শনিবার,  ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ১০:১৯

ভালোবাসার বিরল দৃষ্টান্ত ‘সজল-পারভিন’

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৯ , ২২:১৪

সাভারের আশুলিয়া থেকে আবদুল কাইয়ূম

মাথায় পোকা সরানোর বাহানায় আচমকা পারভিনের হাত ধরলো মনির হোসেন সজল। ঝলমল রোদের এমন সকালে সাভার পক্ষাঘাত গ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি) এভাবেই ১১ বছর আগে পারভিনকে প্রেম নিবেদন করেছিলেন স্বামী সজল। পার করেছেন বিয়ের ৮টি বসন্ত। চাকরি সুবাদে সিআরপি থেকে পাওয়া ছোট্ট ঘরে ভালোবাসার বিশালতার পাহাড় গড়েছেন তারা। ‘সবাই তোমাকে কষ্ট দিবে, তোমাকে শুধু এমন একজনকে খুঁজে নিতে হবে যার দেয়া কষ্ট তুমি সহ্য করতে পারবে’ হুমায়ূন আহমেদের সেই কথার বাস্তব চিত্র সজল ও পারভিন দম্পতি।

আদিকাল থেকেই ভালোবসার কালজয়ী কতো গল্প ছড়িয়ে আছে বিশ্বজুড়ে। যুগে যুগে কতো দৃষ্টান্তের আঁচর কেটেছে। এখনো সেই সব গল্পের রেশ টেনে ভালোবাসার উদাহরণ দিতে হয়। তাহলে কি এখন আর সেই অকৃত্রিম ভালোবাসার দেখা নেই? এমন প্রশ্ন যখন ঘুরপাক খাচ্ছে, তখন ভালোবাসার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন হুইল চেয়ারে চলাচলকারী এই দম্পতি।

আলাদা হলেও ভাগ্যের অদৃষ্ট লিখনে দুইজনই উচুঁ ভবন থেকে পড়ে গিয়েছিলেন। প্রথমে ২০০০ সালে চিকিৎসা নিতে আসেন পারভিন আক্তার, পরে আসেন সজল। জীবন বাঁচলেও হারিয়েছেন পা। তারপর আজন্ম সঙ্গী হয় হাহাকার জড়ানো এই হুইল চেয়ার। ভাগ্যের এমন লিখনী যখন বুক ফাঁটা কান্না উপহার দিলো। ঠিক তখনি ভালোবাসার নতুন দিগন্ত উকি দিলো তাদের জীবনে। তারপর প্রেম, ভালোবাসা ও একজন সাহসী সঙ্গিনী।

শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও ভালোবাসার গভীরতার বন্ধনে নিজেদের আবদ্ধ করেছেন শক্ত করে। একজন অপরজনের অবলম্বন আজ। কালজয়ী ভালোবাসার এমন দৃষ্টান্ত যেন হার মানিয়ে দেয় বাস্তবতার কঠিন মানুষগুলোকেও। ভালোবাসার অসীম গল্পের হাত ধরে বাকী জীবনটা কাটিয়ে দিতে যান একে অপরের সঙ্গে।

মনির হোসেন সজল জানান, সিআরপিতে আসার পর পারভিনের সঙ্গে পরিচয় হয়। পারভিনের হাসিটা খুব ভালো লাগতো। তাই নানা বাহানায় তাকে দেখতে যেতাম। এভাবেই ৭ মাস কেটে যায়। বলার চেষ্টা করতাম আমার ’ভালোবাসার কথা’। অবশেষে বলেও ফেললাম। কিন্তু পারভিন বলে, এটা কি সম্ভব? আমি তাকে সাহস দেই, বুঝাই। ভালোবাসা কোন শারীরিক বা মানসিক, অক্ষমতার দিকে চিন্তা করে না। এটা একটা বিশ্বাস, উদার, গ্রহনযোগ্য ও কেয়ারফুল। আমরা দুইজন খুব ভালো আছি। আমাদের এখনো কোন সমস্যা হয়নি। দোয়া করবেন, ভবিষ্যৎতে কোন সমস্যা হবে না।

পারভিন আক্তার জানান, অনেক মানুষ অনেক কথা বলতো, দুইজনেই হুইল চেয়ারে, এটা কিভাবে সম্ভব। কিন্তু আমাদের দেখে অনেকে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন। আমি অনেক সুখে আছি। মনে হয় প্রতিবন্ধি হয়েই ভালো আছি, যেখানে এমন একজন মানুষকে স্বামী হিসেবে পেয়েছি। সে শুধু আমার না, পরিবারের খেয়ালও রাখেন।

সহকর্মী সিআরপির ডা ফাতেমা-তুজ-জোহরা আইরিস জানান, এই দম্পতি অনেক দিন ধরেই পরিচিত। আমাদের সমাজের জন্য দৃষ্টান্ত সজল-পারভিন। সবাইকে তারা দেখালেন, ভালোবাসা কখনো শারীরিক সমস্যা বা আকৃতি দেখে নয়। কাজের দক্ষতার পাশাপাশি সহকর্মীদের চোখেও ভালোবাসার অনুপ্রেরণার গল্প সজল ও পারভিন দম্পতি।

সিআরপির প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান জানান, তাদের কাজ ও ভালোবাসার এমন গল্প অন্য সবাইকে শক্তি জোগাবে।

শুরু থেকেই সজল ও পারভিনের প্রেম ভালোবাসার গল্প অজানা নয়। সিআরপির কানাডীয়ান মানুষ ক্যারোলিন স্কটের কাছেও। ভালোবাসা দিবসে তাদের অভিনন্দন জানাতেও ভুল করেননি তিনি।

সিআরপির কানাডীয়ান সোসাইটির সভাপতি ক্যারোলিন স্কট জানান, ২৫ বছর ধরে সিআরপির সঙ্গে আছি। সেই ছোট বেলা থেকেই পারভিনকে আমি দেখছি। তারপর সজল। তাদের প্রেম, ভালোবাসার প্রায় গল্পই আমার জানা। আমি বাংলাদেশে আসলেই তাদের খোঁজ নেই। আর বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে তাদের অভিনন্দন জানাই, তারা সুখে থাকুক।

Total View: 488

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter