শনিবার,  ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  বিকাল ৫:০৫

ভাষা আন্দোলন ও আমরা পালং-এর কয়েকজন

ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮ , ২৩:২৬

জালাল উদ্দিন আহমেদ
বাংলার মানুষ হাজার বছর ধরে কথা বলে বাংলা ভাষায়, স্বপ্ন দেখে বাংলা ভাষায়, গান গায় বাংলা ভাষায়, কবিতা লেখে বাংলা ভাষায়। এক কথায়, বাংলার মানুষের জীবনের ভাষা বাংলা ভাষা। যুগে যুগে যারা বাংলাকে শাসন করেছেন তাদের ভাষা ছিল ভিন্ন ভিন্ন। কখনও সংস্কৃত, কখনও পালি আবার দীর্ঘদিন ধরে তুর্কি, ফার্সি ও ইংরেজি ভাষা। কিন্তু এদেশের মানুষ নিজের মাতৃভাষা বাংলাকে কখনও ত্যাগ করেনি। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে বৌদ্ধ সিন্ধাচার্যরা বাংলা ভাষায় কবিতা লিখতে শুরু করেছিলেন। তারপর থেকে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান সব বাঙ্গালী বাংলা ভাষায় কত না সাহিত্য রচনা করেছেন। কাহ্নপা, চন্ডিদাস, বড়– চন্ডিদাস, কৃত্তিবাস, কাশীরাম দাস, শাহ্ মোহাম্মদ সগীর, দৌলতগাজী, আলাওল, এন্টনি ফিরিঙ্গি আর কত কবি সাহিত্যিকই না মধ্যযুগে মুসলমানদের রাজত্বকালে শত শত বছর ধরে বাংলা ভাষায় কত সাহিত্যই না সৃষ্টি করে গেছেন। বাংলাদেশের শত সহস্র আউল-বাউল কত মধুর গান সৃষ্টি করেছেন। লালন ফকির, পাগলা কানাই, হাসন রাজার গান তো বাঙ্গালীর কন্ঠে কন্ঠে। ইংরেজ আমলে রামমোহন রায়, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর, বঙ্কিম চন্দ্র চট্রোপাধ্যায়, মীর মোশারফ হোসেন, কায়কোবাদ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জীবননান্দ দাস, কাজী নজরুল ইসলাম প্রমুখ কবি-সাহিত্যিক বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছেন। ১৭৫৭ সালে পলাশীর আ¤্র কাননের যুদ্ধে মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলাহ্ ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর অধিনায়ক লর্ড ক্লাইভের কাছে পরাজিত হন। ১৭৫৭ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল প্রায় দু‘শত বছর এদেশ ইংরেজ শাসনে ছিল। তখন এদেশের সরকারি ভাষা ছিল ইংরেজি। ১৯৪৭ সালে ইংরেজ ভারত ছেড়ে চলে গেল আর উপমহাদেশের দু‘টি স্বাধীন রাষ্ট্র জন্ম নিল, একটি ভারত অপরটি পাকিস্তান। এখন যেটা বাংলাদেশ ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তা ছিল পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চল। তখন এ অঞ্চল বা পূর্ব বাংলা ছিল পাকিস্তানের একটি প্রদেশ, যে প্রদেশ পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিচিত ছিল।

বাংলা ভাষা আন্দোলন ঃ আটচল্লিশ সাল
১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যনÍ পাকিস্তানের ছিল পাঁচটি প্রদেশ-পূর্ব পাকিস্তান, পাজ্ঞাব, সিন্ধু, উত্তর-পশ্চিম-সিমান্ত প্রদেশ এবং বেলুচিস্তান। পাকিস্তানের ঐ পাঁচটি প্রদেশের মানুষের ভাষা ছিল যথাক্রমে বাংলা,পাঞ্জাবী, সিন্ধি,পশতু এবং বালুচী। এছাড়া ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের সময় ভারত থেকে দেশ ত্যাগ করে যারা পাকিস্তানে এসে বসবাস করতে থাকেন তাদের অনেকের ভাষা ছিল উর্দূ। পশ্চিম পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের করাচী শহরে ভারত থেকে যেসব মোহাজের গিয়ে বসতি স্থাপন করেন তারা ছিলেন মূলতঃ উর্দূভাষী আর করাচী ছিল পাকিস্তানের প্রথম রাজধানী ও প্রধান বন্দর। সুতরাং পাকিস্তানের রাজধানীর ভাষা হয়ে পড়ে উর্দূ। কিন্তু পাকিস্তানের শতকরা প্রায় পঞ্চান্ন ভাগ লোক বসবাস করত পূর্ব পাকিস্তানে আর তাদের ভাষা ছিল বাংলা। পশ্চিম পাকিস্তানে বাকি পঁয়তাল্লিম ভাগ লোকের ভাষা ছিল পঞ্জাবী, সিন্ধি, পশতু, বালুচী এবং উর্দূ । ১৯৪৮ সালের শুরুতে পকিস্তানের মোট ছয় কোটি নব্বই লক্ষ লোকের মধ্যে চার কোটি চল্লিশ লক্ষ লোক বাংলা ভাষী ছিলেন। ১৯৪৭ সালে নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানের সংবিধান রচনার জন্যে পকিস্তানের গণপরিষদে কাজ শুরু হয়। ইংরেজ আমলে ভারতের কেন্দীয় এবং বিভিন্ন প্রাদেশিক আইন সভায় কাজকর্ম চলত ইংরেজি ভাষায়। পাকিস্তান গণপরিষদের সভায় ইংরেজি ভাষার সঙ্গে উর্দূ ভাষা ব্যবহারের প্রস্তাব করা হলে কুমিল্লা থেকে নির্বাচিত পরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ‘উর্দূর সঙ্গে বাংলা’ ভাষার নাম যুক্ত করার প্রস্তাব করেন। যাতে গণপরিষদের সদস্যরা ইচ্ছামত ইংরেজি, উর্দূ ও বাংলা ভাষা ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু গণপরিষদে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ঐ প্রস্তাবের বিরোধীতা করেন পাকিস্তানের তখনকার প্রধানমন্ত্রী নবাবজাদা লিয়াকত আলি খান, পাকিস্তান গণপরিষদের সহ-সভাপতি ফরিদপুরের মৌলভী তমিজউদ্দিন খান এবং পূর্ব বাংলার সে সময়কার মুখ্যমন্ত্রী ঢাকার নবাব পরিবারের খাজা নাজিম উদ্দিন। ফলে, পাকিস্তান গণপরিষদে পাকিস্তানের সংখ্যা-গরিষ্ঠ মানুষের ভাষা বাংলার কোন স্থান হয়নি।
পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ভাষার স্বীকৃতি না হওয়ার প্রতিবাদে ১৯৪৮ সালের ১১ই মার্চ ঢাকা শহরে ছাত্র সমাজ প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা’ দিবস পালন করেন। ঐ দিন ছাত্ররা বাংলা ভাষার দাবিতে ধর্মঘট, প্রতিবাদসভা এবং বিক্ষোভ মিছিলের অনুষ্ঠান করে। ছাত্রদের ওপরে পুলিশের ব্যাপক লাঠিচার্জ, ঘন ঘন ফাঁকা গুরি বর্ষণ এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ফলে বহু ছাত্র আহত এবং বহু ছাত্র গ্রেফতার হয়। এভাবেই বাংলাকে উর্দূর সাথে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার জন্যে ভাষা আন্দোলনের শুরু। কিন্তু এই দমন নীতির ফলে ছাত্ররা প্রাদেশিক পরিষদ ভবন, মূখ্যমন্ত্রীর বাসভবন, হাইকোর্ট এবং সেক্রেটারিয়েটের সামনে প্রতিদিন বাংলা ভাষার দাবীতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। এ বিক্ষোভ দমনের জন্য শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনী তলব করা হয়। পূর্ব পাকিস্তানের সে সময়কার জি ও সি বিগ্রেডিয়ার আইয়ুব খানের নির্দেশে মেজর পীরজাদা একদল সৈন্য নিয়ে ছাত্র দ্বারা ঘেরাও পরিষদ ভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিনকে বাবুর্চিখানার মধ্য দিয়ে বের করে নিয়ে আসে।
শেষ পর্যন্ত খাজা নাজিম উদ্দিন আন্দোলনের কাছে নতি স্বীকার করেন। ১৯৪৮ সালের ১৫ই মার্চ প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন এবং রাস্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে পূর্ব বাংলা সরকার ভাষা আন্দোলনের জন্য যাঁদের গ্রেফতার করে তাদের মুক্তি দিতে এবং পুলিশী জুলুমের তদন্ত করার সম্মতি দেন। পূর্ব বাংলা আইন সভায় বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে উর্দুর সাথে সমান মর্যাদা দেওয়ার সুপারিশ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। পূর্ব বাংলার সরকারি ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষাকে চালু করার কথাও বলা হয়। এছাড়া সংবাদ পত্রের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা এবং ১৪৪ ধারা প্রত্যাহারের দাবীও স্বীকৃত হয়। পূর্ব বাংলার প্রধানমন্ত্রী নাজিম উদ্দিন এবং রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের কামরুদ্দিন আহমেদের মধ্যে চুক্তিপত্রটি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু তার আগে সংগ্রাম পরিষদের নেতারা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে বন্দী ছাত্রনেতা শামসুল হক, শওকত আলি, অলি আহাদ, কাজী গোলাম মাহবুব ও শেখ মুজিবুর রহমানের সম্মতি নিয়ে আসেন। ১৫ই মার্চ বন্দী সব ছাত্রনেতাকে মুক্তি দেওয়া হয় কিন্তু ১৬ই মার্চের আন্দোলন অব্যাহত থাকে। ১৬ই মার্চ তারিখে বাংলা ভাষার দাবীতে ছাত্ররা সভা, শোভাযাত্রা ও পরিষদ ভবন ঘেরাও করে এবং তাদের ওপর পুনরায় পুলিশী হামলা চলে।

পূর্ব বাংলার রাষ্ট্রভাষার আন্দোলন শুরু হওয়ার পরে পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারের মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ ১৯৪৮ সালে মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ঢাকা আসেন। ২১ মার্চ ঢাকা রমনার এক বিরাট জনসভায় তিনি ঘোষণা করেন উর্দূ হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। উপস্থিত জনতার মধ্য থেকে বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা প্রতিবাদ জানাল। বলে উঠল না-না-না। কিন্তু জিন্নাহ সাহেব তাদের প্রতিবাদে কর্ণপাত না করে তিনি পুনরায় দৃঢ় কন্ঠে ঘোষণা করলেন-উর্দূ এবং উর্দূই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। এবার বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা বজ্রকন্ঠে বলে উঠল- না-না-না তা হবে না। ভেঙেগেল সভা। শুরু হলো বাংলা ভাষা আন্দোলন।
ভাষা আন্দোলনের এ প্রভাবটি বাংলাদেশের অনেক যায়গায়ই ছড়িয়ে পড়েছিল। আর আমরাও পালং-এ প্রতিবাদ করেছি। আমরা পোস্টার লাগিয়েছি, মিটিং করেছি, মিছিল করেছি। ৫২-র ভাষা আন্দোলনের সময় বুড়ির হাটের চৌধুরী মুজিবুর রহমানকে এ্যরেস্ট করে আমাদের স্কুলের সামনে দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। তাকে ছাড়িয়ে আনার জন্য আমারা থানা পর্যন্ত গিয়েছিলাম । থানা থেকে বলে দিল তাকে ছাড়া হবে না। তাকে কোর্টে পাঠাতে হবে। আমরা প্রায় ৪ ঘন্টা অপেক্ষা করে চলে এলাম।
গেল কয়েকটি বছর। পুঞ্জিভূত হলো বাঙালীর শোকতাপ। এলো রক্তক্ষয়ী ১৯৫২ সাল। ছাত্র-জনতা নেমে এলো রাস্তায়। শ্লোগান দিল- রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই। বাঙালীর এ আন্দোলসকে প্রতিহত করার জন্য শাসকগোষ্ঠী বুলেট চালাল বাঙালীর বুকে। শহীদ হলো বাংলা মায়ের দামাল ছেলে রফিক, শফিক, সালাম, বরকত, জব্বার আরো কত ! রাক্তে রঞ্জিত হল রাজপথ।

আমরা বিশেষ করে তুলাসার গুরুদাস উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয়ে ১৯৫২ সালের পর ১৯৫৩ সাল থেকে প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি পরম শ্রদ্ধার সাথে দিবসটি পালন করি। তিনটি কলাগাছ পুঁতে শহীদ মিনার বানিয়ে কঞ্চি পুঁতে বেড়া দিতাম এবং সুতলি টানিয়ে স্থানটিকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে নিতাম। এ কাজটি আমরা দুপুরের মধ্যে শেষ করে ফেলতাম। বিকেল বেলা ফুল সংগ্রহ করতাম। সন্ধ্যার পর থেকে আমরা স্কুলে সমবেত হতাম । একটা কক্ষে অবস্থান করতাম। রাত ১২টা বাজার আগেই একজন শিক্ষকের নেতৃত্বে বড় ভাইদের সাথে খালি পায়ে ফুল নিয়ে লাইন করে মাঠে গিয়ে দাঁড়াতাম। রাত্রি ১২টা বাজার সাথে সাথে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে খালি পায়ে বাড়ি যেতাম। ১৯৫৬ সাল থেকে প্রভাত ফেরী করতাম। তাতে একজন সংগীত শিল্পী হারমোনিয়াম কাঁধে নিয়ে “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি” গানটি কোরাস গাইতে গাইতে ফজরের আযানের আগেই নগ্ন পায়ে স্কুলে ফিরে আসতাম। প্রভাত ফেরী শেষ হত ফজরের আযানের আগেই। তারপর আমরা স্কুলে এক রুমে শুয়ে পড়তাম আবার ভোর ৭ টায় সকল ছাত্র সহ কলা গাছ দিয়ে তৈরি শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতাম।

১৯৫৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী আবু হোসেন সরকারের নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্থানে যুক্তফ্রন্ট সরকার ২১ ফেব্রুয়ারীকে শহীদ দিবস হিসাবে ঘোষণা করে। এই দিনটিকে সরকারি ছুটির দিন হিসাবেও ঘোসণা করা হয়।
১৯৯৯ সালের ১৬ নভেম্বর একুশে ফেব্রুয়ারী “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস”- এর মর্যাদা লাভ করে। প্রস্তাবক হিসাবে মূল অধিবেশনে বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের নামও যুক্ত হয়। প্রস্তাবের সমর্থন করেন ওমান, বেনিন, শ্রীলংকা, মিসর, রিিশয়া, বাহামাস,ডোমিনিকান রিপাবলিক, বেলারুশ,ফিলিপিন্স, আইভরি কোস্ট, ভারত, হন্ডুরাস, গাম্বিয়া, মাইক্রোনেশিয়া, ভেনুয়াতু, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, পাপুয়া নিউগিনি, কমোরোস, পাকিস্তান, ইরান, লিথুনিয়া এবং সিরিয়া।
১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেস্কো)-র সাধারণ পরিষদ তার ৩০ তম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বাংলাদেশসহ ২৭ টি দেশের সমর্থনে সর্বসম্মতভাবে ২১ ফেব্রুয়ারীকে “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” হিসাবে স্বীকৃতি দেয়। ইউনেস্কোর প্রস্তাবে বলা হয়, “১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারী মাতৃভাষার জন্য বাংলাদেশের অনন্য ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ এবং ১৯৫২ সালের এই দিনের শহীদদের স্মৃতিকে সারা বিশ্বে স্মরণীয় করে রাখতে একুশে ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষাদিবস দিবস হিসাবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হল। প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারী ইউনেস্কোর ১৮৮টি সদস্য দেশ এবং ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে উদ্যাপিত হবে।” ইউনেস্কোর এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রায় ৫ হাজার ভাষা সম্মানিত হল। ২০০০ সালের একুশে ফেব্রুয়ারী সারা বিশ্বব্যাপী প্রথম পালিত হল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
“৫২-র ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী আমরা পালং ক‘জন শরীয়তপুর” নামে একটি সংগঠন করেছি ২০০৮ সালে। এরপর থেকে আমরা প্রতি বছর সরকারী যে অনুষ্ঠান থাকে তাতে আমরা অংশগ্রহণ করি। বিশেষ করে ২১ ফেব্রুয়ারী, মহান স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসে আমরা শহীদ মিনারে যাই, শ্রদ্ধা নিবেদন করি, আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখি এবং পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন করি।
প্রতি তিন বছর পর আমরা কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করে থাকি। ২০১১ সালে “স্মরণ-৫২” নামে প্রথম স্মরণিকা প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠান করেছি। ২০১৪ সালে “স্মরণ-৫২” নামে দ্বিতীয় স্মরণিকা প্রকাশ করেও অনুষ্ঠান করেছি।
ইতোমধ্যে বিগত ৮(আট) বছরে আমাদের ১৩ জন সাথী বার্ধক্যজনিত কারণে ও রোগ ভোগের কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন। বর্তমানে আমরা ১৯ (ঊনিশ) জন জীবিত আছি। এর মধ্যে ৭ (সাত) জন চলাফেরা করতে পারি। অন্য ১৩ (তের) জন বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থতায় ভুগছেন।
আমরা যারা জীবিত আছি তারা হলেন-
চৌধুরী মুজিবুর রহমান-বুড়িরহাট-সভাপতি , নারায়ন চন্দ্র দে-উত্তর বালুচর- সহ-সভাপতি, রমেন ঘটক চৌধুরী-দক্ষিণ বালুচরা-সহ-সভাপতি, অধ্যাপক আলী আহাম্মদ মিয়া-তুলাসার -সহ-সভাপতি, আব্দুল মান্নান হাওলাদার-আটং-সহ-সভাপতি, সত্য রঞ্জন দে-ধানুকা-সহ-সভাপতি, হাজী আব্দুস সাত্তার-তুলাসার-সহ-সভাপতি, জালাল উদ্দিন আহমেদ-তুলাসার-সাধারণ সম্পাদক, সম্ভুনাথ দাস-ধানুকা-সহ-সাধারণ সম্পাদক, নিরঞ্জন পাল-ধানুকা-কোষাধ্যক্ষ, মাকসুদুর রহমান চৌধুরী-বুড়িরহাট-সদস্য, পূর্ণ চন্দ্র দে-ধানুকা-সদস্য, আব্দুর রশিদ খা-পালং-সদস্য, আব্দুল খালেক শিকদার (মরন)-তুলাসার-সদস্য, আব্দুল কাদের বেপারী-তুলাসার-সদস্য, মো: বাদশাহ্ হাওলাদার-আড়িগাঁও-সদস্য, নারায়ণ চন্দ্র সাহা-তুলাসার- সদস্য, আব্দুর রশিদ খা-দক্ষিণ বালুচরা-সদস্য, হাফেজ মোসারফ হোসেন-নড়িয়া-সদস্য।

Total View: 1148

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter