বৃহস্পতিবার,  ২২শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,  ৯ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,  রাত ১১:৫২

দলীয় কোন্দলই আওয়ামীলীগের ভরাডুবির মূল কারণ হতে পারে

মে ১৯, ২০১৮ , ০১:২৫

এস.এম শফিকুল ইসলাম স্বপন
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসীল ঘোষনা না হলেও সে নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মধ্যে মনোনয়নের লড়াই জমে উঠেছে। আর সেই মনোনয়নের লড়াই শরীয়তপুরেও পরিলক্ষিত হচ্ছে। ঢাকার অদূরে পদ্মা-মেঘনা নদী বেষ্টিত শরীয়তপুর সদর এবং জাজিরা উপজেলা নিয়ে গঠিত হয়েছে শরীয়তপুর-১ আসন। অনেক আগে থেকেই বেশ জোরে শোরে এ আসনে নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়েছে। আর এদিকে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা শুরু করতে গিয়ে শাসক দলের নেতাদের মধ্যে চলছে অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগ। সুবিধা বঞ্চিত নেতারা বলছেন, শরীয়তপুর আওয়ামী অধ্যুষিত এলাকা হওয়া সত্ত্বেও উন্নয়নের তেমন কোন ছোঁয়া লাগেনি। জেলাটি রাজধানীর অতি নিকটে হলেও সে অনুযায়ী বিদ্যুতায়ন ও রাস্তাঘাটের দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন হয়নি। তবে পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হওয়ায় নতুন করে স্বপ্নে দেখতে শুরু করেছে শরীয়তপুরবাসী। আর সেই স্বপ্নকে কাজে লাগাচ্ছেন সরকার দলীয় সম্ভাব্য প্রার্খীরা। অনেকের ধারণা, পদ্মা সেতুটি হয়ে গেলে আর পেছন ফিরে তাকাতে হবে না। ঘুচে যাবে তাদের অবহেলিত থাকার বঞ্চনা।
জেলার দুটি উপজেলায় ২টি পৌরসভা এবং ২৩টি ইউনিয়ন নিয়ে শরীয়তপুর-১ আসন গঠিত। এ আসনে বরাবরই আওয়ামীলীগ প্রার্থী বিজয়ী হয়ে আসছে। বিশেষ করে নব্বইয়ের পর এ আসনে আওয়ামীলীগ ছাড়া অন্য কোনো দলের প্রার্থী নির্বাচিত হয়নি।
গত কয়েক বছর ধরে শরীয়তপুর সদর থেকে আওয়ামীলীগ কাউকে মনোনয়ন না দেয়ায় এ নিয়ে স্থানীয় নেতাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ আসনে আওয়ামীলীগ কখনও জাজিরা আবার কখনও ডামুড্যা থেকে প্রার্থী ধার করে এনে মনোনয়ন দিয়েছে। এ আসনের বর্তমানে এমপি হচ্ছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি.এম মোজাম্মেল হক। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি এমপি হন। আগামী নির্বাচনে তিনি দলের একজন শক্তিশালী প্রার্থী। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক ছাড়াও এ আসনে আওয়ামীলীগের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন অপু, শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা মোঃ রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এবং বিশিষ্ট শিল্পপতি মোবারক আলী সিকদার।
দলীয় কোন্দলই আওয়ামীলীগের ভরাডুবির মূল কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন আওয়ামীলীগের বর্ষিয়ান নেতা শরীয়তপুর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আবুল ফজল মাষ্টার। তার মতে, এবার যদি আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি.এম মোজাম্মেল হক এম.পিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হয়, তাহলে ভাটারগণ তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বর্তমানে জেলা আওয়ামীলীগ দুইটি ভাগে বিভক্ত। তাদের মধ্যে একটি ভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি.এম মোজাম্মেল হক এম.পি এবং অপর ভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ইকবাল হোসেন অপু। তারা দুই জনই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণের জন্য মনোনয়ন চাইবেন। এলাকায় রয়েছে তাদের পৃথক পৃথক জনপ্রিয়তা। তারই ধারাবাহিকতায় তারা আলাদা আলাদা ভাবে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন।
এবার নির্বাচনে এমপি সাহেবের সাথে জেলার কোন বর্ষিয়ান নেতা না থাকলেও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ছাবেদুর রহমান খোকা সিকদার এবং সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে রয়েছেন। পাশাপাশি ইকবাল হোসেন অপুর সাথে রয়েছেন, সাবেক সংসদ সদস্য এবং জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাষ্টার মজিবুর রহমান, সাবেক জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাবেক পৌরসভা মেয়র আবদুর রব মুন্সি, জাজিরা উপজেলা চেয়ারম্যান মোবারেক আলী সিকদারসহ অনেক বর্ষিয়ান নেতা। ইকবাল হোসেন অপুর সাথে যে সকল নেতারা রয়েছেন এ সকল নেতাদেরকে বি.এম মোজাম্মেল হক নিজের করে নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা পারেননি। তার কিছু খাম খেয়ালীপনা এবং নেতাদের অবমূল্যায়নের কারণে তার কাছ থেকে দূরে সরে গেছেন। অপরদিকে ইকবাল হোসেন অপু তাদেরকে সঠিক মূল্যায়ণ করেছেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যদি বি.এম মোজাম্মেলকে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়ন দেয়া হয় আর যদি ইকবাল হোসেন অপুকে না দেয়া হয় তাহলে মাষ্টার মজিবুর রহমান, আবদুর রব মুন্সি, মোবারেক আলী সিকদারসহ অনেক বর্ষিয়ান নেতাযারা বি.এম মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে অদৃশ্য ভাবে কাজ করবে। তাতে বি.এম মোজাম্মেল হকের ভরাডুবি ডেকে আনবে। কারণ শরীয়তপুরের চেয়ে জাজিরা উপজেলায় আওয়ামীলীগের ভোটার অনেক বেশী। তারা বেশীর ভাগই মাষ্টার মজিবুর রহমান এবং মোবারেক আলী সিকদারের ভক্ত। তারা মাষ্টার মজিবুর রহমান এবং মোবারেক আলী সিকদারের নির্দেশের বাইরে এক ইঞ্চিও নড়বে না। অপর দিকে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেদুর রহমান খোকা সিকদার এবং সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে সিলেকশন পদ্দতিতে হলেও তাদের ব্যাক্তিগত ভোটের সংখ্যা অনেক কম। সেক্ষেত্রে একটি বৃহৎ ভোট ব্যাংকের নেতৃত্ব দিবেন সাবেক জেলা সভাপতি আবদুর রব মুন্সি। তিনি বরাবরই বি.এম মোজাম্মেল হকের বিরোধীতা করে আসছেন। আবার অনেক আওয়ামীলীগের ভোটার তাদের প্রার্থী পছন্দ না হলে তারা কেন্দ্রে ভোট দিতে যাবেন না। সেক্ষেত্রে আওয়ামীলীগের ভোট তিন ভাগে বিভক্ত হবে। আর এই সুযোগটা বিরোধী পক্ষ নেয়ার চেষ্টা করবে। তখন দলীয় কোন্দলই আওয়ামীলীগের ভরাডুবি ডেকে আনবে।
এলাকার উন্নয়ন এবং নির্বাচনী ভাবনা নিয়ে কথা হয় এমপি বি.এম মোজাম্মেল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার নেতৃত্বে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। শরীয়তপুর এখন আর অবহেলিত নয়। স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে মসজিদ-মাদ্রাসা, হাসপাতাল ও রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। তাই মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।
জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সভাপতি জাজিরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোবারক আলী সিকদার বলেন, বর্তমান এমপি দলের জন্য কিছুই করেননি। দলটাকে ভেঙ্গে কয়েকটি গ্রুপে পরিণত করেছেন। গত ৯ বছরে নিজের আখের গুছিয়েছেন। দলের পরীক্ষিত এবং ত্যাগী নেতাদের বিতাড়িত করে জামাতিদের স্থান দিয়েছেন। শরীয়তপুরে আওয়ামীলীগের দুঃসময়ে আমিই তৃণমূল নেতাকর্মীদের ধরে রেখেছি। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত নিলে আমার পক্ষে রায় দিবে। তাই আমি মনোনয়ন প্রত্যাশা করি।
শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা মোঃ রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি আমাকে মনোনয়ন দেন, তাহলে আমি বিপুল ভোটে বিজয়ী হব। জনগণের প্রতি আমার আস্থা আছে।
আওয়ামীলীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন অপু বলেন, গত ৯ বছরে শরীয়তপুরে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। উন্নয়ন হয়েছে এমপি’র পরিবারের। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা নৌকার বিরোধিতা করেছে তাদের তিনি প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের লোকজনকে মনোনয়ন না দিয়ে লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য করে জামায়াত-শিবিরকে মনোনয়ন দিয়েছেন। তিনি বিভিন্ন সভা-সমাবেশে নানা রকম প্রতিশ্রুতি দিলেও কোনোটারই বাস্তবায়ন করেন না।

Total View: 1124

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter