বুধবার,  ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ১২:০৭

মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র স্মৃতিস্তম্ভটিতে প্রতিনিয়ত বসছে ছাগলের হাট !

আগস্ট ১৯, ২০১৯ , ০০:৩১

স্টাফ রিপোর্টার
শরীয়তপুর-চাঁদপুর মহাসড়কের পাশে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র স্মৃতিস্তম্ভটিকে দীর্ঘদিন যাবৎ ছাগলের হাট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। যার ফলে একাত্তরের চেতনা পরিপূর্ণভাবে গণমানুষের মাঝে প্রতিফলিত হচ্ছে না। জরুরী ভিত্তিতে ৭১’র গণহত্যার একমাত্র স্মৃতিস্তম্ভটির কাছ থেকে ছাগলের হাটটি সরিয়ে নেয়ার দাবী জানিয়েছেন শরীয়তপুরের সুশীল সমাজ।
মহাসড়কের পাসে গরু-ছাগলের হাট বসানোর সরকারী নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু শরীয়ততপুর পৌরসভা সেই বিধি নিষেধের তোয়াক্কা না করে মহাসড়কের পাশে গরু-ছাগলের হাট বসানোর অনুমতি দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, উক্ত হাটের পাশে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভটিকে দীর্ঘদিন যাবৎ ছাগলের হাট হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। এমন একটা পবিত্র স্থানে ছাগলের হাট বসিয়ে শরীয়তপুর পৌরসভা কি ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছেন তা এখন জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শরীয়তপুর-চাঁদপুর মহাসড়কের পাশে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভটির পাশে সনাতন ধর্মালম্ভীদের একটি উপাশনালয় রয়েছে। সনাতন ধর্মালম্ভীরা সেখানে প্রতিদিন পূজা-অর্চনা করে থাকেন। ছাগলের হাট বসানোর কারণে তাদের পূজা-অর্চনা করতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে।আর মহাসড়কের পাশে গরু ছাগলের হাট বসায় জনগন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। সেই সাথে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। যার প্রেক্ষিতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন জনগন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২২ মে মুক্তিযুদ্ধের সময় স্থানীয় কিছু রাজাকারদের সহায়তায় পাক বাহিনী এই অঞ্চলে সর্বপ্রথম নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়। একই দিনে এই এলাকায় তিন শতাধিক স্বাধীনতাকামী মানুষকে হত্যা করে। সেই সাথে শতাধিক বাড়ি-ঘরে অগ্নি সংযোগ করে। এ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া ৭৩ জন শহীদের নাম পাওয়া গেছে। তাদের নাম স্মৃতিস্তম্ভে লেখা রয়েছে। সঠিক তদারকী না করায় সেই নাম গুলো আজ মুছে যাচ্ছে। বছরে একদিন শহীদদের নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও, বাকি সময়টিতে জায়গাটি ছাগলের হাট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।
এ ব্যাপারে হাটের ইজারাদার সোহরাব শিকদারের সাথে মুঠোফোনে আলাপ কালে তিনি বলেন, “এই হাটের ইজারা দিয়েছে পৌরসভা। আপনার কিছু জানার থাকলে তাদের কাছে গিয়ে জানেন। আমাকে বিরক্ত করছেন কেন” ?


এ ব্যাপারে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি কবি গেরিলা আজাদ, কলামিষ্ট আসাদুজ্জামান জুয়েল এবং সাংবাদিক মুরাদ হোসেন মুন্সি বলেন, ৭১’র চেতনাকে বুকে ধারণ করে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ একটি পবিত্র স্থান। সেই স্থানে ছাগলের হাট বসবে, তা আমরা কখনই আশা করি না। আমরা ছাগলের হাটটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার জন্য পৌর প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্শণ করছি।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মাহবুর রহমান শেখের সাথে মুঠোফোনে আলাপ কালে তিনি বলেন, “পৌরসভার মধ্যে হাট বাজারের ইজারা দেন পৌরসভা। উপজেলা পরিষদ ইজারা দেয় না। আপনারা বলার কারণে আমি পৌরসভার মেয়র সাহেব এবং ইজারাদারকে চিঠি দিয়েছি। মেয়র সাহেব আমাকে বলেছেন, খুব দ্রুত ছাগলের হাটটি সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করবেন”।
এ ব্যাপারে শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র মোঃ রফিকুল ইসলাম কোতোয়ালের সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভটির কাছ থেকে ছাগলের হাটটি খুব দ্রুত সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে”।

Total View: 309

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter