বৃহস্পতিবার,  ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  সন্ধ্যা ৬:৪৮

মা ইলিশ রক্ষায় অনন্য ভূমিকা রাখছেন সাংসদ ইকবাল হোসেন অপু

অক্টোবর ১২, ২০১৯ , ১৮:০৬

স্টাফ রিপোর্টার

ইলিশ মাছের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছেন শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু। প্রায় দুই মাস আগে থেকে তিনি তার নির্বাচনী এলাকার শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার পদ্মানদীর তীরবর্তী ৭টি ইউনিয়নের প্রায় ৪০টি স্থানে জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেন। যার ফলে এ বছর নিষিদ্ধ সময়ে মা ইলিশ নিধন আগেকার তুলনায় ৯০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মৎস বিভাগ।

মা ইলিশ রক্ষার অংশ হিসেবে জাজিরা উপজেলার পশ্চিম নাওডোবা, পূর্ব নাওডোবা, পালেরচর, বড়কান্দি, জাজিরা, বিলাশপুর ও কুন্ডেরচর ইউনিয়নের দিয়ারা নাওডোবা, মাঝিরঘাট, পাইনপাড়া, পালেরচর, ছিটারচর, বাবুর চর, দুর্বাডাঙ্গা, দুর্গার হাট, শফি কাজীর বাজার, কাজিয়ার চরসহ বিভিন্ন স্থানে মৎসজীবী, জেলে, নৌকার মালিক, দাদন ব্যবসায়ী এবং এনজিও কর্মীদের নিয়ে জাজিরা উপজেলা প্রশাসন, থানা প্রশাসন, মৎস বিভাগ, আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সচেতনাতামূলক সভা সমাবেশ, উঠান বৈঠক এবং মাইকিং করেছেন।

জানা গেছে, ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর এই ২২ দিন ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমের শুরুতেই সাংসদ ইকবাল হোসেন অপু ও জাজিরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোবারক আলী শিকদারের নির্দেশনা মতে দলীয় কর্মীরা অভিযানের প্রথম দিনই ৪০টি নৌকা ও বিপুল পরিমানের মাছ ধরার কারেন্ট জালসহ মা ইলিশ ধরার প্রস্তুতিকালে ১৯ জেলেকে আটক করে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন। আটককৃতদের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ও জরিমানা প্রদান করেন উপজেলা প্রশাসন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, জাজিরা উপজেলাধীন পদ্মা নদীর জাজিরা অংশে সংসদ সদস্য ইকবার হোসেন অপুর নির্দেশে ২৪ ঘন্টা ব্যাপী অন্তত ২০টি ট্রলার ও স্পীড বোট নিয়ে পালাক্রমে শত শত নেতাকর্মীরা প্রহরা দিচ্ছেন। যার ফলে, কোন জেলে নৌকা নিয়ে নদীতে নামতে সাহস পাচ্ছে না। কেউ মাছ ধরার প্রস্তুতি নিতে গেলেই তাদের আটক করে আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্য ও প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করছেন এই সাহসী কর্মীরা। ইতিমধ্যে গত তিন দিনে ইলিশ রক্ষা টিমের সদস্যরা প্রশাসনের সহায়তায় ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৮ সালে ইলিশের প্রজনন মৌসুমে উল্লেখিত জাজিরার নৌ সীমানা এলাকার প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় দিন রাত ইলিশ নিধনের মহোৎসবে মেতে উঠেছিল। প্রায় দুই শত স্পীড বোট ও ট্রলার দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জেলেদের ভাড়া করে এনে ইলিশ শিকার করেছে ওই চক্রটি। নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভোর ৫টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাজার হাজার লোক এসে পানির দরে মাছ কিনে নিয়েছে সেই অসাধু চক্রটির কাছ থেকে।

একটি পরিসংখ্যানে জানা গেছে, শুধু জাজিরা উপজেলাতেই গত বছর অন্তত ৫ শত মেট্রিক টন ইলিশ অবৈধভাবে নিধন করা হয়েছিল নিষিদ্ধ সময়ে। এ সকল প্রভাবশালী মহলের ক্ষমতার কাছে প্রশাসনের লোকেরা ছিলেন অসহায়। তারপরেও গত বছর ২১ দিনে অন্তত ৫ শত জেলেকে আটক করা হয়েছিল। এদের মধ্যে ৩ শত ৪৫ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছিল। জরিমানা করা হয়েছিল ৮ লাখ টাকা। জব্দ করা হয়েছিল বিপুল পরিমানে কারেন্ট জাল এবং নৌকা।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছেন, এ বছর মৌসুমের শুরুতেই জাজিরা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে বিভিন্ন এনজিও, দাদন ব্যবসায়ী, প্রভাবশালী মুনাফালোভীরা জাল ও নৌকা নির্মাণ করতে এবং বাইরের জেলা থেকে মাছ ধরার শ্রমিক (জেলে) ভাড়া করতে অন্তত ১০ কোটি টাকা লগ্নি করেছেন। কিন্তু, ইকবাল হোসেন অপুর দেশাত্ববোধ ও রাজনৈকিত স্বদিচ্ছার কারণে বহুলাংশে ব্যর্থ হয়েছে তাদের এই উদ্যোগ।

জাজিরা উপজেলা মৎস কর্মকর্তা উজ্জল কুমার রায় বলেন, ৯-৩০ অক্টোবর এই ২২ দিন ইলিশের প্রজনন মৌসুম। এ সময়ে সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বিপনন, মজুদ, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা থেকে জেলেদের বিরত থাকতে আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ মাননীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন সহ সরকার দলীয় নেতা-কর্মীদের সহায়তায় বিভিন্ন ধরনের গণসচেতনতা মূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছি। তার ফলস্বরূপ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জেলেরা এবছর নদীতে নামছেন না বললেই চলে। এতে মাননীয় সাংসদ শতভাগ সফল হয়েছেন। আমরা প্রতিদিন ২০ জন আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্য, উপজেলা প্রশাসন ও রাজনৈতিক কর্মীদের নিয়ে নদীতে সার্বক্ষণিক টহল দিয়ে যাচ্ছি।

সংসদ সদস্য ইকাবল হোসেন অপু বলেন, ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। অক্টোবর মাসের এই সময়টায় প্রাকৃতিক কারণেই ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। একটা মা ইলিশ যখন তার ডিম ছাড়ার আগে প্রসব যন্ত্রনায় কাতর হয়ে যায় তখন নোনা পানি থেকে মিঠা পানিতে আসে ডিম ছাড়তে। আর এ সময় কিছু অমানুষ এই মা ইলিশ গুলোকে নির্মমভাবে হত্যাজজ্ঞে মেতে উঠে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এবং আমার নৈতিক চেতনাবোধ থেকে আমি জাজিরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহোদয় এবং দলীয় সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের সহায়তায় দুই মাস আগে থেকেই প্রজনন সময়ে মা ইলিশ রক্ষার জন্য এলাকাবসী ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে নানা ধরনের জনসচেতনতা মূলক সভা সমাবেশ শুরু করি। ৮ অক্টোবর রাত থেকেই মৎস বিভাগ, আউন শৃংখলা বাহিনী, উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সাথে দলীয় কর্মীদের নদীতে সার্বক্ষনিক টহলের ব্যবস্থা করেছি। এতে গত তিন দিনে ব্যাপক সফলতা এসেছে। আশা করছি বাকি ১৯ দিনও মা ইলিশ রক্ষায় আমরা সন্তোষজনক ভাবে সফল হবো।

Total View: 1136

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter