বৃহস্পতিবার,  ১লা অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  দুপুর ১:১৯

ফসলি জমিতে ইটের ভাটা, চলছে শিশু শ্রম

মার্চ ২৮, ২০১৮ , ০৮:১১

বি.এম ইশ্রাফিল

শরীয়তপুরে সরকারী বিধি বিধানকে পাশ কাটিয়ে ফসলি জমিতে ইটের ভাটা তৈরী করা হয়েছে। আর সেই ইটের ভাটায় চলছে শিশু শ্রম। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩ অনুযায়ী, কৃষি জমিতে ইট ভাটা স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া আবাসিক, সংরক্ষিত বা বাণিজ্যিক এলাকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ১ কিলো মিটার, বনাঞ্চল থেকে ২ কিলো মিটার এবং ইউনিয়ন বা গ্রামীণ সড়ক থেকে অন্তত আধা কিলো মিটারের মধ্যে কোন ইটের ভাটা স্থাপন করা যাবে না। তাছাড়া ইটের ভাটার চুল্লির একটি নির্দিষ্ট উচ্চতা বাধ্যতামূলক। চুল্লিটি কম করে হলেও ৪০ ফুট লম্বা করে বানাতে বলা হয়েছে। কিন্তু উক্ত আইনকে অমান্য করে নড়িয়া উপজেলার নশাসন ইউনিয়নের ডগ্রী শাওড়া গ্রামের খোকন তালুকদার ও নুরুল আমীন হাওলাদার ন্যাশনাল ব্রিক ফিল্ড (এনবিএম) নামের একটি ইট ভাটা গড়ে তুলেছেন।
সূর্যের আলো তখনো ফোটেনি। কিন্তু ততোক্ষণে ৮ বছর বয়সী সোলায়মান, ৭ বছর বয়সী মিনা আক্তার, ৯ বছর বয়সী সুরমা আক্তার, ৮ বছর বয়সী শিশু রবিন পুরোদমে কাজ করে চলেছেন ইটের ভাটায়। প্রতিটি শিশুকে রোজ ৫০০ ইট টানতে হয়। ৫০০ ইট টানলে প্রতিটি শিশুকে দেয়া হয় ৫০ টাকা। তাদের মতো প্রতিদিন প্রায় ১২ থেকে ১৫ জন শিশু এনবিএম ইট ভাটায় কাজ করছে। অথচ আইন বলছে, ১২ বছরের নিচের কোনো শিশুকে দিয়ে কাজ করানো যাবে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণাধীন ইটের ভাটাটি ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। প্রায় ২৫ বিঘা ফসলি জমিতে ইটের ভাটাটি গড়ে তোলা হয়েছে। ভাটার ১০০ গজ দূরে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কাঠ ও ফলের গাছ। ১০০-১৫০ গজ দূরে ডগ্রী বাজার, ডগ্রী ইসমাইল হোসেন স্কুল এন্ড কলেজ, মসজিদ, ডগ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত শতাধিক বসতবাড়ি।
ভাটার পাশেই দিন মজুর আবু তাহের মাদবর ও আব্দুল কাদের হাওলাদারের বাড়ি। তারা বলেন, বাড়ির পাশে ইট ভাটা। প্রতিবাদ করেও কোনো কাজ হচ্ছে না। তারা জানান, এ জমিতে ইটের ভাটাটি প্রায় ৮ বছর আগে তৈরি করা হয়েছে। ইট ভাটার চুল্লিটি ছোট হওয়ার কারণে প্রচুর কালো ধোঁয়া বের হয়। তাই এই আট বছর যাবত আমাদের নারকেল গাছে নারকেল ধরে না, আম গাছে মুকুল ধরলেও পড়ে যায়। কোন গাছেই ফল ধরছে না। আমাদের ফসলি জমিতে ধান, সরিষা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই এই ইটের ভাটাটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হোক।
প্রতিবেশী নুর মোহাম্মদ খাঁ বলেন, ইটের ভাটার পাশে তার ১৬০ শতাংশ জমি রয়েছে। সেখানে তিনি প্রতিবছর ধান ও সরিষার আবাদ করেন। তিনি ইট ভাটায় জমি দিতে রাজি হননি। তারপরও খোকন তালুকদার জোর করে জমির পাশে ইট ভাটা তৈরি করেছেন।
ডগ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ডগ্রী ইসমাইল হোসেন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম, ইতি মন্ডল, জান্নাতুন ফেরদাউস, মিথিলা আক্তার, ও রায়হান জানায়, ভাটার কাজ দিয়েই আমাদের বাড়িতে যেতে হয়। ভাটার ধোঁয়া, আর গাড়ির ধুলার কারণে নাক মুখ বন্ধ হয়ে আসে। মাঝে মাঝে অসুস্থ হয়ে পরি। বিদ্যালয়ে আসতে পারি না।
ডগ্রী মাদবর কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছালাম তালুকদার বলেন, ভাটার সাথেই আমার প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। এখানে ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়ে যে পথ দিয়ে শিক্ষার্থীরা আসা যাওয়া করে সেখানে একটি ইটের ভাটা। এই ভাটার চুল্লির কালো ধোঁয়ায় শিক্ষার্থীরা স্বাসকষ্ট, কাশিসহ, বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তার কারণে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় অনুপস্থিত থাকে। পড়া লেখা থেকে পিছিয়ে পড়ছে তারা।
নশাসন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বাবুল হোসেন মোল্যা বলেন, ফসলি জমিতে ইট ভাটা তৈরি করা উচিত নয়। তবুও কারো কথা তোয়াক্কা না করেই বাবুল ইটের ভাটা তৈরি করেছেন। এতে ছাত্র-ছাত্রীদের যেমন ক্ষতি হচ্ছে তেমনি ফসল এবং গাছ পালা নষ্ট হচ্ছে। শুধু তাই নয় ভাটার ব্যবহারকৃত ট্রাক ও ট্রলির কারণে ইউনিয়নের সড়ক গুলো নষ্ট হচ্ছে।
ন্যাশনাল ব্রিক ফিল্ড (এনবিএম) ভাটার মালিক খোকন তালুকদার ফসলি জমিতে ইটের ভাটার তৈরি হয়েছে এমন কথা অস্বীকার করে বলেন, নিজের ও আত্মীয়দের আশপাশের লোকজনের কাছ থেকে জমি ভাড়া নিয়ে ৮শত শতাংশ জমিতে ভাটা করা হয়েছে। কারও জমি জোর করে ভাটার জন্য নেয়া হয়নি। খোকন তালুকদার আরো বলেন, আমরা সবাইকে টাকা দিয়ে চলি। আমরা কাগজপত্র ছাড়াই ভাটা চালাই। শিশু শ্রমও করাই। পারলে আপনারা ভাটাটি বন্ধ করেন।
জেলা ইট ভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মাদবর ফসলি জমিতে ইটের ভাটার তৈরি হয়েছে এমন কথা অস্বীকার করে বলেন, শরীয়তপুরে ৪৯টি ইটের ভাটা আছে। একটা ইট ভাটাও ফসলি জমিতে করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ইটের ভাটার মালিকদের বলে দিয়েছি শিশুদের ইটের ভাটায় কাজ করতে দেবেন না। শরীয়তপুরের ইটের ভাটায় শ্রমিক পাওয়া যায় না। তাই কিশোরগঞ্জ ও রংপুর থেকে ইট ভাটায় কাজ করতে আসে কিছু পরিবার। ওই পরিবার গুলোর সাথে যে শিশুরা আসে তারা ইটের ভাটায় বাবা মাকে কাজে সাহায্য করে। সে জন্য তাদেরকে আমরা কোন পারিশ্রমিক দেই না।
এ ব্যাপারে শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোঃ রিফাতুল ইসলামের সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, ইট ভাটা মালিকদের ফসলি জমিতে ইট ভাটা তৈরি না করতে বার বার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন আমাদের ফিল্ড অফিসাররা। কিন্তু তারপরেও তারা শুনছেন না।

Total View: 1070

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter