মঙ্গলবার,  ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ৭ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ৯:২৪

ভেঙে যাচ্ছে বিশ্বকবির কুঠিবাড়ি রক্ষা বাঁধ

সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮ , ১৪:৫৮


কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহে কুঠিবাড়ি রক্ষা বাঁধ নির্মাণের দুই মাসের মাথায় পদ্মা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। প্রমত্তা পদ্মার ভাঙন থেকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি রক্ষা করতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধটি নির্মাণ করে সরকার।

৩ সেপ্টেম্বর, সোমবার দুপুরে কয়া ইউনিয়নের কালোয়া অংশে ভয়াবহ ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে থাকে রক্ষা বাঁধ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিকেলে ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে কয়েক দিনে পুরো প্রকল্পটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) একটি সূত্র বলছে, যে স্থানে বাঁধ ধসে গেছে, সেখানে আন্ডারগ্রাউন্ড আর্থ পরিস্থিতির কারণে ডিজাইনে শাল বুল্লি পুঁতে শ্লপ তৈরির নির্দেশনা ছিল। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেই কাজটি না করার ফলেই এমন ধসের সৃষ্টি হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ‘কুষ্টিয়া জেলায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি সংলগ্ন এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় পদ্মা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ’ প্রকল্পের ৩ হাজার ৭২০ মিটার বাঁধ নির্মাণ করে সরকার। এর মধ্যে কয়া ইউনিয়নের সুলতানপুর অংশে ২ হাজার ৭২০ মিটার এবং শিলাইদহ অংশে ১ হাজার মিটার সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি।

প্রকল্পটি নিয়ে শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছিলেন জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা। ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মধ্যে দিয়ে গত ৩০ জুন অসম্পূর্ণ প্রকল্পকে সম্পূর্ণ দেখিয়ে কাগজে-কলমে প্রকল্পটি হস্তান্তর করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাইভেট কোম্পানি লিমিটেড।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, প্রকল্পের নির্ধারিত পরিকল্পনাসহ নকশা লঙ্ঘন, অর্থ অপচয় ও বরাদ্দকৃত টাকা প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় না করায় প্রকল্পটি বর্তমানে ধ্বংসের মুখে পড়েছে। অসম্পূর্ণ প্রকল্পকে সম্পূর্ণ দেখিয়ে ৩০ জুন কাগজে-কলমে হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে শিলাইদহ কুঠিবাড়ি রক্ষা বাঁধ প্রকল্পটি সমাপ্ত ঘোষণা করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড। যদিও এ প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ে তৈরি ১৩ লাখ ব্লকের মধ্যে দুই লাখ ৫০ হাজার ব্লক অব্যবহৃত পড়ে আছে, যেখানে শর্তানুযায়ী মেইন্ট্যানেন্স কাজের জন্য মাত্র ৬ শতাংশ রাখার কথা।

কয়া গ্রামের সরোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে ব্লকগুলো তৈরি করা হয়। চিকন বালু ও সিমেন্ট কম দেওয়ার প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারের লোকজন সন্ত্রাসী বাহিনী ও পুলিশ দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের হয়রানি করেছে। পরিমাণ কম দিয়ে অটোমেশিনে তৈরি যেসব ব্লক দিয়ে পাড় বেঁধেছে, সেগুলো এখন পানির ঢেউয়ে ধুয়ে চলে যাচ্ছে।

কয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম স্বপন অভিযোগ করেন, রবিবার দুপুরে কুঠিবাড়ি রক্ষা বাঁধের কয়া ইউনিয়নের কালুয়া অংশে হঠাৎ ভাঙন দেখা দেয়। মুহূর্তেই প্রায় ৫০ মিটার বাঁধ ভেঙে নদীগর্ভে চলে যায়। যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে, তাতে কয়েক দিনের মধ্যে পুরো বাঁধ ভেঙে নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।’

জিয়াউল ইসলাম স্বপনের দাবি, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, নির্ধারিত পরিকল্পনা ও নকশাবহির্ভূত, প্রয়োজনীয় সামগ্রী অব্যবহৃত রাখা, ব্যয়িত অর্থের অপচয়, অনিয়ম ও দুর্নীতির মধ্য দিয়ে অসম্পূর্ণ প্রকল্প সম্পন্ন দেখিয়ে হস্তান্তর করে প্রভাবশালী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অঙ্গ সংগঠন ‘ডিজেল প্লান্ট’ এবং সহযোগী ‘ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাইভেট কোম্পানি লিমিটেডের’ দৌরাত্ম্য এবং কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ন ও যোগসাজশে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত কুঠিবাড়ি রক্ষা বাঁধ প্রকল্পটি এখন ধ্বংসের মুখে।

এ বিষয়ে কুঠিবাড়ি রক্ষা বাঁধ প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জানান, সোমবার বেলা ২টার দিকে সদ্য নির্মিত কুঠিবাড়ি রক্ষা বাঁধের কালোয়া এলাকার কিছু অংশ ভেঙে যায়। সংবাদ পেয়ে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সব কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশে তাৎক্ষণিক ভাঙন রোধে সেখানে জিও ব্যাগ ফেলা হয়।

ঘটনাস্থলে প্রকল্প বাস্তবায়নকালে কারিগরি কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান প্রকল্প পরিচালক।

Total View: 432

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter