শনিবার,  ১৬ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,  ২রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  সকাল ৮:২৭

প্রধান শিক্ষিকা কবরী গুপ্তা’র বিরুদ্ধে ১৩ ছাত্রীর চুল কেঁটে দেয়ার অভিযোগ

সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৯ , ২৩:৪৭

আবদুল বারেক ভূইয়া
শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার ডিএম খালী ইউনিয়নের ২৯নং উকিল কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কবরী গুপ্তা’র বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীতে পড়–য়া ১৩জন ছাত্রীর চুল কেঁটে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
৫ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি ওই ১৩জন ছাত্রীর চুল কেঁটে দেন।
ছাত্রীদের অপরাধ, তারা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ভাবে চুল বেঁধে বিদ্যালয়ে আসেনি তাই তাদের চুল কেঁটে দেয়া হয়েছে। আর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ভাবে চুল না বেঁধে আসার কারণে ডিএম খালী ইউনিয়নে অবস্থিত ২৯নং উকিল কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কবরী গুপ্তা বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর মাহিদা আক্তার, তানজিয়া আক্তার, সাদিয়া আক্তারসহ ১৩জন ছাত্রীর চুল এ্যাবরো থেবরো ভাবে কেঁটে দেন। যার প্রেক্ষিতে ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে না আসার প্রতিজ্ঞা করেছে। এদিকে ছাত্রীদের অভিভাবকরা চুল কাঁটার বিষয়ে প্রধান শিক্ষকার কাছে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষিকা অভিভাবকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।


২৯নং উকিল কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী মাহিদা আক্তার, তানজিয়া আক্তার এবং সাদিয়া আক্তার বলেন, “আমরা দুপুর ১২টার আগে বিদ্যালয়ে এসে খেলাধুলা করছিলাম। তখন আমাদের আচড়ানো চুল এলোমেলো হয়ে যায়। তখন আমাদের বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আমাদেরকে ডেকে শ্রেণী কক্ষে নিয়ে যান এবং শ্রেণী কক্ষটিকে আটকিয়ে বিদ্যালয়ের দাপ্তরীর মাধ্যমে আমাদের চুল কেঁটে দেয়। ছাত্রীদের নাকি এতো বড় চুল থাকা নিষেধ। আমাদের বিদ্যালয়ে হিন্দু ছাত্রী রয়েছে। তারাও আমাদের সাথে খেলাধুলা করেছে। তাদের চুল না কেঁটে বেছে বেছে আমাদের চুল কেঁটেছে। আমাদের অনেক সুন্দর চুল ছিলো। তা এ্যাবরো থেবরো করে কেঁটে নষ্ট করে দিয়েছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই। এ ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমার বিদ্যালয়ে আসবো না”।
ছাত্রী মাহিদা আক্তারের বাবা খোকন হাওলাদার বলেন, “আমি প্রধান শিক্ষিকার কাছে ছাত্রীদের চুল কাঁটার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি সঠিক কোন জবাব দেননি। বরং আমার সাথে ঔধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন। “সে আমাকে আই সি গেট আউট” বলে তাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। আমি তখন আত্মসম্মানের ভয়ে সেখান থেকে চলে আসি। আমি আমার মেয়েকে সুশিক্ষায় সুশিক্ষিত করার জন্য বিদ্যালয়ে পাঠিয়েছি। সে কোন অপরাধ করলে তার শাসন করার অধিকার শিক্ষিকার রয়েছে। তাই বলে বিনা অপরাধে আমার মেয়ের চুল কেঁটে দেবে তা আমি কোন ভাবেই মানতে পারছি না। আমি এই শিক্ষিকার বিচার চাই”।
এ ব্যাপারে ২৯নং উকিল কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কবরী গুপ্তা’র সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, “ছাত্রীরা এলোমেলো ভাবে স্কুলে আসে। এর আগেও আমি তাদেরকে চুল বেঁধে স্কুলে আসতে বলেছিলাম। কিন্তু তারা চুল বেঁধে আসেনি। তাই আমি ওদের চুল স্কুলের দপ্তরীকে দিয়ে কেঁটে দিয়েছি”।
এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের সাথে মুঠোফোনে আলাপ কালে তিনি বলেন, “আমি এখনই সেখানে আমার প্রতিনিধি হিসেবে একজন লোক পাঠাচ্ছি। তদন্ত স্বাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে”।

Total View: 300

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter