বৃহস্পতিবার,  ২২শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,  ৯ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,  রাত ১০:৫৪

শরীয়তপুরের প্রেসক্লাব ও প্রেস পলিটিক্স নিয়ে কিছু কথা-শেষ পর্ব

ডিসেম্বর ১১, ২০২০ , ২০:২৭

কাজী নজরুল ইসলাম
শরীয়তপুর প্রেসক্লাব এবং প্রেস পলিটিক্স নিয়ে ইতিপূর্বে ছয়টি পর্ব প্রকাশ করেছি। আজ লিখছি শেষ পর্ব। যারা আমার প্রতিটি পর্ব পাঠ করেছেন তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আশা করি ভবিষ্যতে একটি জবাবদিহিমূলক গতিশীল প্রেসক্লাব গঠনে আপনারা আমাদের পাশে থেকে উৎসাহ, সাহস এবং পরামর্শ দিবেন।
শরীয়তপুর প্রেসক্লাব ও প্রেস পলিটিক্স নিয়ে লেখাটি শুরু করেছিলাম মূলত সাংবাদিক বন্ধুদের জন্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে তা পৌছে গেছে সবার কাছে। অনেকে পড়েছেন আবার অনেকে হয়তো এড়িয়ে গেছেন। আমার লেখায় খুব কম সংখ্যক সাংবাদিকই খুশি হয়েছেন বলে মনে হয়েছে। তবুও বিবেকের কঠিন তাড়নায় না লিখে পারিনি। সত্য প্রকাশে সামান্যতম কিছু তথ্য উপস্থাপন করেছি মাত্র। সবটা লিখলে সাধারণ পাঠকবৃন্দ বুঝতে পারতেন, আসলে এই প্রেসক্লাব নামের শশ্মান ঘাটে কতগুলো শয়তানের তেলেসমাতি কাজ করে। আপনারা জানতে পারতেন প্রেসক্লাবের কতিপয় আন্ডার মেট্রিক গন্ডমূর্খ নেতা পরিচয়ে কতটা নির্লজ্জতা নিয়ে সমাজে ফৈ ফৈ উল্লাসে বিচরণ করে। আমাদের দেশে একটি অতি প্রাচীন প্রবাদ প্রচলিত আছে, তা হলো, “মন্দ লোকের নোংড়ামীতে সমাজ নষ্ট হয় না, বরং ভদ্র মানুষের নীরবতায় সমাজ ধ্বংস হয়”। শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের বিষয়টিও ঠিক তদ্রুপ। সাংবাদিকদের মধ্যে আমাদের কিছু ভালো পারফর্মার বন্ধু আছেন। তাদের ধারণা, আমরা বাছাই করা পাঠকপ্রিয়, দর্শকপ্রিয় নিউজ করি। রাজনৈতিক নেতারা আমাদের সমীহ করেন। প্রশাসনের বড় কর্তারা সুনজরে রাখেন। সমাজের মেগা টাইপের অপরাধীরাও ভিন্ন কিছু ভাবেন। তো, এই চুলের প্রেসক্লাব আমাদের কী এমন কাজে লাগে? মূলত এমন ধারণা পোষণ এবং কর্তব্য এড়িয়ে যাবার কারণেই জেলার একটি শক্তিশালী ইউনিটকে কয়েকটা গাদ্দার মিলে নিজেদের খেলার পুতুলে পরিণত করেছে।
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুরা, আপনাদের কাছে জোরহাত মিনতি করি। আমি অনেক দিন থেকেই বেশীরভাগ সময়ে অসুস্থ্য থাকি। যে কোন সময় আমার প্রাণবায়ুটুকু নিঃশেষ হয়ে যেতে পারে। আমি কোন পদ পদবীর জন্য বলছি না। কারো নেতৃত্ব ছিনিয়ে নিতে এই ক্রন্দন করছি না। প্রেসক্লাবটাকে পূঁজি করে নিজে দামী পোশাক ব্যবহার বা সন্তানদের মুখে আহার তুলে দিতেও এতটা আহাজারি করছি না। যেহেতু দুই যুগেরও অধিক সময় এই পেশাটার সাথে জড়িত রয়েছি, তাই আমি চাই অথর্ব নেতৃত্ব বাদ দিয়ে যে কোন একটি যোগ্য নেতৃত্বের গতিশীল প্রেসক্লাব। সেখানে কর্মঠ দায়িত্বশীল যাকে আপনারা মনোনীত করবেন আমিও আপনাদের মতামতকে সম্মান দিয়ে পাশে থাকবো ইনশাআল্লাহ। আমার উপলদ্ধিতে একটা বিষয় খুব নাড়া দেয়, তা হলো, যে কোন জেলায় একটি প্রেসক্লাব অনেক সম্মানীত প্রতিষ্ঠান। এটাকে পরিচালিত করতে খুব শক্তিশালী বা প্রভাবশালী লোকের দরকার হয় না। প্রয়োজন শুধু নীতি ও আদর্শবান কয়েকজন সাহসী ও প্রকৃত সাংবাদিক। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, একটি সচল ও গতিশীল প্রেসক্লাবের কাছে রাষ্ট্রযন্ত্রের অনেকগুলো অনুসঙ্গ ভীতিকর অবস্থায় থাকে। যে সকল জেলায় প্রেসক্লাব শক্তিশালী নেই, সেখানে প্রশাসন লাগামহীন দুর্নীতির সুযোগ খুঁজে। মনে রাখবেন, আপনার এলাকায় কোন বুদ্ধিজীবী, সুশীল, সৃজনশীল ব্যক্তির আগমন হলে তিনি কিন্তু ডিসি সাহেব, এসপি সাহেব বা জজ সাহেব কেমন চেম্বারে বসে অফিস করেন তা খুঁজবেন না। তিনি বা তারা এসে প্রথমেই জেলার প্রেসক্লাবটি কোথায় আছে তার খোঁজ নেবেন। সেখানে বসে বিদগ্ধ কলম সৈনিকদের সাথে একটু আড্ডায় বসে এক কাপ চা পান করবেন। অথবা স্থানীয় কোন দৈনিকের সম্পাদককে খুঁজবেন। ভেবে দেখুন তো, শরীয়তপুরে সেই সুযোগটি আছে কি না?
কোন জেলায় একটি জবাবদিহিমূলক প্রেসক্লাব থাকলে সেখানে সাংবাদিকতার নামে দালালী, ভিক্ষাবৃত্তি, চাঁদাবাজি এগুলো কম থাকে। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের কনিষ্টতমরা সম্মান করে। পেশাগত দায়িত্ব পালনে সকলের মধ্যে একটা সুস্থ্য প্রতিযোগিতা চলে আসে। কিন্তু শরীয়তপুরে কি সে ধারাটি চলমান রয়েছে? আমরা হাতেগোনা কয়েকজন সাংবাদিক দীর্ঘ দিন থেকেই চেষ্টা চালিয়ে আসছি শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের গতি ফিরিয়ে আনতে। ধান্ধাবাজ কিছু শয়তানের কব্জা থেকে এই সংগঠনটি পবিত্রতায় স্টাবলিষ্ট করতে। কিন্তু দালালদের ভীড়ে বরাবরই আমরা বিফল মনোরথে ফিরে এসেছি।
প্রেসক্লাবের বর্তমান বিতর্কিত নেতৃত্বের সভাপতি বাবু অনল কুমার দে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক টানা ১৭ বছর থেকে। তিনি রাজনীতির মাঠে প্রবল যোগ্যতা সম্পন্ন এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা। তার সমকক্ষ এই দলটিতে আরেকজন লোক খুঁজে পাওয়া ভার। এত বড় একটা গণতান্ত্রিক দলের ভাইটাল নেতা হয়েও তিনি প্রেসক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালনে শতভাগ উদাসীন ও অপারদর্শী। তিনি এখানে টিকে থাকতে চান কিছু কট্টর মৌলবাদী, তার আদর্শের চরম পরিপন্থী লোকের কাঁধে ভর করে। তার অবজ্ঞা আর অবহেলায় প্রেসক্লাবটি যুগের পর যুগ ধরে অস্তিত্বহীন হয়ে আছে। আর সাধারণ সম্পাদক সে তো বীর মুক্তিযোদ্ধা। এখনো বীরের মতই চলেন। কোমড়ে মাইক্রো আর্মস আর কাঁধে লম্বা ব্যারেলের সিকান্দার বন্দুক। মাঝে মধ্যে ইটের দেয়াল ঘেরা প্রেসক্লাবের মাঠে গিয়ে স্বদম্ভ বীরত্ব প্রদর্শণ করেন পিস্তলের গুলির তোপধ্বনি করে। জানিয়ে দেন প্রেসক্লাব জিন্দা আছে আগ্নেয়াস্ত্রের বারুদের মতই।
শরীয়তপুরে কর্মরত ছোট-বড়, নবীন-প্রবীন প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা, প্রেসক্লাবের ঠুঁটো জগন্নাথ মার্কা এই কমিটি সম্পর্কে আপনাদের কাছে কয়েকটা প্রশ্ন রাখছি। আশা করি সঠিক জবাব খুঁজবেনঃ
★ আপনারা বুকে হাত দিয়ে বলুনতো, অনল বাবু-সামাদ মাস্টারের নেতৃত্বাধী শরীয়তপুর প্রেসক্লাবে গত এক যুগে আপনারা কয়টা কার্যকরি সভায় ডাক পেয়েছেন ?
★ আপনারা বলুলতো, প্রেসক্লাবের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক পরিচয় বহনকারি এই দুই ভদ্রলোক শুধু নিজেদের পরিচয় দিয়ে কোন সভা সমিতিতে বাহবা নেয়া ব্যতিত সাংবাদিকদের কল্যাণে এক পয়সার কাজ করেছেন কি না ?
★ আপনারা বলুনতো, সরকারি, রাজনৈতিক বা সামাজিক কোন অনুষ্ঠানে একজন সংবাদ কর্মীকেও অনল বাবু পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন কিনা ?
★ আপনারা বলুনতো, টানা ১২ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষতায় থাকার পরও অনল বাবু প্রেসক্লাবের উন্নয়নের জন্য একটি পয়সা কোথাও থেকে অনুদান এনেছেন কি না ?
★ আপনারা বলুনতো, ক্ষমতাসীন দলের এত বড় নেতা হওয়া সত্বেও গত এক যুগে প্রেসক্লাবের অগ্রগতির জন্য অনল বাবু একটি বাক্য কোথাও ব্যয় করেছেন কি না ?
★ আপনারা বলুনতো, বিগত দিনে সাংবাদিকদের কোন দুর্দিন দুঃসময়ে অনল বাবু কারো পাশে দাঁড়িয়েছেন কি না ?
★ আপনারা বলুনতো, অনল বাবু ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশনের অফিসে গিয়ে যতদিন সময় দিয়েছেন এবং ওই সংগঠনকে যতটা আপন মনে করেন, তার ১% প্রেসক্লাবকে আপন ভাবেন কিনা ?
★ আপনারা বলুনতো, অনল বাবু জামাত, বিএনপি, হেফাজত, রাজাকার মার্কা সাংবাদিকদের সাথে যতটা সময় দেন বা তাদের কথায় যতটা ওঠবস করেন বা তাদের যতটা মমতায় জড়িয়ে রাখেন তার ১% প্রগতিশীল চিন্তার সাংবাদিকদের সাথে সম্পর্ক রাখেন কি না ?
★ আপনারা বলুনতো, কোন মন্ত্রী বা এমপি’র কাছে এক বারও প্রেসক্লাবের ভবন নির্মাণের জন্য একটি আবেদন তিনি করেছেন কি না ?
★ আপনরা ভেবে বলুনতো, অনল বাবু চাইলে কি একটি গতিশীল প্রেসক্লাব গঠন এবং প্রেসক্লাবের একটি ভবন নির্মাণ সম্ভব হতো না ?
★ এবার আপনারা আরেকটু ভেবে বলুতো, প্রেসক্লাবের উন্নতি অগ্রতি ও সুনামের জন্য গত বিশ বছরে যেই অনল বাবু এক পয়সার অবদানও রাখেননি, তিনি কি সেই প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে থাকার অধিকার রাখেন ?
সুপ্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ আবারো বলছি, আমি কোন নেতৃত্ব চাই না। আপনারা প্রকৃত সাংবাদিকদের দিয়ে একটি গতিশীল কমিটি গঠন করুন। আমি কথা দিচ্ছি, যদি বেঁচে থাকি এক বছরের মধ্য প্রেসক্লাবের জমিতে জেলা পরিষদের প্লান অনুযায়ী একটি বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ দৃশ্যমান হবে ইনশা আল্লাহ। আমি আপনাদের পাশে থাকবো। অসুস্থ্য শরীর নিয়েও ক্লাবের ভবন নির্মাণে প্রয়োজন হলে নিজের কাঁধে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে মাঠে নামব। আমার প্রতি কারো ব্যক্তিগত বৈরীতা থাকলেও, আমাকে ক্ষমা করে দিয়ে প্লিজ আপনারা এগিয়ে আসুন।
শরীয়তপুর প্রেসক্লাব নিয়ে আমার লেখা ৭টি পর্বে সত্য এবং সঠিক তথ্য তুলে ধরতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে যদি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকি বা কেউ যদি মানসিকভাবে আহত হয়ে থাকেন, তাহলে প্রেসক্লাবের স্বার্থে আমার ত্রুটিগুলো ক্ষমা করে দিবেন।
পূনশ্চঃ আসুন সবাই মিলে কলংকের দাগ মুছে দিয়ে একটি সর্বজন স্বীকৃত, গতিশীল, জবাবদিহিমূলক প্রেসক্লাব গঠন করি।

Total View: 119

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter