সোমবার,  ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ২:৫১

পদ্মার ভাঙনে হুমকিতে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা

সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮ , ১৮:৩২


স্টাফ রিপোর্টার
পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় দুইশ বছরের পুরনো মূলফৎগঞ্জ বাজারসহ আশেপাশের পাঁচ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কাঁচা-পাকা ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে পুরনো এ বাজারের আরও সহস্রাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যাংক, বীমা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ঘর-বাড়ি। বিলীন হয়ে যেতে পারে নড়িয়া উপজলার একমাত্র ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বাজার সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী মূলফতগঞ্জ ফাজিল মাদ্রাসাটিও।

৯ সেপ্টেম্বর, রবিবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনে ফাটল ধরেছে। এর কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১ ও ২ ভবন থেকে আসবাবপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রোগীদের পাশের একটি ভবনে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এ ছাড়া শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ভাঙন আতঙ্কে এলাকার বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে নেওয়ায় বিচ্ছিন্ন রয়েছে বাজার, হাসপাতালসহ আশপাশের এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ।

অবশ্য ভাঙন রোধে সরকার ৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়ে পদ্মার পাড়ে জিও ব্যাগ ফেলছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বহুতল ভবন মুহূর্তেই নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। ঠিক এ মুহূর্তে সেখানে বালুভর্তি জিও ব্যাগের কী গুরুত্ব থাকতে পারে! সরকার কোটি কোটি টাকার জিও ব্যাগ নদীতে না ফেলে ভাঙনে ইতিমধ্যে সর্বহারা অসহায় লোকদের সাহায্য দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করলে ভালো হতো। আর স্থায়ীভাবে নদী ভাঙন রোধে সরকারের দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।

নদী ভাঙনের ফলে গৃহহারা আবদুর রব বেপারী জানান, ওয়াপদা এলাকায় তার বাড়ি ছিল। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সেখান দিয়ে আজ বড়-বড় লঞ্চ-স্টিমার যায়। নড়িয়া বাজারের দক্ষিণ পাশে ভাড়া বাসায় উঠেছেন তিনি স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে। এ পর্যন্ত একবার সহায়তা পেয়েছেন। ভাঙন রোধে যে জিও ব্যাগ নদীতে ফেলা হয়েছে, তা কোনো কাজে আসছে না। ঠেকানো যায়নি ভাঙন। তিনি বলেন, ‘এ অর্থ নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ও অনাহারি মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে।’

স্থানীয় আল আমিন, সবুজ রানা হওলাদার ও জয়নাল ফকিরের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। মানুষের জীবন বাঁচছে না। নদীতে জিও ব্যাগ ফেলে কী হবে? যেখানে একটা বহুতল ভবন ২০ সেকেন্ডে নদীগর্ভে বিলীন হয়, সেখানে বালুভর্তি জিও ব্যাগ কী করে উত্তাল নদীর ভাঙন ঠেকাবে? স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে মানুষের ঘরবাড়ি, সম্পদের মতো সরকারি কোটি কোটি টাকাও নদীর পেটে চলে যাবে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর নড়িয়া উপজেলার পদ্মার পাড়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৪ হাজার পরিবারের বাড়িঘর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের ফলে ক্ষতিগ্রস্তরা একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজতে দিশেহারা হয়ে এদিক-সেদিক ছুটছেন। পদ্মার তীরবর্তী এলাকার লোকজনের চোখে ঘুম নেই। তারা দিন-রাত তাদের সর্বশেষ সম্বল ঘরবাড়ি, দোকানপাট সরিয়ে নিতে প্রাণপণ চেষ্টা করলেও চোখের সামনেই মুহূর্তে সব বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, ভাঙন রোধে স্থায়ীভাবে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে সামনে ওই উপজেলার মানচিত্র পদ্মার ভাঙনে আরও ছোট হয়ে যাবে। সর্বস্ব হারাবে নদীপাড়ের অবশিষ্ট মানুষ।

ভাঙন কবলিত এলাকার সুজন ঢালী জানান, এ বছর বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই পদ্মা ভাঙতে ভাঙতে দক্ষিণে ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত চলে এসেছে। গত পাঁচ দিন ধরে ভাঙন শুরু হয় দুইশ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী মূলফৎগঞ্জ বাজারের উত্তর পাশ।

ক্ষতিগ্রস্ত একজন জানান, তারা বর্ষার আগেই চেয়েছিলেন পদ্মার দক্ষিণ তীরে নড়িয়া উপজেলা শহর এবং পুরনো এ মূলফৎগঞ্জ বাজারটি রক্ষায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থায় নেওয়া হয়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ ভয়াবহ ভাঙন রোধে সরকার পদ্মা নদীর দক্ষিণ (ডান) তীর রক্ষা বাঁধ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এরপর গত ২ জানুয়ারি তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য ১ হাজার ৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে তা একনেকের বৈঠকে পাস করা হয়। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করা যায়নি।

সূত্র আরও জানায়, বর্ষার শুরু থেকে ভাঙন শুরু হলে ৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়ে কিছু জিও ব্যাগ ফেলে নদীর গতি পরিবর্তনের চেষ্টা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কিন্ত প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল এবং কাজে ধীর গতির কারণে ভাঙন ঠেকানো যায়নি। রক্ষা করা যায়নি ঐতিহ্যবাহী এ বাজারসহ মসজিদ, মাদ্রাসা, বহুতল ভবনসহ হাজার হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি।

কেদারপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ঈমাম হোসেন দেওয়ান বলেন, ‘গত দুই মাসে পদ্মার ভাঙনে প্রায় ৪ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে।’

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘পদ্মা নদী নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অতি কাছে চলে আসায় হাসপতালের মালামাল জেলা প্রশাসক মহোদয় এবং সিভিল সার্জনের নির্দেশক্রমে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রোগীদের জন্য হাসপাতাল ভবনের দক্ষিণ পার্শ্বের আবাসিক দুটি ভবনে ভর্তি কার্যক্রম এবং জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নদী ভাঙনের শিকার প্রায় আড়াই হাজার ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। খুব শিগগিরই ৩৫০ জন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দুই বান্ডিল করে টিন ও নগদ ৬ হাজার করে টাকা বিতরণ করা হবে।’

Total View: 690

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter