শুক্রবার,  ৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,  ২৪শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,  রাত ১:৪৭

শরীয়তপুরের প্রেসক্লাব ও প্রেস পলিটিক্স নিয়ে কিছু কথা-৪

ডিসেম্বর ১, ২০২০ , ১৬:৩৮

কাজী নজরুল ইসলাম
শরীয়তপুরের সিনিয়র সাংবাদিক কাজী নজরুল ইসলাম কিছু দিন পূর্বে শরীয়তপুরের প্রেসক্লাব ও প্রেস পলিটিক্স নিয়ে কিছু কথা বলবেন বলে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। সেই স্ট্যাটাসের প্রেক্ষিতে অনেকেই ইতিবাচক মতামত দিয়েছিলেন। আপনাদের ইতিবাচক মতামতের প্রতি সম্মান রেখে কিছু সত্য এবং বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রদানের চেষ্টা করেছেন সাংবাদিক কাজী নজরুল ইসলাম।
আশা রাখছি এবারও আপনারা আপনাদের সুচিন্তিত মতামত জানাবেন। এক দিনেই বা এক পর্বে পুরোটা লেখা সম্ভব হচ্ছে না। তাই একাধিক পর্বের মাধ্যমে পুরোটা জানানোর চেষ্টা করছি। আজ চতুর্থ পর্ব প্রকাশ করা হচ্ছে।
এদিকে ২০০০ সালের পর থেকেই অনেক মেধাবী গণমাধ্যম কর্মী শরীয়তপুরে আত্মপ্রকাশ করতে শুরু করেন। দেশের প্রতিষ্ঠিত সকল প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় যুগোপযোগী প্রতিনিধিরা নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে তারা তাদের লেখনির মাধ্যমে শরীয়তপুরকে রিপ্রেসেন্ট করতে থাকেন নিজ নিজ মিডিয়ায়। দুর্বার উদ্যোমে এগিয়ে চলে শরীয়তপুরে সাংবাদিকতার তরণী। ২০০৮ সালে শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের মেয়াদোত্তীর্ণ আহবায়ক কমিটিকে বর্ধিত করে গণতান্ত্রিক ও গ্রহনযোগ্য পথ রোধ করা হয়। এরপরই শরীয়তপুরের প্রেস পলিটিক্সের কালো অধ্যায়ের কুশিলবগণ তাদের বদ অভিপ্রায়ের নির্লজ্জ স্টেজে অতিক্রম করতে থাকেন একের পর এক। তারা তৎসময়ের প্রায় অর্ধশত সংবাদ কর্মীর টুটি চেপে ধরে নিজেদের বুদ্ধি ও ক্ষমতার বিরাটত্বকে জাহির করায় ব্যস্ত হয়ে পরেন। থমকে যায় একটি সর্বজন স্বীকৃত প্রেসক্লাব গড়ার স্বপ্ন।
আমি তখন দৈনিক সংবাদে নতুন করে কাজ করা শুরু করি। ওই সময় শরীয়তপুরের উদ্যোমী তথ্য শ্রমিকরা প্রেসক্লাব গঠনের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। এমনি করে কেটে যায় আরো দুই বছর। সিনিয়র সাংবাদিক আবুল হোসেন সরদার, হাবিবুর রহমান হাবিব, জনকন্ঠ ও একুশে টিভির আবুল বাশার, কালেরকন্ঠ প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান জুয়েল, যুগান্তরের রায়হান কবীর সোহেল, প্রথম আলোর সত্যজিৎ ঘোষ, আমি (ততদিনে সমকাল ও বাসস’এ কাজ করা শুরু করি), ভোরের কাগজের শহিদুজ্জামান খান, এটিএন বাংলার রোকোনুজ্জামান পারভেজ, বিটিভির মফিজুর রহমান রিপন, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি ও যাযাদির সাজিদ হোসেন মনির, দেশ টিভির বি,এম ইশ্রাফিল, এনটিভির আব্দুল আজিজ শিশির (নুরুল আমিন রবীন তখন বিদেশে), চ্যানেল আই’র এস,এম মজিবুর সহ অন্যান্যরা যারা শরীয়তপুরের আলোচিত মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এদের সকলেই চেষ্টা করছিলেন গণতান্ত্রিক ও গঠনতান্ত্রিক উপায়ে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদীহিমূলক গতিশীল প্রেসক্লাব গঠনের জন্য। সকলের চাহিদা এবং প্রচেষ্টায় ২০১০ সালের অক্টোবর মাসের শেষ দিকে মেয়াদোত্তীর্ণ আহবায়ক কমিটির শীর্ষ দুই ব্যক্তির বরফ গলতে শুরু করে। অচিরেই প্রেস ক্লাবের কমিটি গঠন করা হবে মর্মে তারা সকলের সাথে সম্মত হন।
আমরা তখন বার বার চাপ দিচ্ছিলাম প্রেসক্লাবের একটি সাধারণ সভা আহবানের জন্য। কিন্তু সম্মিলিতভাবে একটি সভাও করতে পারিনি। আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, অনল কুমার দে এবং সামাদ মাস্টার তাদের বিশ্বস্ত দু’একজনকে সাথে নিয়ে অতি সন্তর্পণে একেক সময় একেকটা খসড়া কমিটি প্রনয়ন করছেন। এভাবে ২০১০ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে হঠাৎ একদিন আমাদের নিজ কার্যালয়ে (চৌরঙ্গীস্থ সাগরিকা ক্লিনিকের দোতালায়) দেখি অনল বাবু, সামাদ মাস্টার এবং হুংকার পত্রিকার হারুন অর রশীদ মিলে কিছু কাগজ নিয়ে গোপন আলাপ করছেন। আমি বিষয়টি অবহিত হতে চাইলে তারা বাধ সাধেন। আমি তো নাছোর বান্দা। এক পর্যায়ে দেখি প্রেসক্লাবের খসড়া কপি। নামের তালিকা দেখে মাথায় আগুন উঠে যায়। তখন আমার সার্বক্ষণিক ও বিশ্বস্ত সহচর সত্যজিৎ ঘোষ। ওকে আমি বিষয়টি জানানোর পর তাদের সেই গোপন উদ্যোগ সাময়িক সময়ের জন্য থেমে থাকে।
আমি তখন সাংবাদিকতার পাশাপাশি এসডিএস এর একটি প্রকল্পে দায়িত্বশীল পদে কর্মরত। ২০১০ সালের ১০ নভেম্বর সকাল দশটার দিকে আমি এসডিএস’এ অফিসিয়াল কাজ করছিলাম। এমন সময় সামাদ স্যার আমাকে ফোন করে সাগরিকা ক্লিনিক ভবনের তিন তলায় যেতে বলেন। অনল দা ও একই কথা বলনেন। আমার হাতে জরুরী কাজ থাকায় উঠতে পারছি না। সাড়ে দশটার দিকে সত্যজিৎ আমাকে বুড়িরহাট থেকে মুঠোফোনে ফোন করে অনুরোধ করলো, আমি যেন জরুরী ভিত্তিতে সাগরিকা ভবনে যাই। ইত্যবসরে এস,এম মজিবর এসডিএস অফিসে বাইক নিয়ে হাজির আমাকে নিতে। তার সাথে সাগরিকা ভবনের তিন তলায় যাই। যেয়ে দেখি অনল কুমার দে’র সামনে কতগুলো কাগজে তিনি স্বাক্ষর করতে উদ্যত। অনলদা আমাকে কাগজগুলো দেখিয়ে বললেন, “আমরা প্রেসক্লাবের ২১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্নাঙ্গ কমিটি করেছি। সেখানে তোমাকে সিনিয়র সভাপতি রাখা হয়েছে। সামাদ ভাইকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এখন কমিটি স্বাক্ষর করে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে পাঠিয়ে দিব”। আমি অনল বাবুকে সবিনয়ে অনুরোধ করে বললাম, অনিয়মতান্ত্রিক কমিটি আমি মানব না। এখানে আমাকে রাখলেও আমি থাকবো না। অনল বাবুকে আমি আরো বললাম, দাদা আপনি একটি বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দলের জ্যেষ্ঠ নেতা। অগণতান্ত্রিক পন্থায় আপনি এ কমিটিতে স্বাক্ষর করতে পারেন না। শরীয়তপুর সাংবাদিক বন্ধুরা আপনাদের এই কমিটি মেনে নিবেন না। তারা আমার অনুরোধ রাখেননি। সামাদ স্যারকে নিয়ে অনলদা কমিটির অর্ধ শতাধিক কপি স্বাক্ষর করে দিলেন। এস,এম মজিবর এবং প্রয়াত দুলাল ঠাকুর বাইক নিয়ে বেড়িয়ে গেলেন বিভিন্ন দপ্তরে কমিটি বিতরণ করতে। শুরু হলো শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের নতুন কলংকিত অধ্যায়। এরপর আমরা কয়েকজন মিলে প্রতিনিয়ত অনল কুমার দে এবং আব্দুস সামাদ তালুকদারকে উপর্যপরী চাপ দিতে থাকি একটি সাধারণ সভা ডেকে, সেখানে সকলের উপস্থিতিতে এই কমিটি অনুমোদন করাতে। কে শুনে কার কথা। এভাবে টানা দুই মাস তাদের অনুরোধের পরেও তারা ন্যূনতম আন্তরিক হননি……..।
চলবে —-

Total View: 191

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter