শুক্রবার,  ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,  ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,  দুপুর ২:০৮

শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা আবারও ভাঙ্গতে শুরু করেছে

আগস্ট ৭, ২০১৯ , ০৯:০৯

জান্নাতুল শাহনাজ
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের উকিল উদ্দিন মুন্সী কান্দি গ্রাম আবারও ভাঙ্গতে শুরু করেছে। ১০ দিনের ব্যবধানে ওই গ্রামের ৩৫ বিঘা ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গন শুরু হওয়ায় সিরাজুল ইসলাম বেপারী, ইদ্রিস বেপারী, মজিবর রহমান ছৈয়াল, আবুল কালাম মৃধা, সজল তালুকদার, শাহজাহান খান, রুবেল বেপারী, নুরুল ইসলাম বেপারী এবং আবুল কালাম বেপারী নামে ৯টি পরিবার তাদের পৈত্রিক ভিটামাটি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছে। এদিকে ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ইতোমধ্যে ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলতে শুরু করেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পদ্মা নদীতে রয়েছে প্রচুর ঢেউ এবং স্রোত। স্রোত এবং ঢেউয়ের কারণে ঘর বাড়িসহ ফসলী জমি ভেঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নদীর পাশেই কয়েকটি শূণ্য ভিটা পড়ে রয়েছে। দু’একদিন আগেও এখানে বসতবাড়ি ছিল। নদী ভাঙ্গনের কবল থেকে রক্ষা পেতে ওই পরিবার গুলো বসতভিটা রেখে অন্যত্র চলে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পদ্মা নদীর তীরবর্তী জিরো পয়েন্টে অবস্থিত পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের উকিল উদ্দিন মুন্সী কান্দি গ্রামের শাহজাহান খানের বাড়ি থেকে শুরু করে সিরাজুল ইসলাম বেপারীর বাড়ি পর্যন্ত বিস্তির্ণ এলাকার কিছু কিছু অংশ প্রতি বছরই পদ্মা নদীর গর্ভে বিলীন হচ্ছে। এ বছর আবার নতুন করে ভাঙ্গন শুরু করেছে। গত ১২ বছরে নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে এই গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে।
পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ সিরাজুল ইসলাম বেপারী, নুরুল ইসলাম বেপারী এবং লাইলি বেগম বলেন, “বাপ-দাদার ভিটা মাটিতে থাকতাম। কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানে তা নদীতে চলে গেল। পদ্মানদী আমাদেরকে একেবারে নিঃস্ব করে দিয়েছে। এখন বাধ্য হয়ে অন্যের জমিতে ঘর তুলে থাকতে হচ্ছে”।
পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মঙ্গল মাদবর বলেন, “কয়েক দিন ধরে নদীতে প্রবল স্রোত বইছে। ভাঙ্গন আতঙ্কে এই গ্রামের ৯টি পরিবার অন্যত্র চলে গেছে”।
পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লাল চাঁন মাদবর বলেন, “আমি ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শণ করেছি। ভাঙ্গনে যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, সেই পরিবার গুলোর একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ত্রাণসহ সব ধরণের সহযোগিতা দেয়া হবে”।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুমন বণিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “জাজিরা জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে ৭৩ মিটার জায়গা ভাঙ্গন প্রবণ এলাকা। ভাঙ্গন রোধে ৪ হাজার ৩শ জিও ব্যাগ ফেলা হবে। শনি ও রোববার ৮শ জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। তবে আগের থেকে এখন ভাঙ্গনের মাত্রা কমে গেছে”।
এ ব্যাপারে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, “পদ্মা নদীতে ভাঙ্গন শুরু হলে রক্ষা করা কঠিন হয়ে যায়। ভাঙ্গন রোধে পাউবো কাজ করছে। নড়িয়া উপজেলায় ভাঙ্গন রোধ হয়েছে। জাজিরার পূর্ব নাওডোবা ভাঙ্গছে শুনলাম। আমি জেলা পাউবো কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলব, তারা যেন ভাঙ্গন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। যাতে করে আর একটি ঘরও যেন ভাঙ্গনের কবলে না পড়ে”।

Total View: 506

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter