শুক্রবার,  ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ১:৫৪

ভেদরগঞ্জে ‘অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান’ প্রকল্পের কাজে চলছে হরিলুট

জানুয়ারি ১৭, ২০১৮ , ১৭:৪৫


আবদুল বারেক ভুইয়া

শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাচিকাটা ও সখিপুর ইউনিয়নে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ‘অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান’ কর্মসূচি প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ২টি ইউনিয়নের ১৭ টি প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ‘অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান’ কর্মসূচি প্রকল্পের কাজ মানেই শুভঙ্করের ফাঁকি। প্রকল্পের কাজ সঠিক ভাবে তদারকি করার জন্য ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কোনো প্রতিনিধিকে পাওয়া যায়নি। ফলে সরকার যে উদ্দেশ্য নিয়ে এ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সে উদ্দেশ্য বিফলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরকার মুলত গ্রামের অতিদরিদ্র কর্মবিমুখ বেকার যুবকদের কাজে ব্যস্ত রাখার পাশাপাশি গ্রামের নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য ২টি পর্যায়ে ৪০ দিন করে ৮০ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্প চালু করেন। আর সে প্রকল্পের ১ম পর্যায়ের কাজে চলছে ব্যাপক অনিয়ম এবং দুর্নীতি।
ভেদরগঞ্জ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে কাচিকাটা এবং সখিপুর এই ২টি ইউনিয়নের ১৭টি প্রকল্পে ৯ শত ৫৮ জন শ্রমিক কাজ করার জন্য বরাদ্দ দিয়েছেন। যার ৪০ দিনের পারিশ্রমিক হচ্ছে ৬৯ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা।
সরকারি বিধি মোতাবেক প্রত্যেকটি প্রকল্পে যে পরিমাণ শ্রমিক বরাদ্দ রয়েছে তার এক তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৩ শত ১৯ জন নারী শ্রমিক কাজ করার বিধান থাকলেও কোনো প্রকল্পেই কোনো নারী শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়নি।
আর যে পরিমাণ পুরুষ শ্রমিক বরাদ্দ রয়েছে তার এক-চতুর্থাংশেরও কম শ্রমিক দিয়ে ঢিলে ঢালা ভাবে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। কোন প্রকল্পেই কোন নাম ফলক বা সাইন বোর্ড লাগানো হয়নি। আর কিছু প্রকল্পের অস্তিত্বই খুজে পাওয়া যায়নি। সেখানে প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে তদারকি করার জন্য ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কোনো প্রতিনিধিকে পাওয়া যায়নি। শুধু তা-ই নয়, ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রকল্পের নামে যেসব শ্রমিক দেখিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে প্রকৃতপক্ষে সেসব শ্রমিক দিয়ে কাজ না করিয়ে অন্য জেলার শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। প্রত্যেকটি প্রকল্পের কাজ সরকারি বিধি মোতাবেক সম্পন্ন করার কথা থাকলেও চেয়ারম্যানরা সেই বিধি বিধানের তোয়াক্কা না করে তাদের ইচ্ছেমত মনগড়া নিয়মে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করছেন।
কাচিকাটা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে বোরকাঠি মোবারক মৃধার বাড়ি হতে কৃষপুর লতিফ খন্দকারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ ও ত্রানের ব্রীজের এপ্রোচে মাটি ভরাট প্রকল্পে ১২ জন শ্রমিককে রাস্তায় মাটি ভরাটের কাজ করতে দেখা যায়। সরকারি ভাবে এ প্রকল্পে ১০০ জন শ্রমিক বরাদ্দ রয়েছে এবং একজন শ্রমিকের পারিশ্রমিক ধরা হয়েছে ২শ টাকা। কিন্তু কাচিকাটা ইউনিয়নে ২শ টাকায় শ্রমিক পাওয়া যায় না বিধায় চেয়ারম্যান আবুল হাসেম দেওয়ান ৫শ টাকা করে শ্রমিক নিয়েছেন। সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ১০০ জন শ্রমিকের প্রতিদিনের মূল্য আসে ২০ হাজার টাকা। সেক্ষেত্রে প্রতি শ্রমিকের পারিশ্রমিক ৫শ টাকা হলে ২০ হাজার টাকায় শ্রমিক পাওয়া যায় ৪০ জন। কিন্তু কাচিকাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম দেওয়ান ১২ জন শ্রমিক দিয়ে প্রকল্পের কাজ দায়সারা ভাবে সম্পন্ন করছেন।
কাচিকাটা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে জামালপুর জেলা থেকে কাজ করতে আসা সামসুদ্দিন হাওলাদার, আবদুল কাদের বেপারী, রহমান ঢালী বলেন, আমাদের বাড়ি জামালপুর জেলায়। আমরা এখানে প্রতি দিন সকাল ৭টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ১২ জন লোক কাজ করি। আমাদেরকে জনপ্রতি ৫শত টাকা করে দেয়া হয়।
একই ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে শিবসেন দুলাল খার বাড়ি হতে আইজল খলিফার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ কাজে ১৬ জন শ্রমিককে রাস্তায় মাটি ভরাটের কাজ করতে দেখা যায়। সরকারি ভাবে এ প্রকল্পে ৯০ জন শ্রমিক বরাদ্দ রয়েছে। এখানে তিনি ৯০ জন শ্রমিকের পরিবর্তে ১৬ জন শ্রমিক দিয়ে প্রকল্পের কাজ দায়সারা ভাবে সম্পন্ন করছেন। আর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিনের যোগসাজসে তিনি মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
এ ব্যাপারে ১৭ জানুয়ারী বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় কাচিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোঃ লুৎফর রহমান বলেন, ভাই কি বলবো দুঃখের কথা, পি.আই.ও মোস্তফা কামাল এবং ইঞ্জিনিয়ার গিয়াসের যন্ত্রণায় টিকতে পারছি না। অতিদরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থান প্রকল্পে ভাল কাজ করার পরও তাদেরকে মোট বিলের ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ টাকা দিয়ে আসতে হয়। তানা হলে বিল কেটে দেয়।
এ ব্যাপারে কাচিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম দেওয়ানের সাথে মুঠো ফোনে আলাপ কালে তিনি বলেন, আমি বুড়া মানুষ। সবই তো আপনারা বোঝেন। প্রতি বছরই বাইরের লেবার দিয়ে কাজ করাই। তাছাড়া পি.আই.ও অফিসে অনেক খরচ দিতে হয়। প্রতিটি প্রকল্প থেকে ৩০ শতাংশ কেটে নেয় পি.আই.ও মোস্তফা কামাল। তারপর আবার সচিবকে দিতে হয় ৫ শতাংশ। আমি তো আর একলা খাই না। এতো কিছু দেয়ার পর আর বেশী কিছু থাকে না। বিল উঠানো হোক, সচিব আপনাদের সাথে দেখা করবে।


ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডে মহরাজ বাড়ি হতে শহিদুল্লাহ মাওলানার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ কাজে ৮জন শ্রমিককে রাস্তা নির্মাণের কাজ করতে দেখা যায়। এ প্রকল্পে সরকারী ভাবে ৫০ জন শ্রমিককে কাজ করার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা সাব্বির মাদবর মেম্বার ৮ জন শ্রমিক দিয়ে প্রকল্পের কাজ দায়সারা ভাবে সম্পন্ন করছেন।
এ প্রকল্পে কাজ করতে আসার শ্রমিক মোঃ মোস্তফা ছৈয়াল বলেন, এখানে আমরা ২০/২২ দিন যাবৎ ১৫/১৬ জন শ্রমিক দিয়ে রাস্তা নির্মাণের কাজ করছি। আমাদেরকে জনপ্রতি ৩ শত টাকা করে দেয়া হয়। আজ লোক কম এসেছে তাই ৮ জন লোক দিয়ে রাস্তার কাজ করছি।
এ ব্যাপারে সখিপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার সাব্বির মাদবরের সাথে আলাপ কালে তিনি এ প্রতিবেদকের সাথে ঔধাত্যপূর্ণ আচরণ করেন।
এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোস্তফা কামালের সাথে মুঠোফোনে আলাপ কালে তিনি বলেন, প্রকল্পের কাজে যে পরিমাণ শ্রমিক থাকবে সে পরিমাণ বিল দেয়া হবে।

Total View: 1071

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter