শুক্রবার,  ১৪ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ৩০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ১:৪৭

তুলি’র অনিয়মের তদন্ত চলছে, সঠিক প্রতিবেদনের অপেক্ষায় অভিযোগকারী

জুলাই ২৯, ২০২০ , ১৭:০১

স্টাফ রিপোর্টার
ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক রিশাদ জাহান তুলির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। আর সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য বিভাগের মহা পরিচালক শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুল্লাহ আল মুরাদকে তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুল্লাহ আল মুরাদ ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। সেই কমিটি ২৮ জুলাই সরেজমিনে তদন্তের কাজ শুরু করেছেন। এদিকে সঠিক তদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন অভিযোগকারীরা। অপরদিকে প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক রিশাদ জাহান তুলির শুভাকাংখীরা তদন্ত কমিটিকে বিভিন্ন ভাবে প্রভাবিত করে ব্যাপারটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগকারীদের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন যাবৎ অনিয়ম ও দুর্নীতির মহোৎসব চলছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মেঘনাদ সাহা প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক রিশাদ জাহান তুলির মাধ্যমে পার্সেন্টিজ বাণিজ্য, ভূয়া বিল ভাউচারের দেখিয়ে সরকারী টাকা আত্মসাৎ করে আসছেন। শুধু তাই নয়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রতিটি বিল থেকে ৩০ থেকে ৪০ পার্সেন্ট টাকা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে কেঁটে রাখেন। তার এই পার্সেন্টিজ বাণিজ্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্বাস্থ্য সহকারী, নার্স, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা।

গত জুন মাসে ভূয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে সরকারী কোষাগারের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মেঘনাদ সাহা এবং প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক রিশাদ জাহান তুলি।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে আরও জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মেঘনাদ সাহা এবং প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক রিশাদ জাহান তুলি গত জুন মাসে গ্যাস ও জ্বালানি ক্রয় বাবদ ২ লক্ষ ১২ হাজার ৩ শ ১০ টাকা একটি বিল এবং ১ লক্ষ ৪৮ হাজার ১শত ২শ ১ টাকা ভূয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।

চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের পোষাক ভাতা বাবদ জনপ্রতি ১৫ হাজার ১শ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সেই পোষাক ভাতার ১৫ হাজার ১শ টাকা না দিয়ে ১০ হাজার ৫শ টাকা করে দিয়েছেন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের। এখানে জনপ্রতি ৪ হাজার ৬শ টাকা করে আত্মসাৎ করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি মৃত কর্মচারীর নামে পোষাক ভাতার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন।

পরিসংখ্যানের কম্পিউটার ও আনুসঙ্গিক বাবদ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে কিন্তু সেই বরাদ্দে টাকা উত্তোলন করে পরিসংখ্যান শাখাকে মাত্র ৪ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। বাকী টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন।

পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বাবদ ভেদরগঞ্জ উপজেলার ৫টি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নামে ১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য সেই টাকা কোন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রকেই দেয়া হয়নি। পুরো টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন।
এ ব্যাপারে লাকার্তা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দের উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার শিউলি আক্তারের সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, আমি দশ বছর যাবৎ এখানে কর্মরত। সাথে মহিষার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বেও রয়েছি। কিন্তু পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বাবদ অদ্যবধি কোন টাকা পাইনি। আমার পকেটের টাকা দিয়ে প্রতি বছর পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম করে থাকি। আমি সিভিল সার্জন স্যারকেও পরিচ্ছন্নতার জন্য বরাদ্দের কথা বলেছি। স্যার বলেছেন উপজেলায় বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু কখনো এ বরাদ্দের টাকা আমরা পাইনি।

কার্তিকপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার আব্দুস সাত্তারের সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, আমি নিজের টাকায় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখি। এ যাবৎ কোন দিনই এ সংক্রান্ত কোন টাকা পাইনি। আমাদের নামে বরাদ্দ আছে তাও জানতাম না। এ জাতীয় অপরাধের কঠিন বিচার হওয়া উচিত।

পরিচ্ছন্নতা কর্মী রেশমা বলেন, আমাদের পোষাক ভাতার জন্য ১৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ এসেছে। কিন্তু প্রধান সহকারী তুলি ম্যাডাম আমাদের ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছে। আমরা গরিব মানুষ। কম বেতনে ছোট চাকুরী করি। আমাদের পক্ষে কথা বলার কেউ নেই।

এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার আবু তাহের বলেন, আমার পোষাক ভাতা বাবদ ১৯ হাজার টাকা বরাদ্দ এসেছে। কিন্তু আমাকে প্রথমে ১০ হাজার টাকা দিয়েছে। প্রতিবাদ করায় পরে আরো ৩ হাজার টাকা দিয়েছে। আমরা এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ করেছি। কারণ কোন খাতে টাকাই আমরা সঠিক ভাবে পাই না। অফিসে পার্সেন্টিজ দিতে দিতে নিঃস্ব হয়ে গেছি।

এমএলএসএস শাহিন বলেন, পোষাক ভাতা থেকে ৫ হাজার করে টাকা কম দিয়েছে। আমরা এর বিচার চাই। আমাদের টাকা এভাবেই বছরে পর বছর লূটে নিচ্ছে কিন্তু আমাদের বলারও জায়গা নাই। আমরা অসহায়। চাকুরীর ভয়ে কিছুই বলতে পারি না।

প্রধান সহকারী রিশাদ জাহান তুলি বলেন, আমি স্যারের নির্দেশে কাজ করে থাকি। আমার নামে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। বরাদ্দ থেকে ভ্যাট কাটতে হয়। অনেক জায়গায় খরচ লাগে। এ গুলো আমি কোথা থেকে দেবো ?

ভেরদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মেঘনাদ সাহা বলেন, টাকা পয়সার লেনদেনের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এগুলো প্রধান সহকারীর বিষয়।

শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুল্লাহ আল মুরাদ জানান, এ ঘটনায় আমার নেতৃত্বে সিনিয়র মেডিকেল অফিসার আব্দুস সাত্তার ও সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার ১০টা থেকে আমরা তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছি। দু’এক দিননের মধ্যেই আমরা প্রতিবেদন দিতে পারবো।

Total View: 406

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter