শুক্রবার,  ৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,  ২৪শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,  রাত ১২:৪৮

শরীয়তপুরের প্রেসক্লাব ও প্রেস পলিটিক্স নিয়ে কিছু কথা-৫

ডিসেম্বর ৬, ২০২০ , ১৬:৩০

কাজী নজরুল ইসলাম
শরীয়তপুরের সিনিয়র সাংবাদিক কাজী নজরুল ইসলাম কিছু দিন পূর্বে শরীয়তপুরের প্রেসক্লাব ও প্রেস পলিটিক্স নিয়ে কিছু কথা বলবেন বলে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। সেই স্ট্যাটাসের প্রেক্ষিতে অনেকেই ইতিবাচক মতামত দিয়েছিলেন। আপনাদের ইতিবাচক মতামতের প্রতি সম্মান রেখে কিছু সত্য এবং বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রদানের চেষ্টা করেছেন সাংবাদিক কাজী নজরুল ইসলাম।
আশা রাখছি এবারও আপনারা আপনাদের সুচিন্তিত মতামত জানাবেন। এক দিনেই বা এক পর্বে পুরোটা লেখা সম্ভব হচ্ছে না। তাই একাধিক পর্বের মাধ্যমে পুরোটা জানানোর চেষ্টা করছি। আজ পঞ্চম পর্ব প্রকাশ করা হচ্ছে।
২০১০ সালের ১১ অক্টোবর সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিক, অগণতান্ত্রিক উপায়ে এবং গঠনতন্ত্র বিহীন গঠন করা হলো শরীয়তপুর প্রেস ক্লাবের কলংকিত কমিটি। যা এখনো স্বৈরতান্ত্রিক উপায়ে বলবত রয়েছে। জেলায় কর্মরত অধিকাংশ সাংবাদিকদের অন্ধকারে রেখে এ ধরণের একটি কমিটি গঠন প্রক্রিয়ার খবর যখন জানতে পারি তখন থেকেই এর চরম বিরুদ্ধে ছিলাম আমি এবং প্রথম আলোর সত্যজিৎ ঘোষ। কমিটি গঠন করা হলেও এর অনুলিপি আমাকে দেয়া হয়নি। বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে যতটুকু দেখতে বা জানতে পেরেছিলাম সে অনুযায়ী অবিকল না হলেও ২১ সদস্যের কমিটি প্রায় নিন্মরূপ ছিল। এর মধ্য যতটা মনে পরছে তা তুলে ধরছি-
১. সভাপতি – অনল কুমার দে
২. সিনিয়র সহ-সভাপতি – কাজী নজরুল ইসলাম
৩. সহ-সভাপতি – আলহাজ হাবিবুর রহমান
৪. সহ-সভাপতি – আবুল হোসেন সরদার
৫. সহ-সভাপতি – খলিলুর রহমান শেখ
৬. সাধারণ সম্পাদক – আব্দুস সামাদ তালুকদার
৭. যুগ্ম-সাধারণ – সম্পাদক কে,এম রায়হান কবীর
৮. যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক – মনির হোসেন সাজিদ
৯. সাংগঠনিক সম্পাদক- রোকোনুজ্জামান পারভেজ
১০. প্রচার সম্পাদক – এম হারুন অর রশীদ
১১. দপ্তর সম্পাদক – শহিদুজ্জামান খান
১২. অর্থ সম্পাদক অরুন কুমার বর্ধন
১৩. ক্রীড়া সম্পাদক – মাহবুবুর রহমান
১৪. গবেষনা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক – সাইফুল্লাহ কাওশার
১৫. সমাজ কল্যান সম্পাদক – এবিএম মামুন
১৬. সদস্য – কাজী মাহবুবুর রহমান
১৭. সদস্য – সত্যজিৎ ঘোষ
১৮. সদস্য – আসাদুজ্জামান জুয়েল
১৯. সদস্য – মফিজুর রহমান রিপন
২০. সদস্য – এস এম মজিবুর রহমান
২১ নং ব্যক্তির নাম মনে করতে পারছি না।
এই কমিটি নীতিগত ভাবে আমরা অনেকেই মেনে নিতে পারিনি। কারণ প্রেসক্লাবের কোন গঠনতন্ত্রই নেই। কমিটি গঠনের সময় হাবিব ভাই হজ্বের কারণে সৌদিআরব ছিলেন। সেখানে থেকেই এ বিষয়ে জানার পর কমিটি সম্পর্কে তিনি উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। আমার এবং সত্যজিতের সাথে তখনো সামাদ মাস্টারের একটা সুসম্পর্ক ছিল। অনল বাবুকেও অনেকেই মান্য করতেন। আমরা তাদের প্রতিদিন তাগিদ দিতাম অন্তত একটা জেনারেল সভা ডাকার জন্য। কিন্তু তারা কর্ণপাত করতেন না। ইতিমধ্যে আবুল সাংবাদিক রায়হান কবির এবং আসাদুজ্জামান জুয়েল এই কমিটির কথা জানার পর তাৎক্ষণিক রিয়েক্ট করেন। তারা এই কমিটি মানেন না মর্মে নিজেরা পদত্যাগ করার পর কমিটির বিরুদ্ধে লিখিত অনাস্থা দিয়েছিলেন। হাবিব ভাই হজ্ব থেকে ফিরে বিভিন্ন সোর্স থেকে কমিটি গঠন সম্পর্কে সব কিছু জেনে এই কমিটি থেকে অব্যহতি নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। আমরা কয়েকজন তো আগে থেকেই কমিটির প্রতি ভ্যাটো জানিয়ে আসছিলাম। এরই মধ্যে সামাদ মাস্টার ও অনল বাবু কোন এক গর্হিত অপরাধকে সাপোর্ট করে প্রেসক্লাবের প্যাড ব্যবহার করে কয়েকটি স্থানে চিঠি প্রেরণ করার খবর আমাদের কাছে চলে আসে। আমরা বিষয়গুলো জেনে মর্মাহত হই। এরপর সকলে মিলে আলোচনা করি। সবাই প্রবল রাগে ফেটে পরেন। প্রত্যেকেই একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হই এবং আমাদের উপলদ্ধিতে একটি কমন বিষয় জাগ্রত হয় যে, পবিত্র সংগঠন প্রেসক্লাব এই নেতৃত্বের কাছে নিরাপদ নয়। তারা প্রেসক্লাবকে নিজেদের ব্যক্তিগত প্রয়োজন এবং ধিকৃত অপরাধীদের ভরসাস্থলে পরিণত করছেন।
আমরা কয়েকজন মিলে বটতলায় দৈনিক হুংকার পত্রিকার অফিসে বসে কয়েক দফা শলাপরামর্শ করলাম। এই মুহুর্তে আমাদের কি করা উচিৎ মর্মে বার বার ভাবতে থাকি। এরই মধ্যে কমিটির বয়স দুই মাস পূর্ণ হয়ে যায়। অনল বাবু ও সামাদ মাস্টার কিছুতেই সোজা পথে হাটলেন না। কমিটির বয়স যখন ৬০ দিন পূর্ণ হলো ঠিক সেদিনই ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসের ১১ তারিখে সন্ধ্যার পরে আমরা ১০/১২ জন আবার হুংকার অফিসে বসলাম। কঠিন শীত ও কুয়াশা ভেদ করে যারা আসতে পারলেন না তাদের সাথে টেলি কন্ফারেন্সে কথা হলো। ম্যারাথন সভা করলাম। সকলের সিদ্ধান্ত একটাই – আমরা এই অবৈধ নেতৃত্বের সাথে আর থাকব না। প্রেসক্লাবের এই তথাকথিত কমিটি থেকে পদত্যাগ করবো। প্রেসক্লাব ভেঙ্গে দিব। যেমন সিদ্ধান্ত তেমনি কাজ হলো। রাত দশটা পেরুলো। রেজুলেশন করলাম। ২১ সদস্যের কমিটি থেকে আমরা ১১ জন অব্যাহতি নিলাম। আবুল সাংবাদিকরা তিন জন আগেই অব্যাহতি নিয়েছেন। মোট ১৪ জন সড়ে গেলাম। স্বাভাবিক ভাবেই প্রেসক্লাবের কমিটি বিলুপ্ত হয়ে যাবার কথা। পরের দিন ১২ ডিসেম্বর সকল সরকারি দপ্তরে আমাদের পদত্যাগের স্বাক্ষরিত কপি পৌছে দিলাম। অনল বাবু এবং সামাদ মাস্টার তাদের কয়েকজন অনুসারী নিয়ে অফিসগুলো থেকে পদত্যাগের কপি তুলে আনার চেষ্টা করলেন। অনল বাবু মানসিক ভাবে অনেকটা হতাশ হয়েছেন বুঝতে পারলাম। তিনি আমাদের কাছ থেকে কিছু সময় চাইলেন। বিজয় দিবসের পরে একটি সভা ডাকার কথা বললেন। আমাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ কিছুটা নরম হলেন। সম্ভবত ১৭/১৮ ডিসেম্বর সাগরিকা ক্লিনিকের দোতালায় মিটিং বসলো। জেলায় কর্মরত প্রায় সকল সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত হলেন।
সভা শুরুতেই সিনিয়র সাংবাদিকবৃন্দ তাদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করলেন। অনল বাবু এক পর্যায়ে সকলকে জোর হাত অনুরোধ করে বললেন ” আমি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, আমার একটা সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান রয়েছে, আপনারা আমাকে সামাজিক ভাবে হেনস্তা করবেন না, আমি আপনাদের কাছে কয়েকটা দিন সময় চাই, সব কিছু আমরা ঠিক করে ফেলব” ইত্যাদি। অনল বাবুর এই কাতর এ্যাপোলজিতে অনেকেই বিগলিত হলেন। সিদ্ধান্ত হলো দশ দিনের মধ্যে প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্রে প্রণয়ন করা হবে। এরপর ভোটার তালিকা চুড়ান্ত করে নির্বাচন অথবা সিলেকশন এর মাধ্যমে সর্ব সম্মতি ক্রমে নতুন কমিটি গঠন করা হবে। গঠনতন্ত্র প্রণয়নের জন্য আসাদুজ্জামান জুয়েল এবং শহিদুজ্জামান খানকে মূল দায়িত্ব দেয়া হলো। কথা থাকলো ঠিক দশ দিবস পরে পূণরায় সভা অনুষ্ঠিত হবে। দশ বছর আগের সেই দশ দিন আজো আসেনি। দিনের স্থলে আজ পাক্কা দশ বছর অতিবাহিত হলো, কিন্তু লাজ লজ্জাহীন অবৈধ নেতৃত্ব অদ্যাবধি একটা সভাও ডাকেননি। সাংবাদিকদের কল্যাণে একটি বাক্যও কোথাও ব্যয় করেননি। প্রেসক্লাবের সুবিশাল ভূমি থাকতেও সেখানে দৃশ্যমান কোন স্থাপনা নির্মাণে উদ্যোগী হননি। মৃত্যুবরণ করা এবং বিপদে পরা সাংবাদিকদের পাশে একটা শান্তনামূলক কথা নিয়েও এগিয়ে আসেননি। অথচ, দুনিয়ার সকল নিয়ম ভঙ্গ করে, বাপ দাদার সম্পত্তি মনে করে তারা আজো আছেন বহাল তবিয়তে……..।
(পাঠক বন্ধুদের বিশ্বাস স্থাপন এবং সত্যতা যাচাইয়ের লক্ষে ১১ সাংবাদিকের অব্যাহতি পত্রটি সংযুক্ত করলাম)।
চলবে —-

Total View: 177

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter