মঙ্গলবার,  ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ৪:৫৩

পরিত্যক্ত চুল বিক্রি করে স্বাবলম্বী চুয়াডাঙ্গাবাসী

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৯ , ১১:১৫

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

নারীদের মাথার পরিত্যক্ত চুলের ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে চুয়াডাঙ্গার কার্পাসডাঙ্গা। তিন বছর আগে এই এলাকার অনেকেই ছিলেন বেকার। তবে এখন তারা স্বাবলম্বী।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা পল্লীতে গড়ে উঠেছে শতাধিক ছোট বড় চুল প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা। প্রক্রিয়াজাতকৃত এই চুল যাচ্ছে চীনসহ বিভিন্ন দেশে। পরিত্যক্ত চুল রফতানি করে চুয়াডাঙ্গা জেলার প্রায় ৪০ হাজার মানুষের ভাগ্যের চাকা সচল হয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন বয়সের মানুষ স্থানীয়ভাবে ও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নারীদের মাথার পরিত্যক্ত চুল সংগ্রহ করে কার্পাসডাঙ্গার বিভিন্ন কারখানায় বিক্রি করে। এসব চুল বিশেষ ব্যবস্থায় প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রি করা হয় বিদেশি ক্রেতাদের কাছে।

কয়েকজন তরুণ বিভিন্ন স্থান থেকে চুল সংগ্রহের কাজ করে। এরা এক সময় চোরাকারবারির সঙ্গে জড়িত ছিল। চুল প্রক্রিয়াজাতের সঙ্গে জড়িত হয়ে অপরাধের পথ ছেড়ে তারা এখন স্বাবলম্বী।

চুল প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবসায়ী মিদ্দার জানান, প্রথমে লোহার কাটা বা কাঁচি দিয়ে জড়ানো চুলগুলো ছাড়িয়ে লম্বা করে গোছা করা হয়। এরপর গোছাগুলো শ্যাম্পু দিয়ে একাধিকবার ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নেয়া হয়। শুকানোর পর বাছাই করে তুলি দিয়ে বেঁধে ছোট বড় আলাদা করে প্যাকেটজাত করে আনা হয় ঢাকায়।

সর্বনিম্ন ৮ ইঞ্চি থেকে শুরু করে ৩০ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা চুল বিক্রি হয়। ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত প্রতি কেজি চুল বিক্রি হয় ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। বিদেশে এসব চুল ক্যাপ তৈরি, টাক মাথায় হেয়ার প্লান্টেশনসহ আরও নানা কাজে ব্যবহৃত হয়।

আরেক ব্যবসায়ী আবুল কামাল জানান, বর্তমানে এক কেজি লম্বা চুলের মূল্য ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। আর একজন চুল ব্যবসায়ী প্রতি মাসে আয় করেন এক থেকে দেড় লাখ টাকা। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন অন্তত ৩ হাজার কেজি চুল আমদানি হয় চুয়াডাঙ্গায়। আর দেশের সবচেয়ে বড় চুলের হাট কার্পাসডাঙ্গায়। প্রথম প্রথম এলাকার মানুষ চুল সংগ্রহ করাকে ও এর সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের ছোট নজরে দেখত। তবে পরবর্তীতে তাদের সে ধারণা পাল্টে যায়।

কার্পাসডাঙ্গা চুল সমিতির সভাপতি শহীদ বিশ্বাস জানান, এক সময় এক শ্রেণির দালাল পরিত্যক্ত চুল সংগ্রহ করে চোরাই পথে ভারতে পাচার করত। চুল সংগ্রহের কাজে তারা ফেরিওয়ালাদের ব্যবহার করত। চোরাচালান ব্যাপক আকার ধারণ করলে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশের সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে চুলসহ অনেকেই ধরা পড়ে। পরবর্তীতে বছর দশেক আগে বিদেশি বায়াররা সরাসরি যোগাযোগ করে কার্পাসডাঙ্গার চুল চোরাচালানকারীদের সঙ্গে। তারা প্রস্তাব দেয় ভালো চুল সরবরাহের জন্য। এরপর থেকে সঠিক নিয়মে চলছে চুল প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবসায়।

Total View: 295

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter