মঙ্গলবার,  ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ১০:৩৬

পরকীয়ার কারণে উভয় কূল হারালেন সুমাইয়া নামের গৃহবধূ

মার্চ ২৯, ২০১৯ , ১৫:৩৭

স্টাফ রিপোর্টার
স্বামীকে রেখে দেবরের সাথে পরকীয়া করতে গিয়ে দু’কূল হারালেন সুমাইয়া আক্তার নামে এক গৃহবধূ। তিনি সুবিচারের আশায় এখন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তার এই ঘুরে বেড়ানোর ঘটনা জানতে এই প্রতিবেদক ছুটে যান শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলা পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের চর নারায়ণপুর গ্রামে।

সেখানে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে আলাপ কালে তিনি জানতে পারেন, ২০১৬ সালের ১৫ এপ্রিল ডামুড্যা উপজেলা পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের চর নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা মুজিবল সরদারের প্রবাসী ছেলে আজিজুল সরদারের সাথে একই ইউনিয়নের সুলতান মাদবরের কন্যা সুমাইয়া আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের তিন মাস পর স্বামী আজিজুল সরদার বিদেশ চলে যান। এই সুযোগে আজিজুল সরদারের আপন ছোট ভাই অর্থাৎ সুমাইয়ার দেবর জান শরীফ সরদারের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

সেই প্রেমের সম্পর্কই একটা সময় তাদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্কে পরিণত হয়। যার ফলে সুমাইয়া চার মাসের অন্তসত্তা হয়ে পড়ে। এই সংবাদ পেয়ে স্বামী আজিজুল সরদার বিদেশ থেকে বাড়িতে চলে আসেন এবং তাৎক্ষণিক ভাবে সুমাইয়াকে ঢাকা নিয়ে অবৈধ সন্তানের গর্ভপাত ঘটান। তার দু’একদিন পর দেবরের সাথে সুমাইয়ার অবৈধ সম্পর্ক করার অপরাধে আজিজুল সরদার তাকে তালাক দেন। সুমাইয়া তালাক প্রাপ্ত হয়ে বাপের বাড়ি চলে আসেন। কিন্তু দেবর জান শরীফ তার সাথে কোন যোগাযোগ না করায় সুমাইয়া দিশেহারা হয়ে উঠেন।

এখন সুমাইয়া সুবিচারের আশায় স্থানীয় চেয়ারম্যান মাসুদ পারভেজ লিটনের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন। এদিকে লিটন চেয়ারম্যান ব্যাপারটি মীমাংসা করার নাম করে সময় ক্ষেপন করছেন। কিন্তু সুমাইয়া মীমাংসার কোন রাস্তা খুঁজে পাচ্ছেন না। এদিকে স্বামী তাকে তালাক দিয়ে বাড়ি থেকে বিতাড়িত করেছেন। অপরদিকে দেবর বড় ভাইয়ের ভয়ে কোথায় পালিয়ে রয়েছেন তাও জানেন না। এখন সুমাইয়া দু’কূল হারিয়ে সুবিচার পাওয়ার আশায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুড়ে বেড়াচ্ছেন।

এ ব্যাপারে গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তারের সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ১৫ এপ্রিল আজিজুল সরদারের সাথে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের তিন মাস পর সে বিদেশ চলে যায়। তখন তার ছোট ভাই জান শরীফ সরদার আমাকে বাড়িতে একা পেয়ে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে।

তার কিছুদিন পর তার সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে আমাকে বিয়ে করবে বলে প্রতি রাতেই আমার সাথে থাকতে শুরু করে। তার সাথে থাকার কারণে একটা সময়ে আমি চার মাসের অন্তসত্তা হয়ে পড়ি। তখন ব্যাপারটি আমার শাশুরীকে বলি। আমার শাশুরী এবং দেবর জান শরীফ মিলে আমাকে ঢাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তানহা হেল্থ কেয়ার ক্লিনিকে নিয়ে আমার সন্তানের গর্ভাপাত ঘটায়।

এই সংবাদ পাওয়ার পর আমার স্বামী বিদেশ থেকে দেশে চলে আসে। দেশে এসেই সে আমাকে তালাক দেয়। আমি তালাকনামা গ্রহণ করিনি। এদিকে দেবর জান শরীফ তার ভাইয়ের ভয়ে পলাতক রয়েছে। তার সাথেও আমি যোগাযোগ করতে পারছি না। যার কারণে আমি লিটন চেয়ারম্যানের কাছে বিচার দিয়েছি। আমার একটাই দাবী, “আমি আমার স্বামীর ঘরে ফিরে যেতে চাই”।

এ ব্যাপারে সুমাইয়ার স্বামী আজিজুল সরদার এবং দেবর জান শরীফ সরদারের সাথে যোগাযোগ করতে গেলে তাদেরকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। পরে তাদের মোবাইলে কল দিলে মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়। তারা কোথায় আছে জানতে চাইলে তাদের বাবা মুজিবল সরদার বলেন, তারা উভয়েই ঢাকায় আছে। কবে আসবে বলতে পারছি না। আমরাও তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। কিন্তু পাচ্ছি না।

এ ব্যাপারে পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ পারভেজ লিটনের সাথে মুঠোফোনে আলাপ কালে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। সুমাইয়া ও তার পরিবার আমার কাছে এসেছিলো। তালাক দেয়ার পরেও মীমাংসার জন্য ৯০ দিনের একটা সুযোগ পাওয়া যায়। আমি চেষ্টা করছি উভয়কে মিলিয়ে দেয়ার। দেখা যাক, বাকীটা আল্লাহ’র ইচ্ছা।

Total View: 366

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter