শনিবার,  ১৬ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,  ২রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  সকাল ৮:১৭

শরীয়তপুরের প্রেসক্লাব ও প্রেস পলিটিক্স নিয়ে কিছু কথা-৩

নভেম্বর ২৮, ২০২০ , ১৪:৩১

কাজী নজরুল ইসলাম
শরীয়তপুরের সিনিয়র সাংবাদিক কাজী নজরুল ইসলাম কিছু দিন পূর্বে শরীয়তপুরের প্রেসক্লাব ও প্রেস পলিটিক্স নিয়ে কিছু কথা বলবেন বলে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। সেই স্ট্যাটাসের প্রেক্ষিতে অনেকেই ইতিবাচক মতামত দিয়েছিলেন। আপনাদের ইতিবাচক মতামতের প্রতি সম্মান রেখে কিছু সত্য এবং বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রদানের চেষ্টা করেছেন সাংবাদিক কাজী নজরুল ইসলাম।
আশা রাখছি এবারও আপনারা আপনাদের সুচিন্তিত মতামত জানাবেন। এক দিনেই বা এক পর্বে পুরোটা লেখা সম্ভব হচ্ছে না। তাই একাধিক পর্বের মাধ্যমে পুরোটা জানানোর চেষ্টা করছি। আজ তার তৃতীয় পর্ব প্রকাশ করা হচ্ছে।
২০০০ সালের ১২ মে শুক্রবার শরীয়তপুর জেলা প্রেস ক্লাবের ১৫ সদস্য বিশিষ্ট পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করি। তৎকালিন জেলা শহরের জোড়া ভবনের উল্টোদিকে আমেনা বোডিং’র কাছে একটি ঘর ভাড়া নেই। সেই ঘরটিকেই সাইনবোর্ড লাগিয়ে প্রেসক্লাবের অফিস হিসেবে ব্যবহার শুরু করি। আমাদের মানসম্মত চেয়ার টেবিল, আলমিরা, আসবাবপত্র নিজেদের টাকায় ক্রয় করে মনের মত করে প্রেসক্লাবের অফিস সাজাই। রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, প্রশাসনের বিশেষ কিছু লোকজন, গোয়েন্দা সংস্থা, শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী সহ নানা শ্রেণী পেশার লোকজন প্রতিদিনই আমাদের অফিসে এসে পত্রিকা পড়েন-আমাদের উৎসাহ প্রদান করতে থাকেন। তৎকালিন জাতীয় সংসদের হুইপ অধ্যাপিকা খালেদা খানম, শরীয়তপুর-১ আসনের সাংসদ মাষ্টার মজিবুর রহমান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি বাহাদুর বেপারী আমাদের প্রেসক্লাবে এসে অনেক উদ্দীপনামূলক কথা বলেছিলেন এবং তাদের ভালো লাগার কথা জানিয়েছিলেন। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ যেমন, তৎকালিন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল ফজল মাষ্টার নিয়মিত প্রেসক্লাবে বসে খবরের কাগজ পড়তেন। আমরা তখন সাংবাদিকতা করলেও রাজনীতির সাথে ছিলাম পুরোপুরিভাবে জরিত। আমি তখন জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক, হাকিম খান পৌরসভা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। ওদিকে অনল কুমার দে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আর মজিবুর মাদবর ছিলেন (সম্ভবত) জেলা বিএনপির কোষাধক্ষ।
তখন শরীয়তপুরে দায়িত্বশীল সাংবাদিকদের একমাত্র ঠিকানা হিসেবে খুব অল্প দিনেই গণমানুষের কাছে প্রতিষ্ঠা লাভ করে শরীয়তপুর জেলা প্রেস ক্লাব। জেলা আইন শৃংখলা কমিটিতে আমাদেরও সদস্যপদ প্রদান করা হয়। সরকারি সকল দপ্তরের প্রয়োজনীয় চিঠিপত্র আমাদের ঠিকানায় আসতে শুরু করে। জেলার যে কোন অঞ্চল থেকে সংবাদ সম্মেলনের জন্য মানুষ ছুটে আসতেন শরীয়তপুর জেলা প্রেসক্লাবে। সরকারি কোন অনুষ্ঠানে আমাদের আমন্ত্রন জানানো হলে সেখানে একত্রে ১০/১২ জন অংশগ্রহণ করতাম। সকল সাংবাদিকদের বসার ব্যবস্থা না থাকলে অথবা বসার ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত আমরা কেউ আসন গ্রহন করতামনা। আমরা খুবই শৃংখলা মেনে চলতাম। পক্ষান্তরে মুখ থুবরে পরা, অস্তিত্বহীন, ঠিকানা বিহীন “শরীয়তপুর প্রেসক্লাব” এর নেতারা বিশেষ করে অনল বাবু কোথাও গেলে নিজে একাই যেতেন। প্রোগ্রামে গিয়ে তিনি কোন সাংবাদিককে চিনতে চাইতেন না। মজিবুর মাদবর তখন সাংবাদিকতায় সম্পূর্ন নিষ্ক্রিয়। তার বিটিভি ততদিনে আমার দখলে। তাছারা তখন তার ধ্যান-জ্ঞান সবটাই এসডিএস কেন্দ্রিক। প্রায় দুই বছর শরীয়তপুর জেলা প্রেসক্লাব নিয়ে আমরা সফলতার সাথে পথ চলি। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর অনেক কিছু উলোট পালট হয়ে যায়। আমি ঢাকা চলে যাই। সেখানে প্রায় টানা ৫ বছর কাটাতে হয় আমাকে। মিডিয়া থেকেও দুরে সড়ে যাই।
২০০৬ সালে আবার শরীয়তপুরে স্থায়ীভাবে চলে আসি। ধীরে ধীরে সক্রিয় হই সাংবাদিকতায়। তখনও অনল দে – মজিবুর মাদবরের ঠিকানাবিহীন প্রেসক্লাব বহাল তবিয়তে। ১/১১এর পরে ২০০৭ সালে জেলায় কর্মরত কয়েকজন সাংবাদিকের চেষ্টায় তৎকালিন সেনা কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের মেয়াদোত্তীর্ণ, ঘুনে ধরা, অকার্যকর কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। গঠন করা হয় একটি আহবয়ক কমিটি। অনল কুমার দে আহবায়ক এবং আব্দুস সামাদ তালুকদারকে যুগ্ম-আহবায়ক করে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কথা থাকে ৩০ দিনের মধ্যে প্রেসক্লাবের পূর্নাঙ্গ কমিটি করা হবে। ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে শরীয়তপুর সার্কিট হাউজে তৎকালিন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশ্চিন্ত কুমার পোদ্দারের নেতৃত্বে বসা হয় প্রেসক্লাবের কমিটি গঠনের জন্য। কিন্তু কিছু অসৎ উদ্দেশ্য লালনকারী লোকের সাজানো নাটকের কারনে সে উদ্যোগটি ভেস্তে যায়। পিছিয়ে যায় শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন প্রক্রিয়া। টিকে যায় বিতর্কিত আহবায়ক কমিটি। ২০০৮ সালে এসে কোন এক সন্ধ্যায় প্রেসক্লাব বিষয়ে জরুরী সভা বসে সদর ইউএনও’র সম্মেলন কক্ষে। সেখানে নাতিদীর্ঘ আলোচনার পর ৭ সদস্যের কমিটিকে বর্ধিত করে ১১ সদস্য করা হয়। মজিবুর মাদবরের পছন্দের ৪ জনকে কো-আপ করা হয়। অবৈধের উপর ডাবল অবৈধের আবরণ লাগিয়ে নতুন পরিচয়ে চলতে শুরু করে শরীয়তপুর প্রেসক্লাব।
চলবে…….

Total View: 110

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter