সোমবার,  ১লা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,  ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ৪:০৪

শরীয়তপুরে আধ্যাতিক চিকৎসার নামে প্রতারণা, কর্তৃপক্ষ নিরব

মার্চ ১৮, ২০১৯ , ২৩:৩৩

স্টাফ রিপোর্টার
শরীয়তপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের উত্তর বিলাসখান গ্রামে আব্দুল কাদের (৬০) এর বিরুদ্ধে ২৫ বছর যাবৎ আধ্যাতিক চিকিৎসার নামে প্রতারণা করার অভিযোগ উঠেছে। আর এই প্রতারণা করে তিনি শুণ্য থেকে কোটিপতি বনে গেছেন।

শুধু তাই নয়, তিনি সরকারী অনুমোদন ছাড়াই তার বাড়িতে একটি ফার্মেসী খুলে বসেছেন। আর এ ফার্মেসীর মাধ্যেমে তিনি ৭একর জমি এবং তিনতলা বিলাস বহুল বাড়ির মালিক হয়েছেন। তাকে কেন আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না, সে ব্যাপারে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য জোর দাবী জানিয়েছে স্থানীয়রা।

তার দ্বারা পরিচালিত ফার্মেসীতে হোমিও, ইউনানীসহ বিভিন্ন ধরণের যৌন রোগের ঔষধ রয়েছে। সেই সাথে রয়েছে চিকিৎসার বিভিন্ন ধরণের সরঞ্জাম। তিনি চিকিৎসার নাম করে তাবীয কবজের মাধ্যমে জ্বীন ভুতের আছর, স্বামী-স্ত্রীর মনমালিন্য, যুবক-যুবতীদের প্রেম ঘটিত বিষয়ে চিকিৎসা করছেন। শুধু তাই নয়, তিনি সেখানে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বিধি বর্হিভূত ভাবে মেয়েদের এম.আর পর্যন্ত করাচ্ছেন। প্রবাসীর স্ত্রীদেরকে বিভিন্ন প্রতারণার ফাঁদে ফেলে চিকিৎসার নাম করে ভয়-ভীতি দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল কাদের একজন মাদ্রাসা পড়–য়া স্বশিক্ষিত ব্যক্তি। ইতিপূর্বে তিনি এলাকার একটি মসজিদের ইমাম ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। তিনি ইমাম এবং শিক্ষাকতাকে পুঁজি করে বিভিন্ন সময়ে গ্রামের জনগণকে পেটের ব্যাথা নিরাময়ের জন্য পানিপড়া এবং মাথা ব্যাথা নিরাময়ের জন্য ঝাড়ফুঁক দিতেন। বর্তমানে সে মানব দেহের সকল রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এখন তিনি এলাকায় কাদের ফকির নামে পরিচিত।

আব্দুল কাদেরের কাছে চিকিৎসা নিতে আসা মুকুল বেগম নামে এক রোগী জানান, আব্দুল কাদের আমার প্রেসার মেপে বলেন, আমার হাই-প্রেসার এবং প্রেসার নিয়ন্ত্রনের জন্য আমাকে ঔষধ দেন। সেই ঔষধ সেবন করে আমি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরি, পরে আমি অন্যত্র চিকিৎসার জন্য গেলে ডাক্তার আমাকে বলে আমার প্রেসারে কোন সমস্যা নেই। আব্দুল কাদেরের ঔষধ খেয়েই আমি পুণরায় অসুস্থ হয়েছি।

আব্দুল কাদেরের কাছে চিকিৎসা নিতে আসা অপর এক রোগী শাহানাজ বেগম বলেন, আমার বিয়ে হয়েছে ১৫ বছর। আমার সংসারে কোন বাচ্চা নেই। আমি কাদের ফকিরের কাছে একটি সন্তানের জন্য চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলাম। তিনি আমাকে চিকিৎসা না দিয়ে তার সাথে থাকতে বলেছেন। আমি তাৎক্ষণিক ভাবে ওখান থেকে চলে এসেছি। কাদের ফকির আসলে কোন চিকিৎসক নয়। তিনি একজন ভন্ড লোক।

আব্দুল কাদেরের কাছে চিকিৎসা নিতে আসা আরেক রোগী মমতাজ বেগম বলেন, আমার মেয়ের বিয়ের বয়স পার হয়ে যাচ্ছে। তাই তার দ্রুত বিয়ের জন্য কাদের ফকিরের কাছে গিয়েছিলাম। ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে আমার মেয়ের কালের দৃষ্টি পড়েছে বলে চিকিৎসা করান। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। দুই বছর পার হলো অদ্যবধি আমার মেয়ের বিয়ে হয়নি।

আব্দুল কাদেরের চাচাতো ভাতিজা পালং তুলাসার মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ শাহ আলম খান জানান, আমার চাচা চিকিৎসার নামে ভন্ডাামি ও প্রতরণা করছেন। আমার চাচার এই ভন্ডামি ও প্রতারণার কারণে বিভিন্ন সময়ে মানুষের কাছে হেয়প্রতিপন্ন হতে হয়। আমি সমাজে মুখ দেখাতে পারি না। প্রশাসন তার ব্যাপারে কোন ব্যবস্থাও নিচ্ছে না।

আব্দুল কাদেরের আধ্যাতিক চিকিৎসার বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল কাদের বলেন, আমার কাছে চিকিৎসা নিতে উচ্চ পর্যায়ের লোক আসে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে কোর্টের বিচারকরা আমার রোগী। আমি তাদের চিকিৎসা দিয়ে থাকি। তারা কেউ আমাকে প্রশ্ন করে না। আর আপনি আমাকে প্রশ্ন করছেন ?

এ ব্যাপারে শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ খলিলুর রহমানের সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে ঝাড়ফুঁক দিয়ে চিকিৎসা করার কোন বৈধতা নেই। তারপরেও যদি কেউ করে থাকে তাহলে সে অন্যায় করছে। আমরা ব্যাপারটি আন্তরিকতার সাথে দেখবো।

Total View: 580

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter