শনিবার,  ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ৯:০৭

শরীয়তপুরের “অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান” প্রকল্পের কাজ মানেই শুভংকরের ফাঁকি !

জানুয়ারি ৭, ২০১৮ , ২২:৩৬

আবদুল বারেক ভূইয়া
শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে “অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান” কর্মসূচী প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ৪টি প্রকল্পের কাজে চলেছে শুভংকরের ফাঁকি। ফলে যে উদ্দেশ্য নিয়ে সরকার এ প্রকল্প হাতে নিয়েছেন সে উদ্দেশ্য চাঙ্গে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরেজমিনে ইসলামপুর ইউনিয়নের ৪টি প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, সরকারী বিধি মোতাবেক প্রত্যেকটি প্রকল্পে যে পরিমাণ শ্রমিক বরাদ্দ রয়েছে তার এক তৃতীয়াংশ মহিলা শ্রমিক কাজ করার বিধান থাকলেও কোন প্রকল্পেই কোন মহিলা শ্রমিক উপস্থিত নেই। আর যে পরিমাণ পুরুষ শ্রমিক বরাদ্দ রয়েছে তার এক চতুর্থাংশেরও কম শ্রমিক দিয়ে ঢিলে ঢালা ভাবে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।
সেখানে প্রকল্পের কাজ সঠিক ভাবে তদারকী করার জন্য ডামুড্যা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কোন প্রতিনিধিকে পাওয়া যায়নি। তাদের অনুপস্থিতিতে ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আমিন উদ্দিন ঢালী উক্ত ৪টি প্রকল্পের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার পায়তারা করছেন। শুধু তাই নয়, ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জানা যায় প্রকল্পের নামে যে সকল শ্রমিক দেখিয়ে ব্যাংক একাউন্ট খোলা হয়েছে প্রকৃতপক্ষে সে সকল শ্রমিক দিয়ে কাজ না করিয়ে অন্য জায়গার শ্রমিক দিয়ে কাজ করাচ্ছেন। প্রত্যেকটি প্রকল্পের কাজ সরকারী বিধি মোতাবেক সম্পন্ন করার কথা থাতলেও চেয়ারম্যান তার নিজস্ব কিছু নিয়মে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করছেন।
সেক্ষেত্রে ইসলামপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে দক্ষিণপাড়া বাবু মাদবরের বাড়ি হতে বিন্দাইকাঠি স্কুল হয়ে কালাম সরদারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পূণঃ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ দেখতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ৭ জন শ্রমিক মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণের কাজ করছেন। সরকারী ভাবে এ প্রকল্পে ২৫ জন শ্রমিক বরাদ্দ রয়েছে এবং এক জন শ্রমিকের পারিশ্রমিক ধরা হয়েছে ২শত টাকা। কিন্তু ইসলামপুরে ২শত টাকায় শ্রমিক পাওয়া যায় না বিধায় চেয়ারম্যান ৩ শত টাকা করে শ্রমিক নিয়েছেন। সরকারী ভাবে বরাদ্দকৃত ২৫ জন শ্রমিকের প্রতিদিনের মূল্য আসে ৫ হাজার টাকা। সেক্ষেত্রে প্রতিটি শ্রমিকের পারিশ্রমিক ৩ শত টাকা হলে ৫ হাজার টাকায় শ্রমিক পাওয়া যায় ১৬ জন। কিন্তু ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ৭ জন শ্রমিক দিয়ে প্রকল্পের কাজ দায় সারা ভাবে সম্পন্ন করছেন। স্থানীয় ভাবে জানা যায়, চেয়ারম্যান গত ৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার প্রকল্পের কাজ শুরু করেছেন। অর্থাৎ ৪০ দিনের কাজের মধ্যে ৩২দিন পার হয়েছে। আর ৮দিন রয়েছে। আর এই ৮ দিনের মধ্যে ৬দিন কাজ করে পুরো ২লক্ষ টাকা বিল তোলার পায়তারা করছেন।
এ ব্যাপারে ১নং ওয়ার্ডে কাজ করতে আসা শ্রমিকদের সর্দার শাহ আলম বলেন, আমরা আজ ৬ দিন যাবৎ ৭ থেকে ১০ জন শ্রমিক দিয়ে এ প্রকল্পের কাজ করাচ্ছি। আমরা প্রতিদিন সকাল ৮টায় মাটি কাটার কাজ শুরু করি এবং দুপুর ২টায় শেষ করি। আমাদেরকে জনপ্রতি ৩শ টাকা করে দেয়া হয়।
এদিকে “অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান” কর্মসূচীর ৪০ দিনের ৩২দিন পার হলেও ৪নং ওয়ার্ডে কুতুবপুর চৌকিদার বাড়ি হতে সেলিম বেপারীর ব্রীজ পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের কাজ এখন পর্যন্ত শুরু করতে পারেননি। এ প্রকল্পে ২৯ জন শ্রমিক বরাদ্দ রয়েছে। ৪০ দিনে তাদের পারিশ্রমিক হচ্ছে ২ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা। এ প্রকল্পের কাজ না করেই সমস্ত টাকা চেয়ারম্যান মোঃ আমিন উদ্দিন ঢালী আত্মসাৎ করার পায়তারা করছেন। কারণ এখানে কাগজে কলমে প্রকল্পের নাম থাকলেও বাস্তবে কোন প্রকল্প নেই।
এ ব্যাপারে স্থানীয় আবদুল কাদের চৌকিদার বলেন ৪নং ওয়ার্ডে কুতুবপুর চৌকিদার বাড়ি হতে সেলিম বেপারীর ব্রীজ পর্যন্ত কোন রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি। কারণ এখানে “অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান” কর্মসূচীর ৪০ দিনের কোন প্রকল্প নেই। আর তাছাড়া এখানে কোন হালট নেই যে, এদিক দিয়ে রাস্তা হবে। এখানে ভ্যাকু দিয়ে মাটি কাঁটা হচ্ছে মাছ চাষের প্রজেক্ট করার জন্য।
আর ৫নং ওয়ার্ডে পূর্ব কুতুবপুর সাকো হতে জয়নাল ভূইয়ার ভাঙ্গা পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ কাজে ২৫ জন শ্রমিক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সেখানে ৪ জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়। এখানেও গত ৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। অর্থাৎ চেয়ারম্যান ৬দিন কাজ করিয়ে ৪০ দিনের জন্য বরাদ্দ ২লক্ষ টাকা হালাল করার পায়তারা করছেন।
৩নং ওয়ার্ডে দারাইশকাঠি ফজলে করিম বেপারীর ভিটা থেকে রহমালী চোকদারের বাড়ি হয়ে মোতালেব বেপারীর বাড়ি ভায়া মোছলে উদ্দিন বেপারীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পূণঃ নির্মাণ কাজে ১১ জন শ্রমিককে রাস্তায় কাজ করতে দেখা যায়। এখানেও ৪ ডিসেম্বর কাজ শুরু করেছেন এবং দায় সারা ভাবে কাজ করে ২লক্ষ ৮০ হাজার টাকার বিল তুলে নেয়ার ধান্দা করেছেন। সর্বপরি হিসাব করলে দেখা যায় ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আমিন উদ্দিন ঢালী ৪টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৯ লক্ষ ১২ হাজার টাকা আত্মসাৎ করার পায়তার করেছেন।
এ ব্যাপারে ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আমিন উদ্দিন ঢালীর সাথে মুঠোফোনে আলাপ কালে তিনি বলেন, সবই তো আপনারা জানেন। অফিস খরচ হিসেবে প্রকল্পের নামে বরাদ্দকৃত মোট টাকার ২৫ শতাংশ টাকা আমাদের কাছ থেকে পি.আই.ও নিউটন বাইন কেটে রাখেন। তারপর আবার সচিবকে দিতে হয়। সব মিলিয়ে খরচের পরিমাণ এতো বেশী হয় যে সঠিক ভাবে প্রকল্পের কাজ করা সম্ভব হয় না।
এ ব্যাপারে ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিউটন বাইন এর সাথে মুঠো ফোনে আলাপ কালে তিনি বলেন, প্রকল্পের কাজ সঠিক ভাবে না করলে বিল দেয়া হবে না।

Total View: 1169

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter