সোমবার,  ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ২:৩২

ভেদেরগঞ্জের দলিল লেখকের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ

ডিসেম্বর ১৭, ২০১৯ , ২০:৩৯

মোঃ ফারুক হোসেন
শরীয়তপুরের ভেদেরগঞ্জ উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের দলিল লেখক কাওসার হোসেন কাজল সরকার, লাইসেন্স নং ২১/২০১০ এর বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। তিনি একই জমি দুই বিক্রেতার কাছে বিক্রি করেছেন।
এ নিয়ে দুই ক্রেতার মধ্যে চলছে চরম মনমালিন্য। এলাকার শালিসরা ঘটনাটির মিমাংসা করার চেষ্টা করছেন।
সরেজমিনে ঘুড়ে এবং ভুক্তভোগিদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, জেলার ভেদেরগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক কাওসার হোসেন কাজল সরকারের নিজের ক্রয়কৃত দিগর মহিষখালি মৌজার বিআরএস-৬০৩৭ নং দাগের, ২৭.২৯ শতক জায়গা থেকে উপজেলার দিগর মহিষখালি এলাকার প্রবাসি শাহ জামাল সরদারের কাছে ২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর ৪১৯২/১৮ নং দলিল মুলে ১৪.৭৭ শতক জায়গা সাব কবলা বিক্রয় করেন।
কিন্তু ঐ একই জায়গা ২০১৯ সালের ২৫ আগষ্ট উক্ত দাগের সমস্ত জমি ৩৪৩১/১৯ নং দলিল মুলে ভেদেরগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল দলিল লেখক হাবিবুর রহমান ও জমিরুল হক এর কাছে এওয়াজ বদল (জায়গার পরিবর্তে জায়গা বদল) করেন।
প্রথম ক্রেতা শাহ জামালের স্ত্রী তার ক্রয়কৃত জায়গায় বসতি নির্মাণ করতে গেলে, দ্বিতীয় ক্রেতা দলিল লেখক হাবিবুর রহমান তাতে বাঁধা প্রদান করেন। এটা হাবিবুর রহমান গং এর জায়গা দাবি করলে, দুই বিক্রেতার কাছে জায়গা বিক্রির ঘটনা প্রকাশ পায়।
প্রথম ক্রেতা শাহ জামালের স্ত্রী হামিদা বেগম বলেন, আমি এক বছর পূর্বে ১৪.৭৭ শতক জায়গা ক্রয় করেছি। আমি সেখানে ঘর নির্মাণ করতে গেলে হাবিবুর রহমান আমাকে বাঁধা প্রদান করে বলে, সে এ জায়গার মালিক। এর পর আমি কাজ বন্ধ রাখি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে নাসিম মাদবর ৬ ডিসেম্বর একটি শালিস মিমাংশা করে আমাকে তিন শতক জায়গার টাকা ফেরত দিতে বলে। যদি আমাকে টাকা ফেরত দেয়, তাহলে পূনরায় আমার দলিল করতে হবে। আমি টাকা দিয়ে জায়গা কিনে একটা হয়রানির স্বীকার হলাম। সে একজন দলিল লেখক হয়ে, জেনে শুনে এমন জঘন্য কাজ করবে বুঝতে পারিনি। আমি সঠিক বিচার পাইনি, সামাজিকতার দোহাই দিয়ে আমার উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এ ধরণের জালিয়াত লেখকের লাইসেন্স বাতিল করে দেয়া দরকার।
দ্বিতীয় ক্রেতা হাবিবুর রহমান বলেন, আমি নিজে একজন দলিল লেখক। আমার সাথে এমন জালিয়াতি করবে বিশ্বাস করতে পারছি না। এ বিষয়ে কোন বারাবারি বা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করলে, দেখে নেবে বলে হুমকি দেয়। কাজল সরকার এলাকার প্রভাবসালী, আমি তার সাথে পেরে উঠবো না। এ জন্য আমি থানায়, দলিল লেখক সমিতি বা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ভয়ে কাজল সরকারের বিরুদ্ধে লিখিত কোন অভিযোগ করতে পারছি না।
অভিযুক্ত কাওসার হোসেন কাজল সরকার বলেন, আমি কাউকে হুমকি দেইনি। জমি নিয়ে কিছু সমস্যা হয়ে ছিলো, স্থানীয় লোকজন তা সমাধান করে দিয়েছে।
দলিল লেখক সমিতির সহ-সভাপতি আঃ জব্বার ঢ়াড়ী বলেন, কাজলের বিক্রির প্রথম দলিলটি আমিই করে ছিলাম। দ্বিতীয় হস্তান্তরের বিষয়টি শুনেছি। তার এ ধরণের কাজ করা মোটেই ঠিক হয়নি। এটি একটি জালিয়াতি, যা জেনে বুঝে করা হয়েছে। এ ধরণের কাজে দলিল লেখকদের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে যায়। কেউ আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে সমিতির মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে ভেদেরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার রেহানা চৌধুরীর সাথে মুঠো ফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ভেদেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তানভীর-আল-নাফীস বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। একই জমি দুই জায়গায় বিক্রয় করা একটি জালিয়াতি যা আইনত অপরাধ। কোন দলিল লেখকের জেনে বুঝে এমন কাজ করা মোটেও আইন সম্মত নয়। আমি লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা

Total View: 329

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter