বৃহস্পতিবার,  ১লা অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  দুপুর ১২:৫৮

মাদক মুক্ত সমাজ গড়তে প্রয়োজনে রেশন প্রথা চালু করুন !

জুন ৬, ২০১৮ , ০০:৩১


আসাদুজ্জামান জুয়েল
বর্তমানে দেশে একটি বিষয় নিয়ে বেশ অস্থিরতা চলছে। সবাই মাদক নির্মূলে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিষয়টা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। মাদক নির্মূলে যুদ্ধ ঘোষনা দেয়ার কোন প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না। অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ভাবেই এই সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব। শুধু প্রয়োজন প্রশাসনের আন্তরিকতা এবং জনগণের একান্ত সহযোগীতা। আমাদের দেশে বহুল পরিচিত মাদকের মধ্যে আছে গাঁজা, ইয়াবা, ফেন্সিডিল, হেরোইন, মদ, বিয়ার ইত্যাদি। তবে মদ বিয়ার একটু অভিজাত মাদক। কারণ এটা যেহেতু লাইসেন্সধারী ব্যক্তিরা বিক্রি করতে পারে এবং লাইসেন্সধারীরাই সেবনও করতে পারেন তাই এটাকে মাদকের তালিকায় ফেলে লাভ নেই। যে বিষয়ে কথা বলছিলাম সে বিষয়ে যাওয়া যাক। আমরা যদি মাদক মুক্ত সমাজ গড়তে চাই তবে প্রশাসন বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা আন্তরিকতার সাথে স্বস্ব এলাকায় কারা মাদক সেবন করে তাদের খুঁজে বের করতে পারেন। মাদক সেবীদের সম্মানের সাথে ধরে এনে প্রয়োজনে মাদক খাইয়ে এবং বিশেষ প্রয়োজনে চাপ ও ভয় প্রয়োগ করে তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন যে, তারা কোথা থেকে মাদক সংগ্রহ করেন। প্রাথমিক ভাবে পাওয়া যাবে তারা কোথা থেকে মাদক সংগ্রহ করেন। এরপর একটু আন্তরিকতার সাথে সেই মাদক বিক্রেতাদের ধরতে পারেন। তাদের ধরে তথ্য সংগ্রহ করুন তারা কোথা থেকে মাদক আনেন। এতে কর্মকর্তা বা কর্তৃপক্ষ খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে পেয়ে যাবেন তাদের কাছে কারা সরবরাহ করে সেই তথ্য। এবার খুচরা বিক্রেতাদের সরবরাহকারীদের ধরে তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে তাদের মূল ডিলার বা সরবরাহকারী কারা। এভাবে সেই মুল ডিলার ধরে খোঁজ নিতে হবে মূল ডিলাররা কোথা থেকে মাদক সংগ্রহ করেন। এভাবে পেয়ে যাবেন ডিলারদের কাছে সরবরাহকারী গডফাদারদের। এবার গডফাদারদের ধরে খোঁজ নেন তারা কোন উৎস থেকে মাদক আনেন দেশে। কোন কোন রুট ব্যবহার করেন, কিভাবে আনে, সেই সম্পর্কে নানান তথ্য সংগ্রহ করে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ছিদ্রগুলো বন্ধে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করা। আমার এই পদ্ধতি হচ্ছে অহিংস পদ্ধতি। নির্লোভ কর্তাব্যক্তিরাই পারে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে সমূলে মাদক নির্মূল করতে। এই পদ্ধতিতে যারা থাকবে তারা হতে হবে ধোয়া তুলসি পাতার চেয়েও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। তবেই হবে দেশ মাদক মুক্ত। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি প্রশাসন আন্তরিক হলে দেশে একফোটা মাদকও থাকবে না। কিন্তু আমার এ কথা অরণ্যে রোদন ছাড়া কিছুই না। আমি সেটা জানি। দেশে পুলিশ মাদক ব্যবসা হতে হপ্তা বা মাসোহারা তোলে, বর্ডারের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা টাকার বিনিময়ে মাদকের চালান ছেড়ে দেয়। টাকার বিনিময়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল জেলখানায়ও মাদক সহজলভ্য। নিরপরাধ মানুষকেও টাকার বিনিময়ে মাদক দিয়ে ফাসিয়ে দেয়া হয়, ক্রসফায়ার দেয়া হয়। যারা পুরাতন ইমারতের কোনায় বসে মাদক সেবন করে তাদের ধরতে ব্যস্ত হই। অথচ বড়বড় কর্তা ব্যক্তিরা, সমাজের উচু স্তরের লোকেরা নিভু নিভু আলো জ্বালিয়ে টেবিলে টেবিলে চিয়ার্স ধ্বণি দিয়ে মদ বিয়ার খায় তাদের কোন দোষ নেই। দু’পেগ গলায় ঢেলে যারা মাদক নির্মূলে যায় তাদের দিয়ে কি মাদক নির্মূল হবে ? স্বচ্ছ সমাজ গঠনে প্রয়োজন স্বচ্ছ নাগরিক, স্বচ্ছ দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। প্রশাসনে স্বচ্ছ নাগরিক, স্বচ্ছ দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আমাদের আছে। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। ইয়াবা, গাজা, ফেনসিডিল, হেরোইনসহ অন্য মাদকগুলো যেহেতু বেশি ভয়াবহ তাই মদ ও বিয়ারকে সহজলভ্য করে দেয়া হোক। মদ ও বিয়ার যেহেতু পান করলে কোন সমস্যা নেই, সেহেতু নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির লোকদের জন্য যোগ্যতা অনুসারে এগুলো খাওয়ার অনুমতি প্রদান করলে আর লুকোচুরি থাকবে না। ঢাকায় যারা মদ ও বিয়ার খাচ্ছেন তাদের কি কোন ক্ষতি হচ্ছে না ? মদ ও বিয়ার নেশার দ্রব্য। “নেশা খাবি খা, মারা যাবি যা”। যেমন সিগারেট ক্ষতিকর এ সত্যটি প্রতিষ্ঠিত জেনেও সরকার সারা দেশে বিক্রি অবাধ করেছে তেমনি মদ ও বিয়ার অবাধ করে দিক। এক্ষেত্রে বিপুল রাজস্ব আহরণের সুযোগ হবে। মোটা টাকা কর ধার্য করে বাজারে ছেড়ে দিলে যার টাকা আছে সেটা অবশ্যই বৈধ পথে রোজগার করা টাকা সেই টাকা দিয়ে সে খাবে। সরকার বিপুল রাজস্ব ঘাটতি পূরণ করবে এই খাত থেকে। যেমনটা পুরণ হয় সিগারেট-তামাকজাত দ্রব্য থেকে। প্রয়োজনে রেশনের মাধ্যমে মদ-বিয়ার সরবরাহ শুরু করুক। আর যদি সিগারেট-মদ-বিয়ার এগুলোও ক্ষতিকর নেশা দ্রব্য বিবেচিত হয় তবে এগুলোও নিষিদ্ধ করা হোক। কোন নেশাদ্রব্যই থাকবে না সমাজে। ক্রসফায়ার দিয়ে মাদক বন্ধ করা যাবে না। এটা আমি নিশ্চিত করে বলে দিতে পারি। নেশার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা মানে কোন কোন কর্তৃপক্ষকে টাকা কামানোর সুযোগ করে দেয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। গ্রেফতারের পর কারো কারো কাছ থেকে টাকা নিয়েছে আবার কারো কারো কাছ থেকে টাকা নিয়েও ক্রসফায়ারে দিয়েছে এমন অভিযোগও পাচ্ছি। তাই আসুন মাদক নির্মূলে সক্রিয় কোন নতুন পদ্ধতি খুঁজে বের করি। সমাজকে মাদক মুক্ত করি।

Total View: 921

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter