শুক্রবার,  ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ২:১৮

শরীয়তপুরে এক বছরে পদ্মা খেলো ১৭ বিদ্যালয়

জানুয়ারি ২৮, ২০১৮ , ১৫:৫৭

স্টাফ রিপোর্টার
শরীয়তপুর জেলার ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পদ্মা নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে। তার মধ্যে ১৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দানের জন্য নতুন কোন ভবন নির্মান করা হয়নি। তারা এখন খোলা আকাশের নিচে দাড়িয়ে শিক্ষা গ্রহণ করছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে তাদের লেখাপড়া। খোলা আকাশের নীচে শিক্ষা গ্রহণ করায় অনেক শিশু অসুস্থ্য হয়ে পরছে। ফলে প্রতি বছরই ঝরে পরছে শত শত শিক্ষার্থী। চরম ভাবে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষার প্রসার। সরকারের কাছে জরুরী ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের দাবী জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
শরীয়তপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর জেলার জাজিরা, নড়িয়া, ভেদরগঞ্জ এবং গোসাইরহাট উপজেলায় ২০১৬ সালের জুলাই মাস থেকে ২০১৭ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত পদ্মার ভাঙ্গনে বিলীন হয়েছে ১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ২টি বেসরকারী উচ্চ বিদ্যালয়। এর মধ্যে শুধু জাজিরা উপজেলাতেই রয়েছে ১২টি প্রাথমিক এবং ২টি বেসরকারী উচ্চ বিদ্যালয়।
জাজিরা উপজেলায় পদ্মা নদীগর্ভে বিলীন হওয়া বিদ্যালয় গুলো হচ্ছে, কুন্ডেরচর কলমিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুন্ডেরচর সুরত খার কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুন্ডের হাশেমালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড়কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুন্ডেরচর ইয়াকুব মাদবরের কান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুন্ডেরচর কালু বেপারী কান্দি প্রাথমিক, জগৎ জননী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাথালিয়া কান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুন্ডেরচর ইসমাইল মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় এবং কুন্ডেরচর কালু বেপারী উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ।
নড়িয়া উপজেলার চর নড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শেহের আলী মাদবর কান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঈশ্বরকাঠি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরভাগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর ছৈয়াল পাড়া নান্নু মুন্সির কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এ সকল বিদ্যালয়ে অন্তত ৫ হাজার শিক্ষার্থীর ভাগ্যে এখনো জোটেনি কোন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নির্মিত হয়নি কোন গৃহ বা ইমারত। অথচ ভাঙ্গনের পূর্বে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই ছিল ইট পাথরে নির্মিত দ্বিতল-বহুতল ভবন। নিজেদের প্রানপ্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হারিয়ে আজ বাধ্য হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে শিক্ষা গ্রহণ করতে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, জাজিরা উপজেলার পাথালিয়া কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি গ্রামীন কাঁচা সড়কের উপর খোলা আকাশের নিচে তাদের পাঠ গ্রহণ করছে। কালু বেপারী কান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাঁচু খাঁর কান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত ভবনে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আর ইয়াকুব মাদবর কান্দি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ১২ হাত লম্বা ৭ হাত চওড়া একটি ছোট মক্তোব খানার মধ্যে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের পড়াশোনা।
শিক্ষক মেহেদী হাসান মিন্টু জানান, পাথালিয়া কান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হওয়ার আগে ৩শ জনেরও বেশী শিক্ষার্থী ছিল। কিন্তু বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার পর ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পরেছে। এখন মাত্র ৬০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এই বিদ্যালয়টির একটি ঐতিহ্য ছিল। প্রতি বছরই পঞ্চম শ্রেণী থেকে ৪-৫ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেত। অনেক প্রাণবন্ত ছিল বিদ্যালয়টি। খেলার বড় মাঠ ছিল। সব কিছুই পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
ইয়াকুব মাদবর কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা জোনাকী আক্তার বলেন, তাদের বিদ্যালয়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী ছিল। নদী ভাঙ্গনের পর প্রতিনিয়তই ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি হ্রাস পাচ্ছে। এখন তাদের বিদ্যালয়ে ৬৫ জন রয়েছে। তারা জানান, নদী ভাঙ্গন রোধ করা না গেলে এ অঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষা মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হবে।
এদিকে পদ্মা নদী ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে রয়েছে জাজিরার বিলাশপুর ইউনিয়নের কাজিয়ার চরে অবস্থিত ৯ নং কাজিয়ার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একই প্রাঙ্গনে অবস্থিত কাজিয়ার চর ছমির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়। এ ছাড়া এলাকায় প্রতিদিনই নীরব ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে জনবসতি।
উল্লেখিত স্কুল দুটি থেকে মাত্র ৫০ গজ দুরে রয়েছে নদী। শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসী মনে করছেন আগামী জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারী মাস নাগাদ এই দুটি বিদ্যালয়সহ কাজিয়ারচর বাজারটিও নদী ভাঙ্গনের শিকার হতে পারে। ছমির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক জি.এম সালাহ উদ্দিন ও কাজিয়ার চর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মঞ্জিলা বেগম বলেন, তাদের বিদ্যালয় দুটির ৬টি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে পাকা ভবন তিনটি। যে ভাবে নদী ভাঙ্গছে এবং ক্রমশই স্কুলের দিকে এগিয়ে আসছে, তাতে মনে হচ্ছে আগামী নতুন বছরে শিক্ষাদান এই স্কুলে সম্ভব হবেনা। তারা সরকারের কাছে নদী ভাঙ্গন রোধে একটি প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থী আলো আক্তার, শাহীন আলম, ইমন, রাফসান, সুহাদা আক্তার এবং সোহাগ জানায়, তাদের খোলা আকাশের নিচে পড়া লেখা করতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। আর খোলা আকাশের নিচে পড়া লেখা করতে গিয়ে তারা প্রায়ই অসুস্থ্য হয়ে পরছে।
শরীয়তপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, গত দুই বছরে জেলার তিনটি উপজেলায় প্রায় ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে নতুন ভবন না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প ব্যবস্থায় কোন রকমে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে নেয়া হচ্ছে।
আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলীন হওয়ায় আশংকা জনক হারে ঝরে পরছে শিক্ষার্থী। এমনকি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে মানসম্মত শিক্ষা দান। ফলে সরকারি নির্দেশনা মতে প্রাথমিক শিক্ষাকে কাংখিক লক্ষ্যে পৌছানো যাচ্ছে না। নতুন ভবন নির্মানের ব্যবস্থা নিতে জোর চেষ্টা চলছে।

Total View: 1157

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter