শনিবার,  ১৬ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,  ২রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ৩:২১

দু’হাত হারালেও সাহস এবং আগ্রহ হারায়নি স্বর্ণা

এপ্রিল ২১, ২০১৯ , ২০:৪৪

ময়মনসিংহ সংবাদদাতা,

দুই হাতের কনুই পর্যন্ত নেই। তাতে কী! অধম্য সাহস আর চেষ্টা তাকে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত করতে পারেনি। অন্য সহপাঠীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই এবার ভোকেশনাল বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে স্বর্ণা। কনুই দিয়ে কলম ঘুরিয়ে পরীক্ষায় খাতায় লিখেছে সে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ ডিএস কামিল মাদ্রাসা পরীক্ষা কেন্দ্রে চলমান এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে রাজিবপুর ইসলামিয়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের ছাত্রী স্বর্ণা। সে উপজেলার চরপাড়া গ্রামের দুলাল চন্দ্র সরকারের দুই মেয়ের মধ্যে ছোট। ছোটবেলায় বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে বিদ্যুতের তারে দুই হাত জড়িয়ে যায়োর পর তার দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয়। মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে অল্প জমি আর ভিটেমাটি হারাতে হয়েছে তার পরিবারকে। অন্যের আশ্রয়ে কোনোমতে দিন পার করা পরিবারকে স্বর্ণা শিক্ষার খরচ যোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কিন্তু স্বর্ণা লেখাপড়া শিখে শিক্ষক হতে চায়। ফলে শত প্রতিবন্ধকতা পার করে এগিয়ে চলেছে সে। দুই হাতের কনুই দিয়েই আলোকিত করছে চার পাশ। পাড়ার ছেলেমেয়েদের প্রাইভেট পড়িয়ে নিজের লেখাপড়ার খরচ চালাচ্ছে সে। পরীক্ষা কেন্দ্রের অন্য সব সুস্থ পরীক্ষার্থীর সঙ্গে শারীরিক প্রতিবন্ধী স্বর্ণা রানীও পরীক্ষা দিচ্ছে।

পরীক্ষা শেষে কথা হয় স্বর্ণা রানী সরকারের সঙ্গে। সে জানায়, ছোটবেলায় দু’হাতের কব্জি হারিয়ে দুঃসহ মানসিক যন্ত্রণায় পড়েন। এ সময় তাকে ভরসা দেন তার মা স্বপ্না রানী সরকার। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর স্বর্ণার কব্জিতে কলম ধরিয়ে লেখানোর চেষ্টা শুরু করেন তার মা। কিছুদিন চেষ্টার পর সে কনুই দিয়ে লিখতে শুরু করে। এরপর কনুই দিয়ে লিখেই পিইসি পরীক্ষায় ৩.২৫, জেএসসিতে ৪.৬০ এবং এসএসসিতে ৩.৮৯ পয়েন্ট পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। দারিদ্র্যতা আর হাত হারানো প্রতিকূলতার মধ্যে থেকেও পড়ালেখা বন্ধ করেনি সে। এএসসি পাস করে স্থানীয় রাজিবপুর ইসলামিয়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজে ভর্তি হয়। বাড়িতে বসেই ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত শিশুদের প্রাইভেট পড়িয়ে যে টাকা আয় হয় তা দিয়েই নিজের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে নেয়।

স্বর্ণা রানী সরকার আরও জানায়, যারা তার মতো প্রতিবন্ধী তাদের নিয়ে স্বপ্ন দেখে সে। লেখাপড়া শেষ করে শিক্ষক হয়ে প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে চায়। তবে তার এ আশা পূরণ হবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে আছে সে। তাই দেশের সকল মানুষের কাছে আশীর্বাদ ও সহযোগিতা কামনা করেছে সে।

Total View: 275

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter