সোমবার,  ২৬শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ১০ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ৩:৪৯

‘লোকটা ভালো, কিন্তু মন্ত্রণালয় চালানোর যোগ্যতা নাই’

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৮ , ২৩:০৬

স্টাফ রিপোর্টার
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সম্পর্কে সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (বি. চৌধুরী) বলেছেন, ‘লোকটা ভালো, শিক্ষিত; কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় চালানোর যোগ্যতা তার নাই।

শুক্রবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সোনার বাংলা পার্টি আয়োজিত ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

বিকল্পধারা বাংলাদেশ-এর সভাপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘একের পর এক প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। প্রশ্ন ফাঁসের নায়ক কারা, মন্ত্রী সাহেব কিছুই জানেন না। কিন্তু আপনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যে দায়িত্ব আপনি পালন করেন নাই। আপনার কি সেই আসনে থাকার অধিকার আছে?’

‘আপনি পদত্যাগ করবেন না, ঠিক আছে। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার দায়িত্ব ছিল। দেশের ছেলে-মেয়েদের ধ্বংস হচ্ছে এই অযোগ্য লোককে মন্ত্রী বানিয়ে। লোকটা ভাল, শিক্ষিত; কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় চালানোর যোগ্যতা তার নাই,’ বলেন বি. চৌধুরী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী ভালো লোক হওয়ায় তার পদত্যাগ চাই না। শিশু মন্ত্রণালয় আছে, ধর্ম মন্ত্রণালয় আছে, ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা মন্ত্রণালয় আছে। সেই ঠাণ্ডা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেন।

প্রশ্নপত্র ফাঁসে বন্ধে পরামর্শ দেন বি. চৌধুরী, ‘এক্ষেত্রে প্রথমত এমসিকিউ বাতিল করতে হবে। ১০০ নম্বরের মধ্যে ৩৩ শতাংশ পাস করার মতো প্রশ্ন থাকবে। যাতে দুঃখ না থাকে, ফেল করার মতো কঠিন প্রশ্ন আসছে। ৩৩ ভাগ দেন, যারা একটু ভাল পড়াশোনা করছে তাদের জন্য। আর ৩৩ শতাংশ দেন মেধা যাচাইয়ের জন্য, কঠিন প্রশ্ন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন দরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এমন পঁচে গেছে, এটার সার্জারি করা দরকার। শুধু শিক্ষা নয় একের পর এক কেলেঙ্কারিতে ব্যাংকিং খাতও ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি, ‘অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছেন।উনি মনে করেন ব্যাংকের দায়িত্ব ব্যাংকারদের, চুরি করলে চোরের দায়িত্ব।

অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ‘আপনি ফাইন্যান্স মিনিস্টার, একদিন যদি আপনাকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়! অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। হাজার হাজার কোটি টাকা চুরি হয়ে যায়। এতে যৌক্তিক কোন ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না।

অর্থমন্ত্রী ব্যর্থ হয়ে স্টুপিড ও রাবিশের মতো ‘পেট ল্যাঙ্গুয়েজ’ ব্যবহার করার সমালোচনা করে প্রবীণ এই রাজনীতিক বলেন, ‘এক সময় ব্রাইট স্টুডেন্ট ছিলেন। যে কোন কারণে হোক তিনি প্রশাসন চালাতে ব্যর্থ হয়েছেন। একটা ব্যাংকও ঠিকমত চলে না, দেখতে পারেন নাই, ধরতে পারেন নাই, শাস্তি দিতে পারেন নাই, কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন নাই।

বি. চৌধুরী বলেন, ‘এরপরও যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে ক্ষমা করে দেন। ক্ষমা করা উত্তম। কিন্তু উত্তমের পন্থা ছেড়ে দেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমাদের অর্থনীতি যেন একেবারে ধ্বংস না হয়ে যায়।

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি, ‘জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন করার পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে। সবাই অংশগ্রহণ করতে পারে, এমন নির্বাচন দিতে হবে, সুষ্ঠু ভোট হতে হবে, ভোট গুণতে হবে। এছাড়া ভবিষ্যত ভয়াবহ অন্ধকার।

বি. চৌধুরী বলেন, ‘পাঁচ শতাংশ লোক গোঁড়া আওয়ামী লীগ, পাঁচ শতাংশ গোঁড়া বিএনপি আর পাঁচ শতাংশ গোঁড়া জামায়াত। এর বাইরে বাকি ৮৫ শতাংশ লোক চায় সুষ্ঠু নির্বাচন ও সুন্দর নির্বাচন। এর মাধ্যমে তারা প্রতিনিধি নির্বাচন করতে চায়। সেই সুযোগ করে দিন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দুর্নীতির মামলায় খালেদার সাজা হওয়ার মাধ্যমে আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ‘চূড়ান্ত অনিশ্চিত’ অবস্থার দিকে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘৮ তারিখে বেগম জিয়ার রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে এবং তারও আগে তার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে সেই রকম একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি আমাদেরকে সামনে দেখতে সুযোগ দেয় না আর।

মান্না বলেন, ‘আজকে কোন একজন নেতা বলেছেন, বেগম জিয়ার রায় ও তাকে জেলখানায় যে আচরণ করা হয়েছে তার মাধ্যমে সমঝোতার পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

‘আপিল করার জন্য রায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে পাওয়া উচিত, কারণ লোয়ার কোর্ট (নিম্ন আদালতে) কোন রায় দিতেই পারে না, পূর্ণাঙ্গ রায় লেখা ছাড়া। কিন্তু লোয়ার কোর্টেও এটা হল। আমি বিশ্বাস করতে চাই না, লোয়ার কোর্ট সাতদিনেও রায় দেয়নি। আমি সেজন্য বিএনপি চেয়ারপার্সনের জন্য আমি পরিপূর্ণ সহমর্মিতা জানাচ্ছি,’ বলেন মান্না।

আওয়ামী লীগের সাবেক এই নেতা আরও বলেন, ‘নিম্ন আদালত এরকম করতে পারে, তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বেগম জিয়া, উনি দেখেননি? জানেননি? উনি কিছুই করেননি, সেজন্য নিজের পাতা ফাঁদে নিজেই আটকা পড়েছেন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি শেখ আব্দুন নূর, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হারুন-অর-রশীদ বক্তব্য দেন।

Total View: 1111

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter