ্চলের তাঁতিরা। ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তাঁতপল্লীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেও জায়গা নির্ধারণ হয়েছে আরও আগেই। দুই মাসের মধ্যে শুরু হবে মাটি ভরাটের কাজ। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৫৩ কোটি টাকা। এতে ৬ তলা বিশিষ্ট ভবনগুলোতে প্রত্যেক তাঁতির জন্য ৬০০ ফুটের কারখানা ও ৮০০ ফুটের মধ্যে আবাসন সুবিধা থাকবে। সরকারের পক্ষ থেকে সুতা-রঙসহ কাঁচামালের সুবিধা দেওয়া হবে। নির্মাণ হবে আন্তর্জাতিক মানের শোরুম ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। তাঁতিদের ছেলেমেয়েদের জন্য থাকবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই পদ্মাপাড়ে তাঁতপল্লী গড়ে তোলার যে উদ্যোগ নিয়েছেন তাতে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প আবার পুনরুজ্জীবিত হয়ে উঠবে। এখানে সয়েল টেস্ট শেষে বিভিন্ন ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ২৫৩ কোটি টাকার কাজ শেষ করব। মূল প্রকল্প ১ হাজার ৯১১ কোটি টাকার। এটি একটি মেগা প্রকল্প। এখানে ঢাকার মিরপুরের বেনারসি পল্লীর তাঁতি ও এই অঞ্চলের তাঁতিদের পুনর্বাসন করা হবে। তাদের প্রত্যকের জন্য আধুনিক অনেক ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকবে। তাঁতিদের বিনামূল্যে অথবা ন্যায্যমূল্যে সুতা, রঙসহ বিভিন্ন কাঁচামাল সরবরাহ করা হবে। রঙ করা, ফ্যাশন ডিজাইনসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

এবার শুনাই হতাশার গল্প। অনিয়ম রোধে মাদারীপুরের শিবচর ও শরীয়তপুরের জাজিরায় ১৯শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে যাওয়া শেখ হাসিনা তাঁতপল্লীর পূর্ব নির্ধারিত স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনকালে একথা বলেন তিনি। এ সময় চিফ হুইপ বলেন, শেখ হাসিনা তাঁতপল্লীর নির্ধারিত স্থানে অবৈধ স্থাপনা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর ও তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে দেখা গেছে এখানে ভালো কিছু হচ্ছে না। আমাদের নির্দেশনায় মাদারীপুরের প্রশাসন অবৈধ সব স্থাপনা ভেঙে ফেলেছে। কিন্তু শরীয়তপুরের প্রশাসন কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করেনি। গত ২৪ মার্চ পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর্জা আজম, সংলগ্ন সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা সবাই একমত হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেসব এলাকায় অবৈধভাবে ঘরবাড়ি, গাছপালাসহ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে সেসব এলাকা এই প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, দুই জেলায় এমন একটি প্রকল্প করতে গেলে শুধু এই অনিয়মই নয় ভবিষ্যতে আরও কিছু সমস্যা হবে। তাই সংসদীয় কমিটি, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা সবাই একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, শেখ হাসিনা তাঁতপল্লী একই উপজেলায় করা হবে। আর এ জন্য মাদারীপুরের শিবচরের কুতুবপুর এলাকায় জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই যে আশা হতাশা কাদের জন্য? তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেবে সরকার? প্রশাসনের যে কর্তাব্যক্তিদের কারনে ও প্রশ্রয়ে অনিয়ম ঘটলো সেই প্রশাসনের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে কি? যে জনগন এ অনিয়ম ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে কি? এমন হাজারো প্রশ্ন ঘুরছে মনে। শুধু আমার নয়, সারা শরীয়তপুরবাসীর মনে এমন প্রশ্ন।

জাজিরায় পদ্মা সেতুর জন্য অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকরা, দালালরা, প্রশাসনের কর্তারা কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে। এর পর সেনানিবাস তৈরীর জন্য যখন জমি প্রয়োজন হলো তখন সেই জমির মালিক, দালাল, প্রশাসন আবার এক হলো। হাজার হাজার গাছের চারা রোপন করে, যেনতেন ভাবে ঘর তৈরী করে, পুকুর খনন করে ফাদ পাতলো টাকার জন্য। পাট কাঠির মত গাছের চারা আধা ফুট অন্তর অন্তর রোপন করেছিলো। সেই গাছের জন্য এবং জমি, ঘরের জন্য কোটি কোটি টাকার বিল তৈরী করেছিলো প্রশাসনের সহায়তায়। অতপর মিডিয়া কর্মীদের কারনে নতুন করে মূল্যায়ন করলে অর্ধেকের বেশি টাকা কমে গিয়েছিলো। সুযোগ সন্ধানীরা আবার রিট করে সেই টাকা তুলে নিয়েছে। এর পরই ঘোষণা আসলো তাঁতপল্লীর। আবারও সেই ঘটনার পূনরাবৃত্তি। স্থানীয় লোকজন, দালালরা, প্রশাসনেরও অনেক লোক জায়গা কিনে, ভাড়া নিয়ে গাছ লাগালো, ঘর তুললো। বিচি বুনলে যেভাবে গাছ হয় ঠিক সেভাবেই লাগানো হলো গাছের চারা। দুর থেকে দেখলে মনে হবে সবজির বাগান! কারন আর কিছুই নয়। একএকটা চারা কিনে লাগাতে খরচ হবে দশ থেকে পনের টাকা আর বিল পাবে দশ থেকে বিশ হাজার টাকা। এমন টাকার গাছ কেউ কি না লাগিয়ে পারে? ঘর তুলেছে দোচালা, সেই ঘর হয়ে যাবে কাগজে কলমে দোতলা। এমন আয়ের পথে কে না হাটে? এই যে কাজগুলোর কথা বললাম, এগুলো কারা করে? আমার দেশের চাষা ভূষা, খেটে খাওয়া মানুষ এসব কুটকৌশল জানে না। শিক্ষিত ব্যক্তি, চতুর, দুর্নীতিবাজরাই এসব করতে জানে।

জাজিরায় তাঁতপল্লী হলে এ অঞ্জলের হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হত। হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হতো। এখানে নানান রকম ব্যবসা বাণিজ্য গড়ে উঠতো। মানুষ কাজ করে খাওয়ার ‍সুযোগ পেতো। অতি লোভের কারনে সব বন্ধ হয়ে গেলো। যারা অতি লোভে এমন কাজগুলো করেছে তাদের খুব বেশি ক্ষতি হবে না। তাদের হয়তো লাভটা হবে না কিন্তু ক্ষতিগ্রস্থ হবে এলাকার মানুষ। একটি সমৃদ্ধ শরীয়তপুর হতে পারতো। কিন্তু মানুষ চিলে নিলো শরীয়তপুরের জাজিরার মানুষ কত খারাপ, কত নিকৃষ্ট, কত দুর্নীতিপরায়ন। এর দায় থেকে কিভাবে এড়িয়ে যাবে জাজিরার মানুষ, শরীয়তপুরের প্রশাসন? প্রশ্নটা রেখে গেলাম।

Total View: 341

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter