বৃহস্পতিবার,  ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  বিকাল ৪:১১

যে কারণে ঘন ঘন বিদেশিদের শরণাপন্ন হচ্ছে বিএনপি

সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮ , ১১:০১


স্টাফ রিপোর্টার
বিরোধী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

৪ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে গুলশান বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকটি শুরু হয়। চলে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত।

বৈঠকে ইইউ রাষ্ট্রদূত, সুইজারল্যান্ড, পাকিস্তান, কানাডা, স্পেন, ফিলিস্তিন, জাপান, নরওয়ে, মিয়ানমার, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, তুর্কি, যুক্তরাজ্যেসহ ১৯টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

দলের নেত্রী খালেদা জিয়া গ্রেফতার হওয়ার পর গত সাত মাসের প্রায় প্রতি মাসেই বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন বিএনপি নেতারা।

বিএনপি বলছে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিদেশি কূটনীতিকদের অবহিত করছেন।

কিন্তু এতে কী উদ্দেশ্য হাসিল হচ্ছে বিএনপির?

এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তারা তাদের অবস্থান সম্পর্কে বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে একটা ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘লক্ষ্য একটাই, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জানা উচিত, দেশে কী ঘটছে এবং এখানে গণতন্ত্রের অবস্থা কী? গণতান্ত্রিক স্পেস কতটুকু আছে। কীভাবে সরকার সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। এই বিষয়গুলোই আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করি।’

সর্বশেষ বৈঠকে বিএনপির নেতারা তাদের নেত্রীর জেলে থাকা এবং নির্বাচন নিয়েই মূলত কথা বলেছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে প্রভাবশালী দেশগুলো যাতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, সেই প্রত্যাশা থেকে বিএনপি এখন ঘন ঘন কূটনীতিকদের নিয়ে বৈঠক করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী মনে করেন, এর মাধ্যমে সরকারের ওপর যাতে একটা চাপ সৃষ্ট হয়, সেটাই বিএনপির প্রত্যাশা।

দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপি চায় একটা অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, অবাধ নির্বাচন করতে বিদেশিরা সরকারকে পরামর্শ দেবে। এটা বিএনপি আশা করে।’

বাংলাদেশের রাজনীতিতে যখন যারাই বিরোধী দলে থাকে, তারাই দেশে কোনো বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হলে বিদেশি কূটনীতিকদের শরণাপন্ন হয়।

এমনকি অনেক সময় সরকারের পক্ষ থেকেও বিদেশিদের কাছে বিশেষ কোনো পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। যেমন নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর সরকারের পক্ষ থেকেও বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফ করতে দেখা গেছে।

অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে বাইরের শক্তির প্রভাব এখনো যে আছে, সে বিষয়ে সন্দেহের তেমন কোনো অবকাশ নাই।’

অবশ্য বিএনপি যে কয়েক মাস ধরে নিয়মিত বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করছে, তা নিয়ে সরকারের সিনিয়র মন্ত্রীদেরও অনেকে বলেছেন, বিদেশিদের কাছে দেশের রাজনীতি নিয়ে নালিশ করা হচ্ছে।

অবশ্য এ অভিযোগ নাকচ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কোনো নালিশের ব্যাপার, এটার মধ্যে থাকে না। আমরা শুধু অবহিত করি যে, কী ঘটছে এ দেশে। এখন তো কোনো দেশই বিচ্ছিন্ন না। একটা টোটাল ভিলেজের মতো। সে ক্ষেত্রে যারা ডেভেলপমেন্ট পার্টনার আছে, যারা গণতান্ত্রিক দেশ আছে, বাংলাদেশের প্রতি সহানুভূতিশীল দেশ যেগুলো আছে, তাদের আমরা বিষয়গুলো অবহিত করি।’

অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপির এই নিয়মিত গণসংযোগ সরকারের ওপর কিছুটা হলেও এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করছে।

Total View: 666

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter