মঙ্গলবার,  ১১ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,  ২৮শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,  সকাল ৭:৪৬

শরীয়তপুরের প্রেসক্লাব ও প্রেস পলিটিক্স নিয়ে কিছু কথা-৬

ডিসেম্বর ৮, ২০২০ , ০৮:৪৬

কাজী নজরুল ইসলাম
শরীয়তপুরের সিনিয়র সাংবাদিক কাজী নজরুল ইসলাম কিছু দিন পূর্বে শরীয়তপুরের প্রেসক্লাব ও প্রেস পলিটিক্স নিয়ে কিছু কথা বলবেন বলে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। সেই স্ট্যাটাসের প্রেক্ষিতে অনেকেই ইতিবাচক মতামত দিয়েছিলেন। আপনাদের ইতিবাচক মতামতের প্রতি সম্মান রেখে কিছু সত্য এবং বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রদানের চেষ্টা করেছেন সাংবাদিক কাজী নজরুল ইসলাম।
আশা রাখছি এবারও আপনারা আপনাদের সুচিন্তিত মতামত জানাবেন। এক দিনেই বা এক পর্বে পুরোটা লেখা সম্ভব হচ্ছে না। তাই একাধিক পর্বের মাধ্যমে পুরোটা জানানোর চেষ্টা করছি। আজ ৬ষ্ঠ পর্ব প্রকাশ করা হচ্ছে।
২০০০ সালে গঠনকৃত সেই প্রেসক্লাবের উপর ছিল এক ধরণের ভূতের আছর। আবার ২০১১ সালে গঠনকৃত অস্তিত্বহীন কলংকিত প্রেসক্লাব নিয়েও চলছে নানা রঙ্গের বায়েস্কোপ। কারণ, যে কয়জন সাংবাদিকই শরীয়তপুরে কর্মরত আছেন তাদের মধ্য একতা ছিল না কোন কালেই। একেকজন একেকভাবে চলতে, একেকটা মোর্চা গঠন করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে আসছেন শুরু থেকেই। তবে এ বিষয়টি স্পষ্টভাবেই বলা যায় প্রথিতযশা সাংবাদিকদের বিরাট একটি অংশ বরাবরই একটি গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক প্রেসক্লাবকে ভয় পেয়ে এসেছেন। তারা কখনই চাননি পবিত্র এবং শক্তিশালী এ প্রতিষ্ঠানটি মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়ে থাক। তারা কোন দিনই প্রত্যাশা করেননি যে, একটি জেলা শহরের অন্যতম স্তম্ভ, এলাকার নিপীড়িত মানুষের আস্থা-ভরসার ঠিকানা, সমাজের সমুজ্জ্বল দর্পণ “প্রেসক্লাব” কখনো আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হোক। তারা প্রেসক্লাবে অথর্ব নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে, তা আবার নিজেদের বগল চাপায় রেখে চাঁন্দাবাজি, ধান্দাবাজি করে আপন আখের গোছাতে ব্যস্ত থেকেছেন। মোটা দাগে কথা হলো – স্বৈরতান্ত্রিক ও নীতিহীন নেতৃত্ব টিকিয়ে রেখে কিছু চতুর ধান্ধাবাজ লোকেরা ভূঁইফোর সংগঠন তৈরী করে প্রেসক্লাবের প্রতিবন্ধি নেতৃত্ব নিয়ে ডুগডুগি বাজিয়ে চলেছেন। একই পন্থায় আবার এই ভূঁইফোর সংগঠনের নেতারা তথাকথিত ঠিকানাবিহীন প্রেসক্লাবের বিতর্কিত নেতাদের বলির পাঠা সাজিয়ে বিভিন্ন সেক্টরে রমরমা দালালী ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। মূলত তারা সাংবাদিকদের কল্যাণে দুই পয়সারও উপকারে আসছেন না। গত দশ বছরে শরীয়তপুরে অনেক কর্মবীর সাংবাদিক বন্ধুরা সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে, সাহসী ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচার, প্রকাশ ও সম্প্রচার করার অপরাধে হামলা, মামলা, শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু প্রেসক্লাব নামের ওই ভূতুরে সংগঠন ও ভূয়া নেতৃত্ব কখনই বিপদাপন্ন সংবাদ কর্মীদের পাশে দাঁড়ায়নি। ২০১৭ সালে ৭১ টিভির জেলা প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে অকালে মৃত্যুবরণ করেন। আনোয়ারের লাশ নিয়ে উপহাস করেছে এই প্রেসক্লাব। কিন্তু একবারের জন্যও ওর এতিম সন্তানটির খোঁজ নিতে যায়নি কেউ। বরং আমি এবং আব্দুল আজিজ শিশির একবার ঈদে ওর মেয়েটার হাতে দশ হাজার টাকা পৌছে দিয়েছিলাম।
শরীয়তপুরের সাংবাদিকদের জন্য মাঙ্গলিক চিন্তা ও কল্যাণকর কিছু ভেবে ৮০’র দশকের গোড়ার দিকে মজিবুর রহমান মাদবরই প্রেসক্লাব গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনিই মূলতঃ শরীয়তপুর প্রেসক্লাব গঠনের স্বপ্নদ্রষ্টা। তার বিচক্ষণ ও সূদুরপ্রসারী ভাবনা থেকেই শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের গোড়াপত্তন হয়। মজিবুর ভাই এবং আবুল হোসেন সরদারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ৯০ দশকের শেষ ভাগে তৎকালিন জেলা প্রশাসক সুভাস চন্দ্র রায়ের সহায়তায় জেলা শহরের তুলাসার মৌজায় শিল্পকলা একাডেমির পশ্চিম পাশে প্রেসক্লাবের নামে সরকার একখন্ড (১৪ শতাংশ) জমি বরাদ্দ (এক সনা লীজ) দিয়েছিলেন। তখন মজিবুর ভাই এসডিএস’র অর্থায়নে একটি ছোট্ট দোচালা টিনের ঘর নির্মাণ করে জমিটি দখলে নিয়েছিলেন। বর্তমান বাজারে অন্তত দুই কোটি টাকা ওই জমির বাজার মূল্য।
কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো যে, বিতর্কিত নেতৃত্ব প্রেসক্লাবের জমিতে তাদের নিজস্ব চেষ্টায় একটি পাটখড়িও স্থাপন করতে পারেননি। প্রেসক্লাবের জমিটি বেহাত হওয়ার উপক্রম হওয়ায় ২০০৯ সালের পর আমি এবং সত্যজিৎ সহ কয়েক জনের প্রচেষ্টায় দুই দফায় শরীয়তপুর জেলা পরিষদের অর্থায়নে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। প্রেসক্লাবের জমিটি এখন সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণভাবে রয়েছে। যে কোন সময় সরকার লীজ বাতিল করে দিতে পারে। কারণ অন্তত ১৫ বছর যাবৎ জমির লীজমানি পরিশোধ করে নবায়ন করা হয় না। বছর তিনেক আগে শরীয়তপুর-৩ আসনের সাংসদ নাহিম রাজ্জাক দুই লক্ষ টাকা এবং এক আসনের সাংসদ মোজাম্মেল হক সাহেব কিছু টি,আর/কাবিখা বরাদ্দ দিয়েছিলেন। শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র আমার বন্ধু রফিকুল ইসলাম কোতয়ালও কিছু টি,আর দিয়েছিলেন। সেই টাকায় কয়েকজন তরুণ বন্ধু মিলে মাঠে বালু ভরাট, একচালা ছাপরা ঘর নির্মাণ ও একটি লৌহ ফটক নির্মাণ করেছিলেন। আর এতটুকু কাজের জন্য পুতুল কমিটির কর্ণধারদের এক বিন্দু অবদানও ছিল না।
আমি বহু আগে থেকেই স্বপ্ন দেখে আসছিলাম কি করে প্রেসক্লাবের জমিতে যুগোপযোগী একটা ভবন নির্মাণ করা যায়। কি করে শতাধিক সাংবাদিকের একটি নির্ভরযোগ্য ঠিকানা প্রতিষ্ঠিত করা যায়। আমাদের তৎকালিন সংসদ সদস্যর কাছে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাস থেকে কয়েক বছর ধরে শতাধিকবার মৌখিক আবেদন করে এসেছি। কোন কাজ হয়নি। কারণ, আমি তো প্রেসক্লাবের কেউ নই। আমারতো কোন পদ পদবী নেই। সুতরাং কোন ফল হয়নি। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর শরীয়তপুর পৌরসভার সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আমার প্রিয় বন্ধু রফিকুল ইসলাম কোতয়াল মেয়র নির্বাচিত হন। নির্বাচনের তিন দিন পর। তখনো শপথ গ্রহণ হয়নি। ১৬ সালের ২ জানুয়ারী রাত ১১টায় আমাকে নবনির্বাচিত মেয়র রফিক ফোন করলেন। জানালেন পরের দিন ৩ জানুয়ারী একজন সিনিয়র সচিব আসবেন। পৌরসভার কিছু এলাকা ভিজিট করবেন। আমাকে সেখানে উপস্থিত থাকতে অনুরোধ করলেন। কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকালে হাজির হলাম বন্ধুর আহবানে। যেয়ে দেখি ডামুড্যার সন্তান পরিকল্পনা কমিশনের সিনিয়র সচিব গোলাম ফারুখ স্যার এসেছেন। ধানুকার কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন শেষে সকাল দশটার দিকে সার্কিট হাউজে ফিরে আসলেন সবাই। আমার জানা ছিল ফারুখ সাহেব একনেকের প্রভাবশালী লোক। তার মাধ্যমে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প ও অবকাঠামো নির্মাণ করা সম্ভব। সেদিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রকৌশলী তৈয়বুর রহমান। আমি তার সাথে সামান্য শলাপরামর্শ করলাম। প্রেসক্লাবের জন্য একটা ভবন নির্মাণের জন্য ফারুখ স্যার কোন সহায়তা করতে পারবেন কিনা ? তৈয়ব ভাই আমাকে অনেকগুলো পজিটিভ আইডিয়া দিলেন।
আমি সাহস করে গোলাম ফারুখ (বর্তমানে পিএসসি’র সদস্য) স্যারের কাছে সব খুলে বললাম। তৈয়ব ভাই বললেন, “স্যার খুলনা প্রেসক্লাব ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছে। আপনি সহায়তা করলে শরীয়তপুর প্রেসক্লাবও জেলা পরিষদ নির্মাণ করে দিতে পারবে”। ফারুখ সাহেব আমাকে আশ্বস্থ করলেন। জেলা পরিষদের প্রশাসক বরাবরে একটি আবেদন করে তা প্রেরণ করতে বললেন। আমি একজন ক্ষুদ্র সাংবাদিক পরিচয়ে দরখাস্ত করলাম। জেলা পরিষদ প্রশাসক মাস্টার মজিবুর রহমান স্যারের সহায়তা নিয়ে ফারুখ স্যারের কাছে আবেদন পৌছে দিলাম। চার দিন পর ফারুখ স্যার আমাকে ফোন করে বললেন, যে কোন একজন সংসদ সদস্যের কাছ থেকে একটি ডি.ও পত্র লিখে নিতে হবে। আমি দুই মাসেরও অধিক সময় ঘুরে আমাদের ১ আসনের সংসদ সদস্য মহোদয়ের কাছ থেকে একটি ডিও লেটার আনতে সামর্থ্য হই। সে অনুযায়ী কাজ এগুতে থাকে। জেলা পরিষদ প্রেসক্লাবের মাটি পরীক্ষা/সয়েল টেষ্ট করালেন। জমি পরিমাপ করলেন। একটি ডিজাইন, প্ল্যান ও প্রাক্কলন প্রস্তুত করলেন। একজন স্থপতি দিয়ে ৫ তলা ভবনের নকসা প্রস্তুত করালেন। বেশ কিছু টাকা ব্যয় হলো। সাধ্যমত আমিও কিছু টাকা খরচ করলাম। অর্থ বরাদ্দের দিকে এগিয়ে চললো প্রেসক্লাবের ৫ তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্প। হৃদয় জুরে আনন্দের ঢেউ আর দু’চোখে স্বপ্ন নিয়ে দিন গুনছিলাম। হঠাৎ কোন কালো পিছাশের নগ্ন থাবা থামিয়ে দিল সব। গোল্লায় যাক প্রেসক্লাব। কিন্তু কাজী নজরুলকে কোন ক্রেডিট নিতে দেয়া হবে না।
কেটে গেল আরো ৫ বছর। দানবের দাসত্ব করে আমরা অন্ধকারেই রয়ে গেলাম……. ।
চলবে—-

Total View: 146

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter