বৃহস্পতিবার,  ২২শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ৯:১২

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহসিন উদ্দিনের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ-১

অক্টোবর ৯, ২০১৯ , ১২:৩৯

স্টাফ রিপোর্টার
ভেদরগঞ্জ উপজেলার সিরাজ সিকদার ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহসিন উদ্দিনের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা এবং প্রশাসনিক কাজে অসহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে নিয়মিত সভা না ডাকার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি যদি কখনও সভা ডাকেন, সেই সভায় তিনি উপস্থিত থাকেন না। যার প্রেক্ষিতে প্রশাসনিক এবং শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে আরও জানা যায়, ২০১৮ সালের ৫ জুলাই থেকে মহসিন উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে তিনি কলেজে দেরীতে আসেন এবং শ্রেণী কক্ষে পাঠদান থেকে বিরত রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষেত্রে কাল ক্ষেপণ করছেন।

সরকারী বিধি মোতাবেক “কলেজের অধ্যক্ষ পদ শূণ্য হলে অধ্যক্ষের অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে উপাধ্যক্ষ বা জৈষ্ঠতম পাঁচজন শিক্ষকের মধ্য থেকে যে কোন একজন দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ছয় মাসের মধ্যে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষেত্রে যাবতীয় কাজ সম্পাদন করবেন”। কিন্তু এক বছর তিন মাস উত্তীর্ণ হলেও তিনি অধ্যক্ষ নিয়োগের কাজটি সম্পন্ন করতে পারেনি। অধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষেত্রে গভর্নিং বডির সভাপতি আজহারুল ইসলাম তাকে বার বার তাগাদ দিলেও তিনি বিভিন্ন সমস্যার কথা বলে ব্যাপারটি এড়িয়ে যাচ্ছেন।

সরকারী বিধি মোতাবেক “কোন যুক্তি সংগত কারণ ছাড়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে অধ্যক্ষ নিয়োগের কাজ সম্পাদন করতে না পারলে তার স্বাক্ষরকৃত সকল কাগজপত্র এবং প্রশাসনিক কার্যবিধি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে গৃহিত হবে না”। তাহলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহসিন উদ্দিন কোন আইনের বলে কলেজের সকল কাগজপত্র স্বাক্ষরসহ প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়ে সুশীল সমাজে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এদিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহসিন উদ্দিনের দায়িত্বে অবহেলা, প্রশাসনিক কাজে অসহযোগিতা এবং সঠিক সময়ে অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করার কারণে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ২ তারিখে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি আজহারুল ইসলাম তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। ৭ কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানো নেটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

অপরদিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহসিন উদ্দিন ৯ সেপ্টেম্বর কারণ দর্শানো নেটিশের জবাব দিয়েছেন। কিন্তু কারণ দর্শানো নেটিশের জবাব গ্রহণযোগ্য এবং সন্তোষজনক না হওয়ায় পরবর্তী গভর্নিং বডির সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান গভর্নিং বডির সভাপতি আজহারুল ইসলাম।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহসিন উদ্দিন কলেজে যোগদানের পর থেকেই তিনি কলেজের ভিতরগত রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং কোন কাজের ছুতা পেলেই তিনি ক্লাশ ফাঁকি দিতে শুরু করেন। শুধু তাই নয়, তিনি কলেজের হাজিরা খাতায় অগ্রিম স্বাক্ষর দেয়া প্রভাষক নুরুল ইসলামকে প্রতিনিয়ত প্রশ্রয় দিয়ে আসছেন এবং গভর্নিং বডির সভাপতি আজহারুল ইসলামকে সভাপতির পদ থেকে সরানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।

একটি দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা যায়, ডিএম খালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম মাদবরের সাথে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহসিন উদ্দিনের রয়েছে দারুন সখ্যতা। অপরদিকে পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীমের সাথে চেয়ারম্যান জসিম মাদবরের রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। সেই সম্পর্কের জোড়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহসিন উদ্দিন অনেকটা ক্ষমতাধর। যার কারণে তিনি কাউকেই পরোয়া করেন না। তিনি এখন ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন। তার কাজে কেউ বাঁধা দিলে ডিএম খালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম মাদবরের মাধ্যমে তাকে সরিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছেন। তারই ধারাবাহিকতায় কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি আজহারুল ইসলামকে সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। আর এই ষড়যন্ত্রকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছিলেন ডিএম খালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম মাদবর। কিন্তু সেই ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহসিন উদ্দিন সেই ষড়যন্ত্র এখনও অব্যাহত রেখেছেন।

এ ব্যাপারে ডিএম খালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম মাদবরের সাথে মুঠোফোনে আলাপ কালে তিনি বলেন, “আপনি তো একজনের মুখের কথা শুনেছেন। গভর্নিং বডির সভাপতি যে কত অনিয়মের সাথে জড়িত তা আপনি জানেন না। এসব কথা মোবাইলে বলা যাবে না। আপনি আসেন, সাক্ষাতে সব বলবো”।

এ ব্যাপারে সিরাজ সিকদার ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহসিন উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে আলাপ কালে তিনি বলেন, “এসব কথা মোবাইলে বলা যাবে না। আপনার সাথে আমি স্বাক্ষাতে কথা বলতে চাই। তখন বিস্তারিত আলোচনা করবো”।

এ ব্যাপারে সিরাজ সিকদার ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি আজহারুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, “ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহসিন উদ্দিনের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা এবং প্রশাসনিক কাজে অসহযোগিতা করাসহ অধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষেত্রে গড়িমসি করার অভিযোগ উঠেছে। সেই কারণে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছিল। তিনি কারণ দর্শানোর জবাব দিয়েছেন। কিন্তু কারণ দর্শানো নেটিশের জবাব গ্রহণযোগ্য এবং সন্তোষজনক না হওয়ায় পরবর্তী গভর্নিং বডির সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে”।

Total View: 395

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter