মঙ্গলবার,  ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ৭ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ৮:৩৫

বাংলাদেশের বাড়ির ভাড়া মওকুফ করলেন ইতালী প্রবাসী পাপিয়া

মার্চ ৩১, ২০২০ , ১৩:০৩

স্টাফ রিপোর্টার
করোনা ভাইরাস আতঙ্কে যখন পুরো পৃথিবী অর্থনৈতিক ভাবে হুমকির মুখে। সরকার যখন করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় লকডাউন, হোমলক ও কোয়ারেন্টাইনের বাধ্যতামূলক করেছে। তখন অনেক চাকরিজীবী ও ভাড়াটিয়ারা তাদের আয়ের উৎস হারিয়ে ফেলেছে।

এসময় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম অভাবনীয়ভাবে বাড়ছে। অনেক ভাড়াটিয়া তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। যখন দেশের এই অবস্থা তখনই কিছু বাড়িওয়ালা তাদের ভাড়াটিয়াদের বাড়ি ভাড়া মওকুফ করার মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

গত কয়েকদিন আগে শিউলি নামের এক বাড়িওয়ালা এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তারই রেশ ধরে ইটালিতে বসবাসরত ফাতেমা পাপিয়া নামের এক বাংলাদেশী এ মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনিও তার বাংলাদেশের বাড়ির ভাড়া মওকুফ করে দেন। পরে তিনি সকল বাড়িওয়ালাদের উদ্দেশ্যে একটি উৎসাহমূলক পোস্ট করেছেন।

তার ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হল :
করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছে সারাবিশ্ব। সম্প্রতি নাগরিকদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার সুবিধার্তে বাড়ির মালিকদের তিন মাসের ভাড়া না নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে উগান্ডার সরকার। বাংলাদেশে এমন কোনো ঘোষণা না এলেও ব্যক্তি উদ্যোগে সামান্য কিছু মানুষ ঠিকই এগিয়ে এসেছেন, যেমন শেখ শিউলী হাবিব। ঢাকা শহরে তার একটা বাড়িতে বসবাসরত ভাড়াটিয়াদের মার্চ মাসের ভাড়া মওকুফ করে দিয়েছেন তিনি। ফেসবুকে এক জনের পোস্ট দেখে আমিও উৎসাহিত হলাম। যেহেতু মাস প্রায় শেষের দিকে। আর কয়দিন পরই ভাড়াটিয়ারা খেয়ে থাকুক আর না খেয়ে থাকুক ঠিকই গুনতে হবে ভাড়ার টাকা। এমন কঠিন সময়ে ভাড়ার টাকাটাই আরও বেশি চিন্তায় ফেলবে ভাড়াটিয়াদের।

তাই আমি আমার বাংলাদেশের বাড়ির ভাড়াটিয়াদের ভাড়া মওকুফ করে দিলাম। অন্ততপক্ষে তাদের যেনো ভাড়াটা নিয়ে চিন্তা করতে না হয়।

আলহামদুলিল্লাহ। ভাবতেই ভালো লাগছে এই কঠিন সময়ে বেশকিছু পরিবাবের পাশে একটু হলেও থাকতে পেরেছি। একজন বাড়িওয়ালার ভাড়াটিয়াদের উপর কিছু দায়িত্ব থাকে। আর এখনই সময় সেই দায়িত্ব পালন করার।

সারা বছর আপনি ভাড়াটিয়াদের টাকা দিয়ে আপনার অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখেন। এখন এমন বিপদে তাদের পাশে থাকা কি আপনার দায়িত্ব না? আমি জানি আমার ফ্রেন্ডলিষ্টে অনেক বাড়িওয়ালারা আছেন। আর এই জন্যই পোস্টটা করা।

যাদের ভাড়াটিয়াদের ভাড়া দুই-এক মাস মওকুফ করলেও খুব বেশি সমস্যা হবেনা তারা পুরো ভাড়াটা মওকুফ করে দিতে পারেন। যাদের ভাড়া দিয়েই সংসার চলে তারা অর্ধেক ভাড়া মওকুফ করতে পারেন। আপনিও বাঁচলেন তারাও বাঁচলো।
আসুন আমরা যে যার জায়গা থেকে আশে পাশে থাকা মানুষ গুলোর পাশে থাকি। এখন যদি আমরা একে অপরের পাশে না থাকি তাহলে আর কবে থাকবো বলেন?

পাপিয়া আরো বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কবলে পড়ে সারা পৃথিবী এখন থমকে গেছে। এইটা থামাতে আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে যতটা সম্ভব কিছু করা উচিত। আমার ভাড়াটিয়ারা অনেকেই মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত। তারা দিন আনে দিন খায়। করোনার কারণে মানুষ সব ঘরবন্দি হয়ে যাচ্ছে, তাদের কাজও কমে গেছে। এখন তারা নিজেরা খাবে নাকি আমাকে বাসার ভাড়া দিবে? এসব ভেবেই আমি তাদের জন্য মার্চ, এপ্রিল মাসের ভাড়া মওকুফ করে দিয়েছি। পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে সামনের মাসগুলোও বিবেচনা করবো।

দয়া করে কেউ শো অফ ভাববেন না। আমি কার জন্য কি করলাম কাকে কি দিলাম এটা মুখ্য নয়, মানুষজনদের বিপদের পাশে যদি নাই দাড়াতে পারি তাহলে আমি কি বিবেকবোধ সম্পন্ন মানুষ?

তিনি বলেন, এই পোস্টটা করার উদ্দেশ্য একটাই আমিও যেমন অন্য একজনকে দেখে উৎসাহিত হলাম। আশা করি আমাকে দেখেও কেউ না কেউ উৎসাহিত হবেন। উৎসাহিত করতে গিয়ে যদি কিছু মানুষের উপকার হয় এতে খারাপ কি বলেন? প্লিজ কেউ খারাপ ভাবে নিবেন না বিষয়টা।

এভাবে শিউলি ও ফাতেমা পাপিয়াদের মতো বাকি বাড়িওয়ালারা যদি এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেন, তাহলে দেশের সাধারণ মানুষ অন্তত এই দুর্যোগে একটু হলেও স্বস্তি পাবে।

Total View: 358

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter