বুধবার,  ৩রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,  ১৮ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  সন্ধ্যা ৭:৫৬

মোটর সাইকেলের মাধ্যমে প্রায় ৬ হাজার বেকারের কর্মসংস্থান

ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২১ , ০৮:৩৫

এম.এ ওয়াদুদ মিয়া,
শরীয়তপুরে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালানোর মাধ্যমে প্রায় ৬ হাজার বেকারের কর্মসংস্থান হয়েছে। এই মোটরসাইকেল চালিয়ে যে টাকা আয় হচ্ছে তা দিয়েই চলছে তাদের সংসার।

শরীয়তপুর জেলা ৬টি উপজেলা ও ১টি থানা নিয়ে গঠিতে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ জেলায় প্রায় ৬ হাজার বেকার যুবক ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন। সময় বাঁচাতে ও দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে যাত্রীরা বিকল্প যান হিসেবে মোটরসাইকেল ব্যবহার করছেন। এতে একদিকে যাত্রীদের যেমন সময় বাঁচে অপরদিকে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান হয়েছে।

তাছাড়া জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত যাতায়াত করা যাচ্ছে। চালকরা জানান, তারা সবাই বেকার ছিলেন। অর্থের অভাবে অনেকেই লেখাপড়া থেকে ছিটকে পড়েছেন। বিকল্প কোনো কর্মসংস্থান না হওয়ায় মোটরসাইকেলে যাত্রী বহনকেই তারা পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

শরীয়তপুর কোর্ট চত্বর মোটরসাইকেল সমিতির সাবেক সভাপতি নুরুল আমিন মোল্লা বলেন, “জেলায় ৫৬টি মোটরসাইকেল স্ট্যান্ড আছে। যার মধ্যে কোর্ট চত্বরও একটি। এখান থেকে তারা জেলার বিভিন্ন স্থানে ভাড়ায় যাত্রী বহন করেন। ওই স্থান থেকে মাঝির ঘাটের দূরত্ব ২৮ কিলোমিটার। এক সঙ্গে দুইজন গেলে ভাড়া নেন ৩শ টাকা”।

চালক আল আমিন বলেন, “আমি অনেক গরিব মানুষ। অনেক কাজের সন্ধান করেছি, পাইনি। পরে সংসার চালাতে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাচ্ছি। প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৩শ টাকা আয় হয়। সমস্ত খরচ বাদে ৮শ টাকা থাকছে। যা আয় হয় তাতে সংসার চলে যাচ্ছে”।

কাঁচিকাটা ইউনিয়নের সরদারকান্দি গ্রামের মোটরসাইকেল চালক মোঃ ইয়াসিন সরদার বলেন, “তাদের ইউনিয়নের চারপাশে পদ্মা নদী। তেমন কোনো পাকা রাস্তা নেই। নদীবেষ্টিত এই চরাঞ্চলের এসব রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেল ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করে না। সেখানে ভাড়ায় চালিত প্রায় দেড়শ মোটরসাইকেল আছে”। তিনি আরও বলেন, “প্রতিদিন তার এক থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হয়। মোটরসাইকেলের তেল ও অন্যান্য খরচ বাবদ ব্যয় হয় ২শ থেকে ৩শ টাকা। বাকি টাকা দিয়ে সংসার চলছে”।

এছাড়া জেলার চরাত্রা, নওপাড়া ইউনিয়নের চিত্রও একই। ওই এলাকার যাত্রীরাও খুশি মোটরসাইকেলে চলাচল করতে পেরে। রিপন সরদার, রিয়াজ হাওলাদারসহ অনেকে জানান, “চরাঞ্চলের রাস্তা দিয়ে অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করে না। এ কারণে তারা নিরুপায় হয়েই ভাড়ার মোটরসাইকেলে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করছেন”। তারা জানান, “এসব রাস্তা অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং দুর্গম। অনেক সময় কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে চিকিৎসার প্রয়োজনে দ্রুত হাসপাতালে নিতে চাইলে নানা রকম ভোগান্তিসহ দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয়। সরকারের কাছে তাদের একমাত্র চাওয়া, অতি দ্রুত এসব চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার করে মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করে দেয়া”। সেই সাথে তারা একটি স্থায়ী মোটরসাইকেল স্ট্যান্ড নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এ্যাডভোকেট মুরাদ হোসেন মুন্সি বলেন “ভাড়ায় চালিত প্রতিটি মোটরসাইকেলের সামনে স্টিকার (ভাড়ায় চালিত মটর সাইকেল) অথবা চালকদের গায়ে ইউনিফর্ম থাকা আবশ্যক। অন্যথায় সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তিতে পড়তে হচ্ছে”।

বৈশাখী টেলিভিশনের সাংবাদিক আবদুল খালেক ইমন পেদা বলেন, “কয়েকদিন আগে শরীয়তপুর সদর থেকে মোটরসাইকেলে গোসাইরহাট যাচ্ছিলাম। পথে বুড়িরহাট পার হতেই একজন আমার মোটরসাইকেল থামিয়ে বলেন, ভাই ভাড়ায় গোসাইরহাট যাবেন”?

শরীয়তপুর কোর্ট চত্বর মোটরসাইকেল সমিতির সভাপতি মনির হোসেন মাদবর বলেন, আমরা গরীব মানুষ। চাকরী না থাকার কারণে আমরা ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল চালাই। সারাদিন মোটর সাইকেল চালানোর পর খরচ বাদ দিয়ে যা আয় হয় তাতে আমাদের সংসার ভালোই চলে। মোটর সাইকেল চালিয়ে শরীয়তপুরের প্রায় ৬ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। আমাদের কোন স্থায়ী স্ট্যান্ড নেই। আমাদেরকে একটি স্থায়ী স্ট্যান্ড নির্মাণ করে দেয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি।

শরীয়তপুর সদর পৌরসভার মেয়র এ্যাডভোকেট পারভেজ রহমান জন বলেন, “বেকার না থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে। যারা ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালান তাদের পরিচয়পত্র থাকা প্রয়োজন। যাতে সড়ক দুর্ঘটনা হলে অথবা মাদকসহ ধরা পরলে শনাক্ত করা যায়”।

Total View: 72

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter