বৃহস্পতিবার,  ২২শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ৯:৫১

মাদক বিরোধী নতুন অভিযান ‘স্পেশাল ড্রাইভ’

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৯ , ০৮:১৬

স্টাফ রিপোর্টার
সারা দেশে আবারও জোরদার হচ্ছে মাদকবিরোধী অভিযান। দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের মতো এবারও মাদকের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে ‘স্পেশাল ড্রাইভ’ দিচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানের প্রথম টার্গেট কক্সবাজার ও টেকনাফ। এ টার্গেট সফল করার লক্ষ্যে কাল শনিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে টেকনাফের ইয়াবা সম্রাট সাইফুলসহ ১২০জন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আত্মসর্মপণ করবেন। এরইমধ্যে আত্মসর্মপণের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রেখেছে কক্সবাজার, টেকনাফ এলাকার প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

গত ৩ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার পর আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সদস্যরা বৈঠকে বসেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে তা অব্যাহত থাকবে। মাদক সমাজকে ভয়াবহভাবে ক্ষতি করছে। কাজেই যারা মাদকের সঙ্গে যুক্ত তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রীর মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ‘স্পেশাল ড্রাইভ’ এর পরিকল্পনা নেয়। সে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শনিবার সফলের পথে আরেক ধাপ এগুচ্ছে বলে জানান কক্সবাজার পুলিশ সুপার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনি নিরাপত্তায় ব্যস্ত থাকায় উদ্ধার অভিযান শিথিল ছিল। তবে এখন অভিযান জোরদার করায় মাদক ব্যবসায়ীরা ফের গা ঢাকা দিতে শুরু করেছে।

বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বেড়াজালে রয়েছে কক্সবাজার ও টেকনাফের ১২০ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীদ রানা টিপুকে সম্প্রতি গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নির্বাচনের পর এলাকায় ফিরে টিপু প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছিলো বলে অভিযোগ ওঠেছিল। গত সপ্তাহে ফেনী, কুমিল্লা ও মেহেরপুরে বন্দুকযুদ্ধে চার মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়।

সূত্র আরও জানায়, গত এক বছরের মাদকবিরোধী অভিযানে ১ লাখ ১৫ হাজার মামলায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত বছরের মে মাস থেকে পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্ট গার্ডসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

র‌্যাব-পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সারা দেশে তিন শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়। বিগত সরকারের অভিযানের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

২০১৮ সালের প্রথম ১১ মাসে পুলিশ ৯৩ হাজার ৭৪৭, র‌্যাব ৫ হাজার ৩৬৯, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ৬ হাজার ২৯০ এবং বিজিবি ১ হাজার ২৯১টি মামলা করে। একই সময়ে পুলিশ ১ লাখ ২২ হাজার ৪৮২, র‌্যাব ৯ হাজার ৭৩৩, ডিএনসি ছয় হাজার ৬৪৮ এবং বিজিবি এক হাজার ৪১৩ জনকে গ্রেফতার করে। ১১ মাসে সারা দেশ থেকে তিন কোটি ৪৯ লাখ ১ হাজার ৪৩৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। অভিযানে ৩ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হন।

পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, মাদকের ভয়াল থাবা থেকে দেশকে রক্ষা করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান সব সময়ই ‘জিরো টলারেন্স’। এ লক্ষ্যে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকবিরোধী অভিযান জিরো টলারেন্স নীতিতে চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা বিশেষ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। নতুন পরিকল্পনা নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি অন্যান্য কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

Total View: 251

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter